শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
তিন লেখক পেলেন নকীব সাহিত্য পদক
২১ নভেম্বর, ২০২১ ১৮:৪৮:০২
প্রিন্টঅ-অ+

নিজস্ব প্রতিবেদক :: শিশু সাহিত্যে অবদান রাখায় জাতীয় শিশু-কিশোর পত্রিকা মাসিক নকীব-এর পদক পেলেন স্বপ্নচারী কথাসাহিত্যিক মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন, মরহুম মহিউদ্দিন আকবর রহ. মরণোত্তর ও শিশুসাহিত্যিক এনায়েত রসুল।


শুক্রবার (১৯ নভেম্বর ২০২১) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচা কচিকাঁচার আসর মিলনায়তনে এ পদক প্রদান করা হয়।


পদক প্রদান অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী প্রধান অতিথির বক্তৃতায় বলেন, মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আরবি চর্চা নেই। কমে গেছে। বাড়াতে হবে।


মাদরাসায় সাহিত্যচর্চার দ্বার উন্মুক্ত নয় সমালোচনা করে তিনি বলেন, দাওরায়ে হাদিস শেষ হয়ে যায় অথচ বাংলায় ঠিক মতো লিখতে পারে না। আমি মনে করি, শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার কাজটি এখনও ঠিক মতো হচ্ছে না। সবাইকে সযতœ হওয়া উচিত।


বিশেষ অতিথির আলোচনায় মাসিক আদর্শ নারী সম্পাদক মুফতি আবুল হাসান শামসাবাদী বলেন, সাহিত্যের ধর্ম নেই। সাহিত্যের বিষয় হতে পারে ইসলাম বা অন্য কিছু। হাসসান বিন সাবেত নবীজীর পক্ষে সাহিত্য রচনা করেছিলেন। আমাদের তরুণদেরও সে ধারায় এগিয়ে যেতে হবে। সাহিত্য দিয়েই অপসংস্কৃতির মোকাবেলা আমাদের করতে হবে।


দৈনিক নয়াদিগন্তের সিনিয়র সহ সম্পাদক মাওলানা লিয়াকত আলী বলেন, মাদরাসা থেকে উঠে আসা লেখক তারুণ্যকে তুলনা করা হলে তা খুবই নগন্য। সংবাদপত্রের মেইনস্ট্রিমে কাজ করার মানুষ এখনো তৈরি হয়নি। হ্যাঁ, ফিচারে কাজ করা আর সাংবাদিকতা এক জিনিস নয়।


নকীবের সাহিত্যে পদক দেয়ার বিষয়টিকে অভিনন্দন জানান বর্ষীয়ান এই লেখক।


পদক বিতরণের পর পুরস্কারপ্রাপ্তদের অনভূতির আলোচনায় কবি মহিউদ্দিন আকবর রহ.- তনয় তওফিক আকবর বলেন, আমার বাবা সবসময় নিজেকে আড়ালে রেখে কাজ করতেন। অন্যের জন্য খাটতে পারাকে গৌরববোধ করতেন।


লেখক গবেষক ও ইসলামী চিন্তাবিদ শরীফ মুহাম্মদ বলেন, নকীব পত্রিকার সবাইকে মোবারকবাদ জানাই। মহিউদ্দিন আকবর ভাইকে স্মরণ এটা ভালো দিক। সময়ের শক্তিমান লেখকদের পদক দেয়ার উদ্যোগ অবশ্যই প্রশংসনীয়। তবে এ দায়িত্ব ছিল বড়দের। শিশু পত্রিকা কাজটি করেছে। অভিভাবকত্বের দায়িত্ব নেয়ায় নকীবকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। পত্রিকার বাইরে বাড়তি একটা দায়িত্ব সবাই নেয় না। পত্রিকার কাজও না এটি। সাংস্কৃতিক সংগ্রাম, বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাহিত্য সংগ্রামকে চতুমুর্খীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটা প্রত্যয়।


এ ঘরানার অন্যান্য পত্রিকার সম্পাদকদের প্রতিও এমন দায়িত্ব গ্রহণের আহ্বান জানান লেখক শরীফ মুহাম্মদ।


শরীফ মুহাম্মদ বলেন, মহিউদ্দিন আকবর ভাইয়ের সঙ্গে আরও বেশী দেখা হওয়ার প্রয়োজন ছিল বলে আমি করি। যোগ্য মানুষদের সঙ্গে এ আক্ষেপ যেন আমাদের কমে আসে।


মহিউদ্দিন আকবর রহ. স্মরণে পদক প্রদান ও জাতীয় সাহিত্য প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় শিশু-কিশোর পত্রিকা মাসিক নকীব। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেছেন মাসিক নকীব-এর সম্পাদক মুনতাছির আহমদ ও নকীবের নির্বাহী সম্পাদক জিয়াউল আশরাফ।


জাতীয় পদক কাউকে দিলেই যে তিনি যোগ্য তা নয় বলে মন্তব্য করেছেন জামিআ আজমিয়া দারুল উলূম-এর শিক্ষাসচিব-সিনিয়র মুহাদ্দিস ও নকীবের নিয়মিত লেখক মাওলানা মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় পুরস্কার পেয়েছেন অথচ নিজের এলাকায় লেখক হিসেবেও চিনে না, এমন নজীর আছে।


পার্শ্ববর্তী ভারতের উদাহরণ টেনে মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন বলেন, মাওলানা ওয়াহিদ উদ্দীন খান ভারতের সর্বোচ্চ পুরস্কার পেয়েছেন। দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষক আরবিতে কাজ করে ভারত পুরস্কার পেয়েছেন। এটা গৌরবের। কিন্তু বাংলাদেশে এমন নজীর নেই। সঠিক মূল্যায়ন হয় না।


 


নিরপেক্ষ মূল্যায়ন হলেই দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ও সাহিত্য সঠিক ধারায় এগিয়ে যাবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, যোগ্য, দক্ষ ও কাজের মানুষ, সাহিত্য বিনির্মাণে অবদান রেখেছেন এমন অথবা দেশপ্রেম উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করা মানুষকে মূল্যায়ন করা উচিত।


কথাসাহিত্যিক এনায়েত রসুল বলেন, আমি মূলত ঘাউড়া প্রকৃতির। নকীবের সাহিত্যপদক পেয়ে আমি উচ্ছ্বসিত, খুশি। আমি জানতামই না, এখানে আমাকে পদক দেয়া হবে। সবসময় এ জাতিয় অনুষ্ঠান আমি এড়িয়ে গিয়েছি।


যেকোনো প্রয়োজনে নকীবের পাশে থাকারও ঘোষণা দেন এনায়েত রসুল।


তিনি বলেন, সৃজনশীলতার প্রথম তরঙ্গ ছোটদের পত্রিকা। একে ছোট মনে করার কোনো সুযোগ নেই। নকীবও সে ধারারই একটি পত্রিকা।


সম্পাদকমন্ডলী সাবেক সভাপতি  শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, সাহিত্যের মূল ধারায় আমরা এখনও কাজ করতে পারছি বলে মনে হয় না। সেই মহিউদ্দিন ভাইয়ের মতো সহযোগী বাড়াতে হবে।


তাহলেই আমরা সাহিত্য অঙ্গনে নেতৃত্ব দিতে পারবো ইনশাআল্লাহ।


উপস্থাপক ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, আরও নজরুল আমাদের দরকার ছিল। মহিউদ্দিন আকবরকে নজরুল গবেষণার জন্যই আমি ভালোবেসে ফেলেছিলাম। সাহিত্য নির্মাণে তরুণদের কাজ আরও বেগবান করা উচিত।


সম্পাদকমন্ডলী সাবেক সভাপতিবৃন্দের মধ্যে ছিলেন, বরকত উল্লাহ লতিফ, এস. এম. মাইনুদ্দীন জাহাঙ্গীর, মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, নুরুল ইসলাম আল-আমীন, জি. এম. রুহুল আমীন, শেখ ফজলুল করীম মারুফ, এম হাছিবুল ইসলাম।


মাসিক নকীব-এর সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি নুরুল করিম আকরাম বলেন, বিভ্রান্ত মানুষদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্যই শিশু-কিশোর পত্রিকা নকীব। নকীব আপনাদের সহযোগিতা ও ভালোবাসায় এগিয়ে যাবে।


নুরুল করিম আকরাম কবি মহিউদ্দিন আকবর স্মরণে বলেন, মহিউদ্দিন আকবর আকাশের তারকাতুল্য। আমরা তাকে ভুলবা না।


সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নতুন যুদ্ধে নকীবের সঙ্গে সবাইকে থাকারও আহ্বান জানান নুরুল করিম আকরাম।


ঢাকা টাইমস-এর বার্তা সম্পাদক জহির উদ্দিন বাবর বলেন, মহিউদ্দিন আকবর ভাই ছিলেন এ অঙ্গনের প্রিয় মানুষ। তিনি আমাদের প্রিয় মানুষ ছিলেন। নকীবের এ আয়োজন সার্থক হোক।


শিশুসাহিত্যিক আহমেদ রিয়াজ পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দ জানান। সাহিত্যের সঙ্গে আমাদের ধর্ম-সংস্কৃতির যদি মিল না থাকে তাহলে পাঠক এ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে। সুতরাং আমাদের এ বিষয়ে যতœবা হতে হবে।


বর্ষীয়ান লেখকদের সঙ্গে একজন তরুণকে পদকে রাখার আহ্বান জানান শিশুসাহিত্যিক আহমেদ রিয়াজ।


সম্পাদকমন্ডলী সাবেক সভাপতি কে এম আতিকুর রহমান বলেন, নকীবের সঙ্গে সম্পর্ক নিবিড়। আজ ভালো অবস্থায় নকীবকে দেখে আমার ভালো লাগছে।


এই অঙ্গনে তার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি তবে যেখানে তার মূল্যায়নের সম্ভাবনা ছিল, তিনি তা ছেড়ে দিয়ে এই অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে তার জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন।


দৈনিক আমার বার্তার সহকারী সম্পাদক ও জামিয়া আফতাবনগরের মুদাররিস মাসউদুল কাদির বলেন, একজন মহিউদ্দিন আকবর ভাই আমাদের মাথার উপর এমন চাদর মেলে ধরেছিলেন তা নিয়ে আলোচনার জন্য অনেক সময় প্রয়োজন। মহিউদ্দিন আকবর ভাই ছিলেন অন্ধের যষ্টির মতো। তিনি তারুণ্যকে পথ দেখিয়েছেন।


নকীব পদকপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাদের অবদান অনেক। তারা আরও বেশি অবদান রাখুন-এমন প্রত্যাশা করি। নকীব যেনো কিয়ামত পর্যন্ত বেঁচে থেকে আলো ছড়ায়।


আওয়ার ইসলাম সম্পাদক হুমায়ুন আইয়ুব বলেন, নকীব একটি দায়িত্বশীল কাজ করেছে। মহিউদ্দিন আকবর ভাই ছিলেন আমাদের প্রিয় মানুষ। তিনি আমাদের গড়ে তোলায় কাজ করেছেন। কর্মঘণ্টার হিসাবে মহিউদ্দিন 


আকবরের ঋণ কিছুতেই পূরণ সম্ভব নয়। নকীবের সাহিত্যপদকের এ পথযাত্রা আমাদের তারুণ্যকে অনেক বেশি উৎসাহিত করবে।


মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন সম্মানিত হওয়ায় তরুণরা আরও বেশি উৎসাহিত হবে বলে মন্তব্য করেন হুমায়ুন আইয়ুব।


আমন্ত্রিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শিশু সাহিত্যিক ও গল্পকার এনায়েত রসুল, শিশুসাহিত্যিক আহমেদ রিয়াজ, মাসিক নকীব -র সাবেক নির্বাহী সম্পাদক রায়হান মোহাম্মদ ইব্রাহিম, মাসিক নকীব-এর সাবেক সহযোগী সম্পাদক রোকন রাইয়ান, তৌফিক আকবর, কালের কণ্ঠের বিভাগীয় সম্পাদক আতাউর রহমান খসরু, বাংলাদেশ ইসলামী লেখক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আমিন ইকবাল।

আরো পড়ুন