শিরোনাম :

  • রাজধানীর উত্তরখানে আগুনে একই পরিবারের ৮ জন দগ্ধ ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলিবাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনরায়কে ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ
পাঁচ মাসে সড়ক দুর্ঘটনায় ১৮৯০ জন নিহত
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০৩ জুন, ২০১৯ ১৫:১৮:০৯
প্রিন্টঅ-অ+


সারাদেশে গত পাঁচ মাসে ১ হাজার ৭৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৮৯০ জন নিহত ও ৩ হাজার ৫৪৩ জন আহত হয়েছেন।নিহতের মধ্যে ২৪২ নারী ও ৩১২ জন শিশু রয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারির প্রথম থেকে ৩১ মে পর্যন্ত (পাঁচ মাস) জাতীয় মহাসড়ক, আন্তঃজেলা সড়ক ও আঞ্চলিক সড়কসহ সারাদেশে এসব প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। বেসরকারি সংগঠন নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির (এনসিপিএসআরআর) নিয়মিত মাসিক জরিপ ও পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

রোববার (২ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ২২টি বাংলা ও ইংরেজি জাতীয় দৈনিক, ১০টি আঞ্চলিক সংবাদপত্র এবং ৮টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সংবাদ সংস্থার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান তৈরি করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জানুয়ারিতে ৩৮৩টি দুর্ঘটনায় ৫৩ নারী ও ৭১ জন শিশুসহ মোট ৪১১ জনের প্রাণহানি এবং ৭২৫ জন আহত হয়েছেন। ফেব্রুয়ারিতে ৪০১টি দুর্ঘটনায় নিহত ও আহত হয়েছে যথাক্রমে ৪১৫ জন ও ৮৮৪ জন। নিহতের তালিকায় ৫৮ নারী ও ৬২ শিশু রয়েছে। মার্চে ৩৮৪টি দুর্ঘটনায় ৪৬ নারী ও ৮২ শিশুসহ ৩৮৬ জন নিহত ও ৮২০ জন আহত হয়েছে।

এপ্রিলে দুর্ঘটনা ঘটেছে ৩২৭টি। এতে ৩৪০ জন নিহত ও ৬১০ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ৩৮ নারী ও ৫৩ শিশু রয়েছে। মে মাসে ২৯৭টি দুর্ঘটনায় ৪৭ নারী ও ৪৪ শিশুসহ ৩৩৮ জন নিহত হয়েছে। এ সময়ে আহত হয়েছে ৫০৪ জন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী মার্চের তুলনায় এপ্রিলে সড়ক দুর্ঘটনা ও হতাহতের সংখ্যা কমেছে। তবে এক মাসের তথ্যে দুর্ঘটনা ও পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা যাবে না বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া জাতীয় কমিটির পর্যবেক্ষণে সড়ক দুর্ঘটনার জন্য যে ১০টি প্রধান কারণ চিহ্নিত করা হয়েছিল সেগুলো অপরিবর্তিত রয়েছে।

কারণগুলো হলো

১. চালকদের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব ও বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো

২. দৈনিক চুক্তিতে চালক, কন্ডাক্টর বা হেল্পারের কাছে গাড়ি ভাড়া দেওয়া

৩. অদক্ষ ও লাইসেন্সবিহীন চালক নিয়োগ

৪. সড়কে চলাচলে পথচারীদের অসতর্কতা

৫. বিধি লঙ্ঘন করে ওভারলোডিং ও ওভারটেকিং

৬. দীর্ঘক্ষণ বিরামহীনভাবে গাড়ি চালানো

৭. ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি চলাচল বন্ধে আইনের যথাযথ প্রয়োগের অভাব

৮. জনবহুল এলাকাসহ দূরপাল্লার সড়কে ট্রাফিক আইন যথাযথভাবে অনুসরণ না করা

৯. সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেলসহ তিন চাকার যানবাহন চলাচল বৃদ্ধি এবং

১০. স্থানীয়ভাবে তৈরি ইঞ্জিনচালিত ক্ষুদ্রযানে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন।

নৌ, সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, শুধু কঠোর আইন প্রণয়ন করে সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করা সম্ভব না। এ জন্য সুষ্ঠু পরিকল্পনার মাধ্যমে সড়কখাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আইনের যথাযথ প্রয়োগ যেমন দরকার তেমনি আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হতে হবে। সেক্ষেত্রে সড়ক পরিবহন খাতে বিরাজমান নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে সোচ্চার করে তোলা অপরিহার্য। এছাড়া যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সড়কের ওপর অধিক নির্ভরশীলতা কমাতে নৌ ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্প্রসারিত ও আধুনিকায়ন করতে হবে বলে।



আমার বার্তা/০৩ জুন ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন