শিরোনাম :

  • কারওয়ান বাজারে পেট্রোবাংলা ভবনে আগুন আগামী সপ্তাহে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফার্মগেট-শুক্রাবাদসহ আশপাশের এলাকায় গ্যাস থাকবে না আজ পেট্রোবাংলা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে
৩০ লাখ মামলার অধিকাংশই ছোটখাটো অপরাধের : আইনমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৬ জুন, ২০১৯ ১৭:০৬:৩৩
প্রিন্টঅ-অ+


আদালতগুলোতে তিন মিলিয়নের (৩০ লাখ) অধিক মামলা জট রয়েছে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, এসব মামলার বেশিরভাগই ছোটখাটো অপরাধের জন্য দায়েরকৃত মামলা।

আজ বুধবার দুপুরে ঢাকায় বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে লিগ্যাল এইড অফিসারদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ‘রেস্টোরেটিভ জাস্টিস (আরজে) অ্যাপ্রোচ ইন মেডিয়েশন’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।

আইন ও বিচার বিভাগের সচিব আবু সালেহ শেখ মো. জহিরুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক বিচারপতি খোন্দকার মুসা খালেদ, আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিব উম্মে কুলসুম, জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার পরিচালক মো. আমিনুল ইসলাম, বাংলাদেশে জিআইজেড প্রকল্পের উপ-জাতীয় প্রকল্প পরিচালক প্রমিতা সেন গুপ্ত বক্তৃতা করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার একজন নাগরিকের মৌলিক অধিকার এবং আইনের শাসনের মূলনীতি। সরকার বিশ্বাস করে সকল নাগরিকের ন্যায়বিচারে প্রবেশের সমান অধিকার এবং নিরপেক্ষ বিচার পাওয়ার অধিকার থাকা প্রয়োজন।’

‘রেস্টোরেটিভ জাস্টিস (আরজে)’ আপোষ মীমাংসার একটি অনন্য পন্থা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে অংশগ্রহণমূলকভাবে বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়ে থাকে। এটা সালিসের মতোই একটি প্রক্রিয়া হলেও কিছুটা ভিন্ন। এই প্রক্রিয়ায় স্থানীয়ভাবে দ্বন্দ্ব-বিবাদ মীমাংসা করা হয়, ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ বা ক্ষতি প্রশমনকে গুরুত্ব দেয়া হয়।’

আনিসুল হক বলেন, ‘জাস্টিস অডিটের তথ্যমতে ৬৮ ভাগ মানুষ আনুষ্ঠানিক বিচার ব্যবস্থায় ন্যায়বিচার পাবেন বলে বিশ্বাস করেন। কিন্তু বিচার ব্যবস্থার প্রতি আস্থাশীল হওয়া সত্ত্বেও ৮৭ ভাগ মানুষ স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ নিষ্পত্তিতে আগ্রহী। জাস্টিস অডিটে আমরা দেখেছি যে, শতকরা ৩০ ভাগ নাগরিকের প্রাথমিক দ্বন্দ্বের কারণ প্রতিবেশির সঙ্গে ছোট-খাটো বিরোধ বা মারামারি যা স্থানীয়ভাবেই নিষ্পত্তিযোগ্য। আমরা এ-ও জানি যে, বাংলাদেশের আদালতগুলোতে তিন মিলিয়নের অধিক মামলা জট রয়েছে যার বেশিরভাগই ছোটখাটো অপরাধের জন্য দায়েরকৃত মামলা।’

আইনগত সহায়তা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন সহায়তার বিষয়টি নিয়েও নতুন করে ভাববার আছে এবং এ বিষয়ে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গী পরিবর্তনের সময় এসেছে। এখন পর্যন্ত আইনিসেবা বলতে আমরা আদালতে মামলা পরিচালনার জন্য আর্থিক সহায়তাকেই বুঝি। আইনি বিষয়ে তথ্য প্রদান, পরামর্শ ও মীমাংসাও কার্যকর আইনি সহায়তা যা একটি বিরোধের উৎপত্তিকালে প্রদান করা জরুরি।’

বিচার ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল এবং জনমুখী করতে সঠিক সমস্যার সঠিক সমাধান; সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মামলাজট হ্রাস; এডিআরের (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি) মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ মীমাংসা; থানা, কারাগার ও আদালতের দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আটকে পড়া বিচারপ্রার্থীদের সহায়তা পরিশেষে আইনিসেবা গ্রহণকারী বিচারপ্রার্থীদের সন্তুষ্টি বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপসহ প্রয়োজনীয় নীতি প্রণয়ন করা আবশ্যক বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আইনি কাঠামোয় দরিদ্র ও অসহায় মানুষের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এজন্য জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থার অধীনে প্রত্যেক জেলা জজ আদালতে ‘জেলা লিগ্যাল এইড অফিস’ স্থাপনসহ সিনিয়র সহকারী জজ পদমর্যাদার কর্মকর্তাগণকে পূর্ণকালীন লিগ্যাল এইড অফিসার হিসেবে পদায়ন করেছে সরকার। বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ইতোমধ্যে আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের অন্তর্ভুক্ত। আর তাই লিগ্যাল এইড অফিসাররা বর্তমানে আপোষ মীমাংসার মাধ্যমেও বিরোধ নিষ্পত্তি করছেন। ভবিষ্যতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসকে এডিআর কর্নার বা বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তির কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে তোলা হবে।



আমার বার্তা/২৬ জুন ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন