শিরোনাম :

  • তথ্যমন্ত্রীর বিমান ভারতে মৌমাছির কবলে বৃষ্টি কেড়ে নিলো প্রোটিয়াদের বিরুদ্ধে ভারতের প্রথম টি২০ রাবির ভর্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ আজ শিশু সায়মা হত্যা : তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ৭ অক্টোবর ইমরানের ওপর হামলা : তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ২৩ অক্টোবর
শৃঙ্খলায় ফিরছে না গণপরিবহন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১০:০০:৪৭
প্রিন্টঅ-অ+


কোনোভাবেই শৃঙ্খলায় আনা যাচ্ছে না রাজধানীর গণপরিবহন। বাস স্টপেজ নির্দিষ্ট করে দেয়া ছাড়াও সড়কে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে নির্দিষ্ট লাইন। এরপরও ঠেকানো যাচ্ছে না বেপরোয়া ড্রাইভিং। আইন অমান্যকারী বাস কোম্পানি, মালিক ও বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া দাবি বিশেষজ্ঞদের। আর ট্রাফিক পুলিশ বলছেন, সচেতনতার বিকল্প নেই।

গোটা শহরটাই যেন বাস স্টপেজ। যেখানে-সেখানে গাড়ি ইচ্ছামত থামছে, যাত্রীরাও উঠছেন খেয়ালখুশিমতো। আবার যাত্রীছাউনি থাকলেও তা উপেক্ষা করেই দাঁড়িয়ে আছেন যাত্রীরা।

এখানেও অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মেতে উঠছে গণপরিবহন। যার সব শেষ বলি হলেন বিআইডবিøউটিএ’র কর্মকর্তা কৃষ্ণা রায়। এ বিষয়ে হেলপাররা বলেন, যাত্রীরা রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে থাকেন। এখান থেকেই তাদের গাড়িতে তুলতে হয়।

স¤প্রতি শৃঙ্খলা ফেরাতে বে পদ্ধতি চালু করেছে ট্রাফিক বিভাগ। তবে দেড় শতাধিক সিটি বাস স্টপেজ হলেও বে করা হয়েছে অল্প কয়েকটি ট্রানজেকশনে।

ট্রাফিক পুলিশের কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন বলেন, যাতে যাত্রীরা সুবিধা পান সেজন্য প্লাস্টিক কন দিয়ে লেন করে দেয়া হয়েছে। সমন্বিত বাস্তবায়নে সড়ক দুর্ঘটনা ও যানজট অনেকটাই কমে আসবে বলে মনে করে ট্রাফিক বিভাগ।

ডিএমপি’র ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মফিজ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, বাসগুলো ফুটপাত ঘেঁসে দাঁড়াবে। সিএনজি ও অটোরিকশা এরমধ্যে থাকবে না।

তবে সুফল পেতে বাস মালিকদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার তাগিদ দিলেন বিশেষজ্ঞরা। বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক কাজী মো. সাইফুন নেওয়াজ বলেন, আড়িফেরি গান দিয়ে দূর থেকে বাসের সকল তথ্য নিয়েই মামলা দিয়ে দেয়া সম্ভব। যে বাস নিয়ম মানবে না সেটা মালিককে জানাতে হবে এবং এরপর মালিক কী পদক্ষেপ নিলেন সেটা ট্রাফিক পুলিশকে জানাতে হবে।

রাজধানীর প্রতিটি সিটি স্টপেজে এমন বে তৈরি করে বাস দাঁড়ানোর ব্যবস্থা করা গেলে সেখান থেকেই বাসে চড়তে বাধ্য হবেন যাত্রীরা। প্রয়োজনে সিসি ক্যামেরা অথবা পুলিশ চেকপোস্ট বসাতে হবে। তাহলে অন্তত বিশৃঙ্খলভাবে যাত্রী ওঠানামার কারণে সড়কে আর কোনো তাজাপ্রাণ ঝরবে না বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর সরকারি সংস্থাগুলো বলেছিল, তাদের চোখ খুলে গেছে। আড়াই মাস পর সড়কের বর্তমান পরিস্থিতি দেখে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খুলে যাওয়া চোখ এখন অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। সড়কে নৈরাজ্য বন্ধে ঢাকা মহানগর পুলিশ ও সরকারের অন্যান্য সংস্থা যেসব উদ্যোগের কথা বলেছিল, সেগুলোর পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে রাজধানীর সড়কে শৃঙ্খলাও ফেরেনি।

বুয়েটের সড়ক দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এআরআই) হিসাবে, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে শুধু রাজধানীতেই দুর্ঘটনা ঘটেছে ২২৪টি। এসব দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে ২১৫ জন।

গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে দুই কলেজশিক্ষার্থী নিহত হয়। সেদিন থেকে নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমে আসে বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা।

রাজধানীর সড়কে চলা অনিয়ম তাড়াতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার গত ৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে নানা পরিকল্পনার কথা জানান। সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে ট্রাফিক সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেন। কিন্তু মাসের শেষ দিন সংবাদ সম্মেলন করে তিনি নিজেই বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় সফলতা আসেনি।

ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে একটি কমিটি করা হয়। গত ১৬ আগস্ট কমিটি ১৭টি নির্দেশনা জারি করে। পরিবহন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাতটি নির্দেশনা ছিল দ্রæত কার্যকর করার মতো। এর মধ্যে রয়েছে বাস থেকে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ করা। চলাচলের সময় অধিকাংশ বাসের দরজা বন্ধ রাখা। পুলিশ কমিশনারের উদ্যোগ আর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে করা কমিটির স্বল্পমেয়াদি নির্দেশনাগুলো একই রকম।

রাজধানীর মিরপুরের টেকনিক্যাল, শ্যামলী, সার্ক ফোয়ারা, শাহবাগসহ ছয়টি মোড় ঘুরে দেখা যায়, বাস থেকে যত্রতত্র যাত্রী ওঠানো-নামানো বন্ধ হয়নি। বেশির ভাগ চলন্ত বাসের দরজা খোলা। তবে বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বাস থামার জায়গা চিহ্নিত করে নির্দেশনা লাগিয়েছে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ। বৃহস্পতিবার বেলা একটা থেকে সোয়া একটা পর্যন্ত সার্ক ফোয়ারা মোড়ে (ফার্মগেটমুখী অংশে) ২২টি বাস পুলিশের নির্দেশিত জায়গার ৩০ ফুট আগেই যাত্রী-ওঠানো-নামানো করেছে। একটু দূরেই দুজন পুলিশ সদস্য দাঁড়িয়ে ছিলেন।

নানা কর্মসূচির পরও রাস্তায় ফেরেনি শৃঙ্খলা। জেব্রা ক্রসিং পেরিয়ে গাড়ি। এর মধ্য দিয়েই চলতে হচ্ছে পথচারীদের। গতকাল বেলা দুইটায় বিমানবন্দর সড়কের শেওড়া এলাকায়।  প্রথম আলোনানা কর্মসূচির পরও রাস্তায় ফেরেনি শৃঙ্খলা। জেব্রা ক্রসিং পেরিয়ে গাড়ি। এর মধ্য দিয়েই চলতে হচ্ছে পথচারীদের। গতকাল বেলা দুইটায় বিমানবন্দর সড়কের শেওড়া এলাকায়।

তবে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহীর হেলমেট ব্যবহারের নির্দেশনা অনেকটাই বাস্তবায়িত হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারের প্রধান সড়কগুলোতে লেগুনা বা হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধ ঘোষণার পর বেশ কিছু পথে তা বন্ধ রয়েছে।

পুলিশের নির্দেশনায় বাসের ভেতরে দৃশ্যমান দুটি জায়গায় চালক ও চালকের সহকারীর ছবিসহ নাম, চালকের লাইসেন্স নম্বর এবং মোবাইল ফোন নম্বর প্রদর্শন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছিল। গতকাল রাজধানীর চারটি রুটের ২০টি বাসে ওঠে দেখা যায়, কোনো নির্দেশনাই মানা হচ্ছে না।

পুলিশ কমিশনারের ঘোষণা অনুযায়ী গুলিস্তানের জিরো পয়েন্ট থেকে ক্যান্টনমেন্টের জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত ‘মডেল করিডর’ পুরো চালু হয়নি। এই পথের কয়েকটি পয়েন্টে স্বয়ংক্রিয় সংকেতবাতি জ্বললেও দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা হাতের ইশারাতেই এখনো যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করেন।

গত ১ আগস্ট থেকে ২০ অক্টোবর ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করায় পুলিশ রাজধানীতে মামলা করেছে ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬৮০টি। জরিমানা আদায় করা হয়েছে প্রায় ২৭ কোটি টাকা।

এ বিষয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সড়ক নিরাপদ করতে সরকার নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে পরিস্থিতি বদলাচ্ছে না। সড়কের নৈরাজ্য দেখে মনে হচ্ছে, শিক্ষার্থীরা যে চোখ খুলে দিয়েছিল, তা আবার বন্ধ হয়ে গেছে। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে শুধু বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলে হবে না, জবাবদিহির জায়গাটি নিশ্চিত করতে হবে।



আমার বার্তা/০৭ সেপ্টেম্বর ২০১৯/জহির

 


আরো পড়ুন