শিরোনাম :

  • বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রথম ম্যাচেই সিঙ্গাপুরের চমক চট্টগ্রামের জহুর হকার্স মার্কেটে অগ্নিকাণ্ড হবিগঞ্জে কৃমিনাশক ওষুধ সেবনে বোনের মৃত্যু, দুই ভাই হাসপাতালে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের ‘কঠিন চীবর দান’ উৎসব আজ ডি মারিয়ার জোড়া গোলে পিএসজির বড় জয়
চামড়া শিল্পনগরীর সব কাজ শেষ হচ্ছে ডিসেম্বরে : শিল্পমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০৮ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:১৯:০৬
প্রিন্টঅ-অ+


চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ‘চামড়া শিল্পনগরী-সাভার ঢাকা’ প্রকল্পের কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) সব কাজ সমাপ্ত হবে।

মঙ্গলবার সাভারের চামড়া শিল্পনগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারসহ (সিইটিপি) প্রকল্পের সার্বিক বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় এ কথা জানানো হয়।

সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, সব কাজ শেষ হওয়ার পর আগামী বছরের শুরুতেই লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের (এলডব্লিউজি) সনদ অর্জনের জন্য নিরীক্ষার আমন্ত্রণ জানানো হবে।

শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারির শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান ফজলুর রহমান, শিল্প সচিব মো. আবদুল হালিম, বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প কর্পোরেশনের (বিসিক) চেয়ারম্যান মো. মোশ্তাক হাসান এনডিসি, বুয়েটের টিম লিডার অধ্যাপক ড. মো. দেলোয়ার হোসেন, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের প্রেসিডেন্টে সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শাহীন আহমেদ, বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন, চামড়া শিল্পনগরী প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী জিতেন্দ্রনাথ পাল, এপেক্স গ্রুপের প্রতিনিধি মেজর (অব.) মির্জা আনোয়ারুল কবিরসহ শিল্প মন্ত্রণালয়, বিসিক ও চামড়া শিল্প সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় জানানো হয়, বর্তমানে যে গতিতে চামড়া শিল্পনগরীর কাজ চলছে, তাতে করে আগামী বছরের প্রথম দিকে বাংলাদেশ চামড়া শিল্পের জন্য এলডাব্লিউজি সনদ অর্জনে সক্ষম হবে। সভায় চামড়া শিল্পনগরীর উন্নয়ন কাজের সর্বশেষ অবস্থা বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়।

জানানো হয়, ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগারের (সিইটিপি) কাজ শতকরা ৯৮ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে সিইটিপির ৪টি মডিউল চালু রয়েছে এবং এগুলো বর্জ্য পরিশোধনের কাজ করছে। সিইটিপির কার্যক্রম শতভাগ সম্পন্ন করার জন্য যন্ত্রপাতিসহ আমদানিযোগ্য মালামাল ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় পৌঁছেছে। বর্তমানে এগুলো স্থাপনের কাজ চলছে। সিইটিপির ডি-ওয়াটারিং হাউজের ৯টি ইউনিটের মধ্যে ৩টি ইউনিটের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এগুলোতে স্লাজ কেক তৈরি হচ্ছে। বাকি ৬টি ইউনিটের কাজ ২৫ অক্টোবরের মধ্যে শেষ হবে।

সভায় আরও জানানো হয়, সিইটিপির ক্রোম সেপারেশনের লক্ষ্যে অবকাঠামো নির্মাণ শেষ হয়েছে।বর্তমানে সিইটিপিতে স্থাপিত ৭টি জেনারেটরের সব ক’টি সচল রয়েছে এবং সব পাম্প চালু আছে। এর সেন্ট্রাল ল্যাবরেটরি ও অটোমেশনের কাজ নভেম্বরের মধ্যেই শেষ হবে। একই সঙ্গে শিল্পনগরীতে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য ২টি ডাম্পিং ইয়ার্ড স্থাপনের লক্ষ্যে ড্রইং ও ডিজাইন চূড়ান্ত করা হয়েছে। এটি নির্মাণের জন্য ১৫ অক্টোবরের মধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হবে। এ ছাড়া, সিইটিপির অভ্যন্তরীণ রাস্তা নির্মাণের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

এলডাব্লিউজি সনদ অর্জনের লক্ষ্যে এখন থেকে মক অডিট পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয় সভায়। এ অডিটের ফলাফলের ভিত্তিতে বিভিন্ন সূচকে ধারাবাহিক গুণগত পরিবর্তনের জন্য সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেয়া হয়। একইসঙ্গে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বাই-প্রোডাক্ট উৎপাদনকারীদের অনুকূলে জায়গা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এ ক্ষেত্রে যেসব প্লটে এখনও ট্যানারি কারখানা স্থাপন করা হয়নি, সেগুলোর বরাদ্দ বাতিল করে বাই-প্রোডাক্ট উৎপাদনকারীদের প্লট বরাদ্দ দেয়া হবে বলে জানানো হয়।

সভায় শিল্পমন্ত্রী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রকল্প শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি চামড়া শিল্পের বিশাল সম্ভাবনা কাজে লাগাতে যে কোনো মূল্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ প্রকল্পের কাজ শেষ করতে হবে। যারা শিল্পনগরীতে প্লট বরাদ্দ নিয়ে কারখানা স্থাপন করেননি, তাদের প্লট বরাদ্দ বাতিল করতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান বলেন, চামড়া শিল্পনগরীর সিইটিপির বাস্তবায়ন কাজ সন্তোষজনক গতিতে এগিয়ে চলছে। চামড়াখাতে রফতানি বাড়াতে সিইটিপির পাশাপাশি পুরো শিল্পনগরীকে এলডাব্লিউজি সনদের আওতায় আনা হবে।

এর মাধ্যমে চামড়াজাত পণ্য রফতানিতে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা দূর করে বাংলাদেশের রফতানি বাড়বে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এর আগে চামড়ার বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন ও শিল্প প্লটে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ কার্যক্রম ঘুরে দেখেন শিল্পমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং শিল্প সচিব।



আমার বার্তা/০৮ অক্টোবর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন