শিরোনাম :

  • প্রধানমন্ত্রী রাতে দেশে ফিরবেন পদ্মা সেতুর আড়াই কিলোমিটার দৃশ্যমান হচ্ছে আজ যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ালমার্টের বাইরে গোলাগুলিতে নিহত ৩ আজ বিমানে পেঁয়াজ আসছে ইডেনে যে বিষয়টাতে বেশি ভয় পাচ্ছেন মিরাজ
দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না : গণপূর্তমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:০৬:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম বলেছেন, দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। দুর্নীতির ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশনা ‘জিরো টলারেন্স’। সেটাকে আমরা ধারণ করে কাজ করে যাচ্ছি। দুর্নীতি যেখানে, সেখানেই আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি।

তিনি বলেন, দুর্নীতিতে জড়িত কারও পাশে আমি থাকব না। দুর্নীতি যিনি করবেন তিনি আমার টিমে থাকবেন না। আত্মীয়, রাজনৈতিক পরিচয়, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি-এর কোনোটিই দুর্নীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত কাউকে রক্ষা করতে পারবে না।

বুধবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় গণপূর্ত অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব বসতি দিবস ২০১৯ উপলক্ষে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

গণপূর্তমন্ত্রী বলেন, ‘বর্জ্য দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। এখন থেকে যেখানে শিল্প হবে সেখানে ইটিপি (তরল বর্জ্য শোধনাগার) পদ্ধতি, যেখানে আবাসন হবে সেখানে এসটিপি পদ্ধতিতে বর্জ্যকে প্রক্রিয়াজাত করে নিঃশেষ করা হবে। তা নাহলে আমাদের আগামী প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। পূর্বাচলে প্রতিটি বাড়ির জন্য আমরা বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের নির্দেশনা রাখব। সমন্বিত বা ব্যক্তিগতভাবে এই ব্যবস্থাপনা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা সরকার বাংলাদেশকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় সামিল করেছে। তবে এই উন্নয়ন হতে হবে টেকসই উন্নয়ন। ঠুনকো বা অস্থায়ী উন্নয়ন দেশকে ভালো কিছু দিতে পারে না। এজন্য আমরা সারা দেশকে মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় নিয়ে আসছি। ব্যক্তিগত জমিতেও অপরিকল্পিত কিছু করতে দেয়া হবে না। পরিকল্পিত উপায়ে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার হতে হবে।’

ক্যাসিনো কেলেঙ্কারির মতো কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আমাদের উন্নয়নকে ব্যাহত করে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এদেশে অনৈতিকতাপূর্ণ কোনো বিষয়কে সরকার অনুমোদন করবে না। একটিও অনৈতিকতাপূর্ণ কর্মকাণ্ডের লাইসেন্স শেখ হাসিনা সরকার দেয়নি। আমরা চাই না, স্পোর্টস ক্লাবের ভেতরে ক্যাসিনো বা মাদকের ব্যবসা চলুক, অনৈতিকতার বিস্তার ঘটুক। এটা শেখ হাসিনা সরকার কোনোভাবে বরদাশত করে না। সেজন্য আমরা কঠোর অবস্থানে আছি।’

“দুর্নীতিবিরোধী অভিযান সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী পরিষ্কার ভাষায় বলেছেন, আমরা কেউ জানি না কে কখন গ্রেফতার হবেন। অনৈতিকতা ও দুর্নীতিতে যিনিই জড়িত থাকবেন, তিনিই গ্রেফতার হবেন। সে জায়গায় দাঁড়িয়ে আমাদের পরিষ্কার কথা, সকলকে নৈতিকতার মানদণ্ড দৃঢ়তার সঙ্গে ধারণ করতে হবে। দুর্নীতিকে শতভাগ ‘না’ বলতে হবে। তা নাহলে কঠোর অবস্থার মুখোমুখি হতে হবে”, যোগ করে শ ম রেজাউল করিম।

মন্ত্রী বলেন, ‘রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে আমরা মাত্র ১৩ মাসে ২০ তলা ভবন করেছি। এই কৃতিত্ব দেশে কেবল গণপূর্ত অধিদফতর দেখাতে সক্ষম হয়েছে। আমাদের পূর্বাচল প্রকল্প পরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব বিধায় এর জন্য বিশ্ব পরিমণ্ডলে আমরা পুরস্কার অর্জন করেছি। দেশের বড় বড় অবকাঠামো উন্নয়ন আমাদের হাতে হয়েছে। কিন্তু কিছু ঘটনা আমাদের অর্জনকে কলঙ্কিত করে তোলে। এ কারণে আমাদের সকলকে সচেতন হতে হবে।’

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে প্রকৌশলীদের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘যিনি স্বচ্ছতার সঙ্গে, সততার সঙ্গে কাজ করবেন, তাকে আমি স্বাগত জানাব। যিনি দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত হবেন, তাকে ছেঁটে ফেলা ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা থাকবে না।’

নগর উন্নয়ন অধিদফতরের পরিচালক ড. খুরশীদ জাবিন হোসেন তৌফিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. শহীদ উল্লা খন্দকার, গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেন, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. ইয়াকুব আলী পাটওয়ারী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ড. সুলতান আহমেদ, জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মো. রাশিদুল ইসলাম, স্থাপত্য অধিদফতরের প্রধান স্থপতি আ স ম আমিনুর রহমান, হাউজিং অ্যান্ড বিল্ডিং রিসার্চ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোহাম্মদ শামীম আখতার প্রমুখ।



আমার বার্তা/৩০ অক্টোবর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন