শিরোনাম :

  • রোকেয়ার আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে নারীরা বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়বে : প্রধানমন্ত্রী নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল : রাষ্ট্রপতি বেগম রোকেয়া দিবস আজ উগ্রবাদবিরোধী জাতীয় সম্মেলন শুরু হচ্ছে আজ
তরুন নেতৃত্বের বিকাশ ও সমাজ পরিবর্তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল লিডারশীপ কার্নিভাল ২০১৯’
শাহ্ মহিউদ্দীন শাহীন :
৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৫৩:১৬
প্রিন্টঅ-অ+


তরুন নেতৃত্বের বিকাশ ও সমাজ পরিবর্তনে তরুনদের ভূমিকা ও সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে শুক্রবার রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারস, বাংলাদেশ (আইডিইডি) অডিটরিয়ামে অণুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল লিডারশীপ কার্নিভাল ২০১৯’। সেশন ভিত্তিক আলোচনার বিভিন্ন পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় তরুণদের করণীয় দিকগুলো সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন এখনকার তরুণরা রাত-দিন স্মার্টফোনে মজে থাকে। এতে শিক্ষা, জ্ঞান ও গবেষণার প্রতি তাদের মনোযোগ দিন দিন কমে যাচ্ছে। এটাকে ভয়ংকর হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা তরুণদের স্মার্টফোনে মজে না থেকে বাস্তবে মানবিক হওয়ার তাগিদ দিয়েছেন।

‘ন্যাশনাল লিডারশিপ কার্নিভাল ২০১৯’ এর আয়োজন করে ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশ। সহযোগিতায় ছিল ইউকে এইড এবং মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন।

কার্নিভালের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- কৃষিমন্ত্রী ডঃ মোঃ আবদুর রাজ্জাক, এমপি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেল, এমপি।



তরুন নেতৃত্বের বিকাশ ও সমাজ পরিবর্তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল লিডারশীপ কার্নিভাল ২০১৯’

দেশের মোট ৭২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে থেকে আসা ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশের প্রায় ৪০০ জন তরুণ সদস্যকে নিয়ে সকাল সাড়ে নয়টা থেকে বিকাল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত চলে এই অনুষ্ঠান।

অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত লেখক ও শিক্ষাবিদ জাফর ইকবাল বলেন, ‘আমি ছেলেমেয়েদের পড়াই, আমি জানি। চোখের সামনে শিক্ষার্থীদের মনোযোগ প্রতিদিন কমছে। আস্তে আস্তে কমতে-কমতে এখন কমে গেছে।  ওদের আগের মতো মনোযোগ নেই। তার কারণ স্কিনের দিকে তাকিয়ে থাকে, সেখানে লাইক দেয়, কিছু লিখে না। খালি আঙ্গুল দিয়ে একটা ঠোকা মারে, এটা কিন্তু মানুষের জন্য না।’

তরুণদের উদ্দেশ্যে তার ব্যবহার করা বাটযুক্ত সাধারণ ফোনটি দেখান। পরে বলেন, ‘এটাতে কিন্তু আমার কাজ চলে যায়। আমার যখন দরকার হয় তখন আমি ল্যাপটপ ওপেন করি, তথ্য নেই। আমার সময় নষ্ট হয় না। আমার দিন চলে গেলে তোমরাও তোমাদের দিন চালাতে পারবে।’

বিশিষ্ট এই বিজ্ঞান লেখক বলেন, ‘সাইন্স ভালো, কিন্তু প্রযুক্তির ভালো মন্দ আছে। তুমি টেকনোলজি ব্যবহার করবে টেকনলজি যেন তোমাকে ব্যবহার না করতে পারে। আমার প্রয়োজনে টেকনোলজি ব্যবহার করবো। আমি ফেসবুক ব্যবহার করবো। কিন্তু আমার ইচ্ছে করছে না তারপরও আমাকে ফেসবুক টেনে নিয়ে যাচ্ছে। আমি ফেসবুকে থাকছি।’



তরুন নেতৃত্বের বিকাশ ও সমাজ পরিবর্তনে অনুষ্ঠিত হলো ‘ন্যাশনাল লিডারশীপ কার্নিভাল ২০১৯’

অনুষ্ঠানে আগত বক্তারা বলেন-সঠিক নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ সমাজকে দক্ষ করে গড়ে তোলার কোন বিকল্প নাই। কেননা তরুণরাই পারবে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট বাস্তবায়নের মাধ্যমে পৃথিবীকে বদলে দিতে। আগত অতিথিরা ওয়াইসিবি’র এমন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক, ডিএফআইডির বাংলাদেশ প্রতিনিধি যুদিথ হারবার্টসন, বাংলাদেশ পুলিশের অ্যাডিশনাল ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল হায়দার আলী খান, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপক কুমার বণিক, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শাহিন আনাম, ইয়ুথ ক্লাব অব বাংলাদেশের সভাপতি আরিফিন রাহমান হিমেল ও সাধারণ সম্পাদক সানজিদা জামান প্রমুখ বক্তব্য দেন।

আলোচনায় বিভিন্ন পর্যায়ে আরও বক্তব্য দেন এমসিসিআইর সভাপতি নিহাদ কবীর, বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া সমিতি হাসপাতালের সিও ডা. এ কে এম ইকরামুল হুসাইন, অভিনেতা জাহিদ হাসান, প্রীত রেজা, স্মার্ট টেকনোলজিস বিডির ডিরেক্টর মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন, আরিফ আর হোসাইন, আব্দুল্লাহ আল মামুন, রেজওয়ানুল করিম এবং শহরিয়ার মান্নান।

অনুষ্ঠানে সামাজিক কর্মকান্ডের স্বীকৃতি স্বরূপ দেশের সাতটি সংগঠনকে ইয়ুথ এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়া কার্নিভালের বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে ছিল- সমাজ পরিবর্তনের ধারণা বিষয়ক ‘ কমিউনিটি চেঞ্জ মেকার কম্পিটিশন’ তোমার চোখে তারুণ্য আলোকচিত্র প্রদর্শনী’ এবং ইয়ুথ অলিম্পিয়াড।

 



 আমার বার্তা/৩০ নভেম্বর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন