শিরোনাম :

  • আজ সংবাদ সম্মেলন করবেন প্রধানমন্ত্রী কারওয়ান বাজারের কলার আড়তের আগুন নিয়ন্ত্রণে করোনা মোকাবিলায় সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২৩ কোটি টাকার বরাদ্দ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রেকর্ড, একদিনে প্রাণ গেল ১২২৪ জনের
দেশের কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৩:৩৯:১৩
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশের কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না। যার ভিটে আছে তাকে ঘর করে দেয়া হবে। যার ভিটেমাটি নেই তাকে জমি ও ঘর করে দেয়া হবে। কেউ ফসলের জমি নষ্ট করবেন না। আপনারা পরিকল্পিতভাবে ঘরবাড়ি করবেন। ফসলি জমিতে কেউ শিল্প কল-কারখানা করবেন না।

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের শপথ পড়ানোর পরে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এরআগে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মেয়র, সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরদের শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, শহরের মানুষ হাইফাই জীবন যাপন করবেন আর গ্রামের মানুষ তা পারবে না এটা হবে না। আমরা গ্রাম ও শহরের মানুষকে সমান সুযোগ সুবিধা দিতে চাই। এ জন্য সারা দেশে উন্নয়ন কাজ চলছে। দুর্নীতি করে কেউ যদি আমাদের উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে তাকে শাস্তি পেতেই হবে। সে যেই হোক কেউ ছাড় পাবে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু সমস্যা মোকাবেলায় এখন থেকেই মশা নিধনে ব্যবস্থা নিতে হবে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি যেন ভয়াবহ না হয়, সেজন্য আগে থেকেই কাজ শুরু করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, গত ১০ বছরে দেশজুড়ে সরকার অনেক উন্নয়ন করেছে । এছাড়াও অনেকগুলো মেগা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে, যেগুলোর কাজ চলছে। এর আগে ১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পরও আমরা অনেক প্রকল্প নিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেগুলো মুখ থুবড়ে পড়ে। সরকার বদল হবে, কিন্তু উন্নয়ন প্রকল্প যেন বন্ধ না হয় সেই ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকা শহরসহ সারা দেশে অনেক মেগাপ্রকল্প চলছে। আগামী মেয়াদের আগেই এসব প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করতে হবে।

উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে যে দারিদ্র্যের হার ছিল ৪১ শতাংশ, তা আমরা ২০.৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছি। আমরা ক্ষমতায় আসার পর বৈশ্বিক মন্দা ছিল, আমরা সেই প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে পড়তে দেইনি। আগে অন্যের কাছে আমাদের হাত পাততে হতো। এখন আর কারও কাছে হাত পাততে হয় না। ইতোমধ্যে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হয়েছি। উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে নাম লেখাতে এখন এটি আমাদের ধরে রাখতে হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে আমরা বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবো। ২১০০ সালের জন্য আমরা ডেল্টা প্লান করে বাস্তবায়নের কাজও শুরু করেছি। একটা সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছি।

শেখ হাসিনা বলেন, দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বাংলাদেশে ৮২ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করতো। এদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই বঙ্গবন্ধু আজীবন চেষ্টা করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য, দেশ স্বাধীনের পরে তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর সময় পান। এক বিধ্বস্ত অবস্থায় শূন্য হাতে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে দাঁড়িয়ে তিনি যাত্রা শুরু করেছিলেন। মাত্র সাড়ে তিন বছরেই তিনি একটি সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। শহীদ পরিবার, শিক্ষার্থীদের, সাধারণ নাগরিকদের, সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান, স্কুল-কলেজ, খাদ্য নিশ্চিত করেছিলেন তিনি। তার এই নেতৃত্ব ও প্রশাসনিক দক্ষতার ফলেই বাংলাদেশ অতি অল্প সময়েই স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা পেয়েছিল।

দেশের ৯৫ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় এসেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হতো। সেখান থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন ৪৩০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করেছিলাম। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত সরকার এসে তা ৩২০০ মেগাওয়াটে নামিয়ে ফেলে। পরবর্তীতে আমরা সরকার গঠন করে সেই ৩২০০ মেগাওয়াট থেকে ফের যাত্রা শুরু করে এখন ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করছি। আমরা ঘোষণা করেছি এদেশের প্রতিটি ঘরে আলো জ্বলবে। কোনো ঘর অন্ধকার থাকবে না।

তিনি বলেন, ভিডিও কনফারেন্সে গ্রামের একজন বোন যখন আমাকে বলে এখন আমরা রাইস কুকারে রান্না করি। আরেক বোন যখন বলে বিদুৎ আসার ফলে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিউটি পার্লার করে সে টাকা উপার্জন করে জীবিকা নির্বাহ করছে, তখন আমার খুব ভালো লাগে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, করোনাভাইরাস এখনও আমাদের দেশে আসে নাই। তারপরও এজন্য আমরা আলাদা ব্যবস্থা নিয়েছি। আমরা সতর্ক অবস্থায় আছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহরে বড় বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। যারা বস্তিবাসী তারা যেন উন্নত ও নিরাপদ বাসস্থান পায় সরকার সে প্রকল্প গ্রহণ করেছে। যে ভাড়ায় তারা বসবাস করছে সেই ভাড়াই থাকবে। কেউ দিনের ভাড়া দিনে, কেউ সপ্তাহে আবার কেউ মাসে ভাড়া দিতে চাইলে দিতে পারবে। যে যেভাবে ভাড়া দিতে পারবে সে ভাবেই ভাড়া নেয়া হবে। আমরা ব্যাংকগুলোকে সে ভাবেই ভাড়া নিতে বলবে।



আমার বার্তা/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০/জহির


আরো পড়ুন