শিরোনাম :

  • ঢাকায় বাড়তে পারে তাপমাত্রা করোনার ছোবলে এবার চলে গেলেন এসআই মোশাররফ সপ্তাহে তিন দিন ছুটির বিধান আসছে নিউজিল্যান্ডে পেরুতে একদিনেই আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার
চাষি ও খামারিদের রক্ষায় ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ মন্ত্রীর
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২০ মে, ২০২০ ১৬:০২:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


দুর্যোগকালীন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের উৎপাদক, চাষি ও খামারিদের রক্ষায় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম।

বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ঘূণিঝড় আম্ফানের প্রভাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় ব্যবস্থা গ্রহণ বিষয়ে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত সভায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের এ নির্দেশ প্রদান করেন তিনি।

এ সময় মন্ত্রী বলেন, ‘দুর্যোগের সময় মাছ ও গবাদিপশুর খাবার সংকটের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। নিরাপদ আশ্রয়ে গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগি সরিয়ে নেয়ার জন্য মানুষদের বোঝাতে হবে। প্রয়োজনে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্য নিতে হবে। কী পরিমাণ মাছ ধরার ট্রলার বড় নদী বা সমুদ্রে আছে তার তথ্য কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। উপকূলীয় প্রতিটি জেলার হালনাগাদ তথ্য তথা কী পরিমাণ গবাদিপশু নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হয়েছে, মাছের কতটি ঘের সংরক্ষণ করা হয়েছে সে রিপোর্ট দিতে হবে। এখনও যেসব মৎস্য নৌযান সমুদ্রে বা বড় নদীতে রয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করতে হবে।

কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, উৎপাদক, চাষি ও খামারিরা বিপন্ন হলে আমরাও বিপন্ন হয়ে পড়বো। এ জন্য তাদের লালন ও পরিচর্যা গভীরভাবে করতে হবে। প্রতিটি জেলার কন্ট্রোল রুম মনিটর করতে হবে। গবাদিপশুর খাদ্য বিতরণ স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে সঠিকভাবে মনিটর করতে হবে, যাতে বরাদ্দকৃত খাদ্য প্রকৃত খামারিদের কাছে পৌঁছায়। আপনারা তৎপরতার সঙ্গে কাজ করলে দুর্যোগে মৎস্যজীবী বা খামারিদের ক্ষতি অতীতের মতো হবে না। জরুরি পরিস্থিতিতে আপনাদেরকে আরও অধিক নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

গবাদিপশু নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া, মৎস্য ঘেরগুলো জাল দিয়ে উঁচু করে ঘিরে রাখার বিষয়ে চাষিদের পরামর্শ প্রদান, গবাদিপশুর বরাদ্দকৃত খাদ্য প্রকৃত খামারিদের পৌঁছানো, সকল নৌযান নিরাপদ আশ্রয়ে ফেরানো, মাঠ পর্যায়ে সার্বক্ষণিক মনিটরিং, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা, দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে মন্ত্রণালয়কে অবহিতকরণ, দুর্যোগকালীন ও দুর্যোগ পরবর্তীতে রাজস্ব খাত বা প্রকল্প থেকে তাৎক্ষণিক ত্রাণ সহায়তা দেয়া, হ্যাচারিতে মাছের পোনা ও হাঁস-মুরগির বাচ্চা উৎপাদন অব্যাহত রাখা এবং উপদ্রুত এলাকায় টিকা প্রদান, চিকিৎসা, কৃত্রিম প্রজনন, পরামর্শ প্রদানসহ কারিগরি সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন ও শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, যুগ্মসচিব মো. তৌফিকুল আরিফ এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন। মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ, প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের মহাপরিচালক ডা. আবদুল জব্বার শিকদার, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান কাজী হাসান আহমেদ, সামুদ্রিক মৎস্য দফতর, চট্টগ্রামের পরিচালক মো. লতিফুর রহমান এবং খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ দফতরের উপ-পরিচালকগণ ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত ছিলেন।



আমার বার্তা/২০ মে ২০২০/জহির


আরো পড়ুন