শিরোনাম :

  • আজ শেখ কামালের ৭১তম জন্মবার্ষিকী বৈরুতে জোড়া বিস্ফোরণে নিহত ৭৮, আহত প্রায় ৪০০০ লেবাননে ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা উল্কাপিণ্ড থেকে মিলবে ৫ হাজার কোটি টাকা, অতঃপর...
করোনা ভাইরাস: শনাক্ত রোগী দেড় লাখ ছাড়াল
নিজস্ব প্রতিনিধি:
০২ জুলাই, ২০২০ ২০:৩৩:৫৯
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশে নতুন করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরুর ১১৭তম দিনে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দেড় লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ার খবর দিল স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের টালিতে শনাক্ত রোগীর সংখ্যায় শীর্ষ দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশ এখন রয়েছে ১৮ নম্বরে।

বৃহস্পতিবার(২ জুলাই) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ৪ হাজার ১৯ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়ায় দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২৭৭ জন হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে আরও ৩৮ জন মারা গেছেন গত এক দিনে, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ হাজার ৯২৬ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে যুক্ত হয়ে অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক নাসিমা সুলতানা বৃহস্পতিবার দেশে করোনাভাইরাস পরিস্থিতির এই সবশেষ তথ্য তুলে ধরেন।

আইডিসিআরের ‘অনুমিত’ হিসাব দিয়ে নাসিমা সুলতানা বলেন, বাসা ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও ৪ হাজার ৩৩৪ জন রোগী সুস্থ হয়ে উঠেছেন গত ২৪ ঘণ্টায়। তাতে সুস্থ রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল মোট ৬৬ হাজার ৪৪২ জনে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের প্রথম সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ, তার দশ দিনের মাথায় প্রথম মৃত্যুর খবর আসে। প্রথম রোগী শনাক্তের ২৮দিন পর ৬ এপ্রিল শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১০০ ছাড়ায়। ১৪ এপ্রিল এক হাজার ছাড়ায় শনাক্ত রোগী। এরপর ৪ মে ১০ হাজার, ১৫ মে ২০ হাজার এবং ২ জুন পঞ্চাশ হাজার ছাড়িয়েছিল শনাক্ত রোগীর সংখ্যা। এরপর মাত্র ১৬ দিনে গত ১৮ জুন দেশে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে যায়। বৃহস্পতিবার তা দেড় লাখে পৌঁছাতে সময় লাগল ১৪ দিন।  

বাংলাদেশে ১৮ মার্চ প্রথম কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ২০ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা ১০০ ছাড়ায়। ১০ জুন মৃতের সংখ্যা হাজারের ঘর পেরিয়ে যায়।

এরপর ১২ দিনেই মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়ে যায় গত ২২ জুন। এখন তা পৌঁছে গেছে দুই হাজারের কাছাকাছি।

জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের টালি অনুযায়ী, সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত ১ কোটি ৭ লাখ ৪ হাজারের বেশি কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে, মৃত্যু হয়েছে ৫ লাখ ১৬ হাজার ৪৩৪ জনের।

নাসিমা সুলতানা বলেন, গত এক দিনে যারা মারা গেছেন, তাদের মধ্যে ৩২ জন পুরুষ এবং ৬ জন নারী। ৩৩ জন হাসপাতালে এবং ৫ জন বাড়িতে মারা গেছেন।

এই ৩৮ জনের মধ্যে ২ জনের বয়স ৮১ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে। এছাড়া ৭ জনের বয়স ৭১ থেকে ৮০ বছরের মধ্যে, ৮ জনের বয়স ৬১ থেকে ৭০ বছরের মধ্যে, ১৬ জনের বয়স ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে, ২ জনের বয়স ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, এবং ১ জনের বয়স ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে ছিল।

তাদের মধ্যে ১১ জন ঢাকা বিভাগের, ১২ জন চট্টগ্রাম বিভাগের, ৫ জন খুলনা বিভাগের, ৫ জন রাজশাহী বিভাগের, ১ জন রংপুর বিভাগের, ২ জন সিলেট বিভাগের এবং ২ জন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা ছিলেন।

নাসিমা সুলতানা জানান, ইউনিভার্সাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষা শুরু হওয়ায় দেশে এখন মোট ৭০টি পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ হাজার ৩৬২টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে, এ পর্যন্ত পরীক্ষা হয়েছে ৮ লাখ ২ হাজার ৬৯৭টি নমুনা। ২৪ ঘণ্টায় পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ৮৯ শতাংশ। শনাক্ত রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় সুস্থতার হার ৪৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ, মৃতের হার ১ দশমিক ২৬ শতাংশ।



বিশ্বব্যাপী মাস্ক-পিপিইর চাহিদা,বাজার দখলে তৎপর সরকার



করোনায় বিশ্বব্যাপী সবচেয়ে বেশি চাহিদা বেড়েছে পিপিই, মাস্ক ও গ্লাভসের। এসব স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর বিশ্ববাজার এখন চীনের দখলে। কিন্তু করোনার উৎপত্তিস্থল চীন হওয়ায় এসবের বাজার হারানোর শঙ্কায় রয়েছে দেশটি। ফলে বাংলাদেশের সামনে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি এসব পণ্য রফতানির বিশাল সম্ভাবনা হাতছানি দিচ্ছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তৎপর সরকার।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় বলছে, হয়তো অল্প কিছুদিনের মধ্যেই করোনার তীব্রতা কমবে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থার দেয়া তথ্য অনুযায়ী করোনামুক্ত পৃথিবী পেতে আরও অন্তত দু-তিন বছর সময় লাগবে। এ সময়ে পিপিই (পার্সোনাল প্রোটেকশন ইক্যুইপমেন্ট), মাস্ক ও গ্লাভসের মতো স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর চাহিদা বিশ্বে আরও বাড়বে।

এদিকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, প্রাণঘাতী করোনার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। শুরু হয়েছে নতুন অর্থনৈতিক মেরুকরণ ও বিনিয়োগ বহুমুখীকরণ। বিশেষ করে করোনার উপত্তিস্থল চীন হওয়ায় দেশটি থেকে বিশ্বের অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নেবে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে বাংলাদেশের সম্ভাবনার দ্বার খুলতে যাচ্ছে। বাংলাদেশ আগে থেকেই মাস্ক, গ্লাভস রফতানি করে। এখন বিশ্বমানের পিপিইও রফতানি শুরু করেছে। তাই চীনের হারানো বাজার বাংলাদেশের পক্ষে দখল নেয়া খুব সহজ হবে বলে মনে করছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ জন্য এসব পণ্য উৎপাদন ও রফতানিকারকদের বিভিন্ন নীতি সহায়তার পাশাপশি প্রণোদনার কথাও ভাবছে সরকার।

এ বিষয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রফতানি) মো. ওবায়দুল আজম লেন, করোনাকালে বিশ্বব্যাপী মাস্ক, পিপিইসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে। বিশ্বব্যাপী এসব পণ্যের বাজার চীনের দখলে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে চীন তাদের বাজার হারানোর শঙ্কায় রয়েছে। বাংলাদেশ সেটাকে কাজে লাগিয়ে বাজার দখলের সুযোগটা নিতে চায়।

তিনি বলেন, এ সম্ভাবনাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় সেজন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এসব পণ্য উৎপাদন ও রফতানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাজার ধরতে সরকার নীতি সহায়তার পাশাপাশি প্রণোদনার কথাও ভাবছে। এ জন্য ব্যবসায়ীদের সংগঠনের পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট কারখানার সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।

অতিরিক্ত সচিব আরও বলেন, সারাবিশ্বে অন্যান্য পণ্যের রফতানি বাড়াতেও প্রণোদনার আওতা বৃদ্ধি করতে পারে সরকার। এসব বিষয়ে রফতানিকারকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ ড. নাজনীন আহমেদ বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এ ধরনের নতুন বাজার সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এ জন্য শুধু প্রণোদনা দিলেই হবে না, স্বাস্থ্যগত দিক দিয়ে আরও উন্নত হতে হবে। কারণ আমরা যদি ভালো মতো করোনা মোকাবিলা করতে না পারি তাহলে বিদেশিরা আমাদের থেকে পণ্য নিতে আগ্রহী হবে না।

এদিকে বিশ্বমানের পিপিই উৎপাদনকারী দেশের কাতারে যোগ দিয়েছে বাংলাদেশ। দেশের টেক্সটাইল খাতের নেতৃত্বস্থানীয় ব্র্যান্ড বেক্সিমকো গত ২৫ মে মার্কিন ব্র্যান্ড হেইনস-এর কাছে ৬৫ লাখ পিপিই গাউনের একটি চালান পাঠিয়েছে। এ চালান পৌঁছাবে মার্কিন কেন্দ্রীয় জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের (ফেমা) কাছে।

এছাড়া করোনার প্রকোপে পশ্চিমা অনেক ব্র্যান্ড বাংলাদেশের গার্মেন্টস থেকে অর্ডার বাতিল করেছে। এতে বিপাকে পড়েছে দেশের অনেক পোশাক শ্রমিক। তবে বেশকিছু পোশাক কারখানা করোনাকালে সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পিপিই তৈরি করে সংকটকালে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। এখন মাস্ক, গ্লাভস ও গাউনের মতো পিপিই তৈরি করে রফতানি করছে বাংলাদেশের বহু পোশাক কারখানা।

তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারকদের সংগঠন বিজিএমইএ বলছে, পিপিইর চাহিদার কারণে অনেক পোশাক কারখানার মালিকরা এখন আশাবাদী হচ্ছেন। এ বিষয়ে বিজিএমইএর মুখপাত্র খান মনিরুল আলম শুভ বলেন, কমপক্ষে ৩০টি কারখানা করোনা মহামারির শুরু থেকেই পিপিই উৎপাদন করছে। এ সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে।

বাংলাদেশে অনেক কোম্পানি রয়েছে যারা সীমিত আকারে পিপিই তৈরি করতো। কিন্তু তারাও পশ্চিমা গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী এখন পুরোদমে সুরক্ষা উপকরণ তৈরির কাজে নেমেছে।



আমার বার্তা/ ২জুলাই,২০২০/এসএফসি









 


আরো পড়ুন