শিরোনাম :

  • আজ বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস আজ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী কৃষিতে আমাদের ব্যাপক উন্নয়ন বিশ্বের নজর কেড়েছে : প্রধানমন্ত্রী সুস্থ মাটির একটি অপরিহার্য উপাদান জীববৈচিত্র্য : রাষ্ট্রপতি
* ‘হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা ২০১৬-১৮ মেয়াদের কমিটির ওপর, বাতিল করা হয়েছে ২০১৯-২১ মেয়াদের কমিটি
নির্বাচনের ১৫ মাস পর কমিটি বাতিল ক্ষুব্ধ প্রযোজকরা
সুলতান মাহমুদ :
২১ নভেম্বর, ২০২০ ১৬:১৯:৫৩
প্রিন্টঅ-অ+


বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদের কমিটি বাতিল করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। নির্বাচনের ১৫ মাস পর কমিটি বাতিল করায় ক্ষুব্ধ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতি। তারা বলছেন, একটি বিশেষ মহল ষড়যন্ত্র করে মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে কমিটি বাতিল করানো হয়েছে। নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে এমন অভিযোগে কমিটি বাতিল করা হলেও প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির নেতারা বলছেন ২০১৯-২১ মেয়াদে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আয়োজন করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়টির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তখন নির্বাচনের সার্বিক দায়িত্ব পালন করেন। তারা সমস্ত নিয়ম-কানুন পুঙ্খানুপুঙ্খানুভাবে বিশ্লেষণ করে নির্বাচক কার্য সম্পন্ন করেন। তখন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব মিরাজুল ইসলাম উকিল নিবার্চন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। নিবার্চন পরিচালনা বোর্ডের সদস্য ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জালাল উদ্দিন ও সহকারী প্রোগ্রামার মো. খাদেমুল ইসলাম। মন্ত্রণালয়ে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পরিচালনায় একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হলেও নির্বাচনে ১৫ মাস পরে একই মন্ত্রণালয়ে অন্য কর্মকর্তারা তদন্ত করে কোথায় অনিয়ম পেলেন তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। তাদের অভিযোগ একটি মহল তাদেরকে হয়রানি করার জন্য চক্রান্ত করছে। তারা মন্ত্রণালয়ের কিছু কর্মকর্তাকে ভুল বুঝিয়ে এমনটা করছে।

ওই সময় নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারাও বলেছেন, নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি। সকল নিয়ম মেনেই নির্বাচন সম্পন্ন হয় এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে দায়িত্ব অর্পন করা হয়। জানা গেছে, প্রযোজক সমিতির সদস্য জায়েদ খান বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে একটি অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদের নির্বাচনে অনিয়ম হয়েছে। ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্ত করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ সচিব মো. আব্দুল আউয়ালকে। তিনি বিষয়টি তদন্ত করে মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন যে, অভিযোগের বিষয়টি সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৬ নভেম্বর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক আদেশে জানানো হয় যে, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদের কার্যনির্বাহী পরিষদের কমিটি বাতিল করা হয়েছে। কার্যনির্বাহী পরিষদের কমিটি বাতিল করার কারণ হিসেবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯-২১ মেয়াদে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির যে নির্বাচন হয়েছে, সেই নির্বাচনে খোরশেদ আলম খসরু, শরিফ উদ্দিন খান দিপু, শামসুল আলম এবং মনতাজুর রহমান আকবর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। কারণ তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন বিষয়ে হাইকোর্ট বিভাগের রিট মামলার আদেশ রয়েছে। রিট মামলা নম্বর ৫৯৯৬/২০১৬।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম বলেছেন, রিট মামলার আদেশটি হয়েছে ২০১৬-২০১৮ মেয়াদের নির্বাচনের জন্য। সেখানে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৮ মেয়াদের নির্বাচনে আমরা নির্বাচন করতে পারবো না। কারণ এরআগে আমরা তিনবার নির্বাচিত হয়েছি। কিন্তু বর্তমান যে কার্যনির্বাহী কমিটি, সেটাতো ২০১৯-২০২১ মেয়াদের কমিটি। এটি ২০১৬-২০১৮ মেয়াদের কমিটি নয়। বর্তমান পরিস্থিতিতে মন্ত্রণালয়ের আদেশ মেনে নিলেও আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানান তিনি। তারা বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আমাদেরকে আত্মপক্ষের সুযোগ দেয়নি। তাদের এই আদেশের বিরুদ্ধে ১৫ দিনের মধ্যে আপিল করার সুযোগ আছে। আমরা মন্ত্রণালয়ের কাছে শিগগিরই আপিল করবো। আমরা আশাবাদী, ২০১৯-২১ মেয়াদী কমিটিকেই পুনর্বহাল করা হবে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জায়েদ খান যে অভিযোগটি করেছেন সেই অভিযোগের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তদন্ত করেছেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে উপ-সচিব মো. আব্দুল আউয়াল। তিনি আমার বার্তাকে বলেন, তদন্তের বিষয়ে আমি কোনো মন্তব্য করতে চাই না। তদন্ত রিপোর্ট আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়েছি। আমার কাছে যেটি যথোপযুক্ত মনে হয়েছি রিপোর্টে তা উল্লেখ করেছি।

এ বিষয়ে নির্বাচন বোর্ডের চেয়ারম্যান ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে উপসচিব মিরাজুল ইসলাম উকিল আমার বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির ২০১৯-২১ মেয়াদের নির্বাচন বোর্ডে আমি চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছি। সকল নিয়ম মেনে নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে। আমার জানামতে নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি।

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির তৎকালীন প্রশাসক ও বাণিজ্যমন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. সেলিম হোসেন আমার বার্তাকে বলেন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক ও পরিবেশক সমিতির ২০১৯-২১ সালের নির্বাচনের সময় আমি ওই প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসক ছিলাম। একটি নির্বাচনের পর নির্বাচিত প্রতিনিধির কাছে আমি দায়িত্ব হস্তান্তর করি। তিনি বলেন, ওই সময়ের নির্বাচনে কোনো অনিয়ম হয়নি।

উল্লেখ্য, সাত বছর পর বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রযোজক-পরিবেশক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০১৯ সালের ২৭ জুলাই। নির্বাচনে ১৪০ জন ভোটারের মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১৩০ জন। ১২১ ভোট ও ১১৭ ভোট পেয়ে সাধারণ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন যথাক্রমে খোরশেদ আলম খসরু ও সামসুল আলম। পরে তারা দুজন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছিলেন।



আমার বার্তা/২১ নভেম্বর ২০২০/জহির


আরো পড়ুন