শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
যৌক্তিকতা থাকলে তেলের দাম মধ্যরাতে বাড়ানো হতো না: আনু মুহাম্মদ
১৮ নভেম্বর, ২০২১ ১৫:২৩:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) অধ্যাপক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘তেলের দাম বাড়ানোর যৌক্তিক কারণ থাকলে মানুষ মানবে না কেন? সরকার ভালো করে জানে যে, এর পেছনে কোনো যুক্তি নেই। এজন্য মধ্যরাতে তেলের দাম বাড়ানো হয়েছে।’


বৃহস্পতিবার (১৮ নভেম্বর) ‘বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ভাড়া নিয়ে যাত্রীদের হয়রানির প্রতিবাদে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়।


অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ডিজেলের দাম বাড়ালে যে বাসের ভাড়া বাড়বে, এটা তো জানা কথা। এটা নিয়ে প্রস্তুতি, আলোচনার দরকার ছিল। কিন্তু কোনো আলোচনা হয়নি। মধ্যরাতে দাম বাড়ানো হলো, পরদিন বাস ধর্মঘট শুরু হলো। এরপর সরকার সব মেনে নিলো। বোঝাই গেলো সব আগে থেকে সাজানো।’


তিনি বলেন, ‘ভাড়া যা বাড়ানো হয়েছে, তার থেকে কয়েকগুণ বেশি আদায় করা হচ্ছে। সড়কে নেমে প্রশাসন লোক দেখানো কিছু জরিমানা করছে। নিজেদের দুর্বলতার কারণে সরকার পরিবহন মালিকদের ন্যায্য ভাড়া আদায়ে বাধ্য করতে পারছে না।’


আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘সরকারের অনেকই পরিবহন মালিকদের চাঁদার ওপর নির্ভশীল। তারা যেভাবে টাকা বানায়, তাতে সরকার কোনো আপত্তি করতে পারে না।’


সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী হয়রানির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলে ধরে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের কাছে যাত্রীদের জিম্মিদশার অবসানে ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন।


তিনি বলেন, ‘ঢাকার পরিবহন মালিক সমিতির নেতারা বারবার ঘোষণা দিয়েও কথিত সিটিং সার্ভিস বন্ধে ইঁদুর-বিড়াল খেলায় মেতে উঠেছে। এতে বলির পাঠা হচ্ছেন যাত্রী সাধারণ। নানা অনিয়ম ও অযৌক্তিক, ভুয়া হিসাব দেখিয়ে তেলের দামের চেয়েও কয়েকগুণ বাড়তি ভাড়া ফের বাড়ানো হয়েছে। এরপরও রুটে রুটে বাস বন্ধ করে যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া আরও বাড়ানোর পাঁয়তারা করছে।’


এসময় যাত্রী কল্যাণ সমিতির পক্ষে সংগঠনের মহাসচিব ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন। সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—


>>ডিজেলচালিত বাসে স্টিকার লাগিয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে বিআরটিএ প্রণীত বাসভাড়ার তালিকা বাসে বাসে স্থায়ীভাবে লাগানোর ব্যবস্থা করা।


>>ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় বন্ধ করে সরকারনির্ধারিত ভাড়া আদায় নিশ্চিত করা।


>>অন্যায়ভাবে কোনো যাত্রীকে যাতে পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের নৈরাজ্যের মাধ্যমে অপমান-অপদস্থ হতে না হয়, তার জন্য প্রয়াজোনীয় নির্দেশনা জারি করা


>>সিটিং সার্ভিসের নামে ভাড়াডাকাতি বন্ধে শুধু মৌখিক ঘোষণা নয়, কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া।


>>ছাত্র-ছাত্রীদের হাফ ভাড়া নিশ্চিত করা


>>ডিজেলচালিত বাস-মিনিবাসের ভাড়া বৃদ্ধির সুযোগে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে সিএনজিচালিত বাস-মিনিবাস ও হিউম্যান হলার, লেগুনা, টেম্পু, অটোরিক্সায়। অতিরিক্ত এ ভাড়া আদায় বন্ধ কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।


>>গণপরিবহনে চাদাঁবাজি, পুলিশের হয়রারি বন্ধ করা।


>>ঠুনকো অজুহাতে গণপরিবহন বন্ধ করে যাত্রীদের জিম্মি করার মতো আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়া।


সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন মানবধিকার সংগঠক নুর খান লিটন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. শাহিদা সুলতানা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আবু জাফর সূর্য, সংগঠনের উপদেষ্টা শরীফুজ্জামান শরীফ, সহ-সভাপতি তাওহিদুল হক লিটন প্রমুখ।


আমার বার্তা/গাজী আক্তার

আরো পড়ুন