শিরোনাম :

  • রাজধানীর উত্তরখানে আগুনে একই পরিবারের ৮ জন দগ্ধ ভারতে আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় তিতলিবাবরসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ড, তারেকসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবনরায়কে ঘিরে ঢাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার রায় আজ
ঢাবি র‌্যাংকিংয়ে না থাকায় শিক্ষাব্যবস্থাকে দায়ী করলেন মঈন খান
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৯ মে, ২০১৯ ১৬:৩০:০৯
প্রিন্টঅ-অ+


সরকারের শিক্ষাব্যবস্থার কারণে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয় (ঢাবি) টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাংকিংয়ে ঠাঁই পায়নি বলে দাবি করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেছেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি স্কুলের পাঠদান পদ্ধতি থেকে ভিন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও পাঠ্যবই থেকে স্কুলের বাচ্চাদের যেভাবে পড়ানো হয়ে থাকে সে রকমই একমুখী লেকচারভিত্তিক পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়। কিন্তু উন্নত বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একমুখী লেকাচার ছাড়াও ক্লাসরুমে ইন্টার-অ্যাকটিভ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, গ্রুপ বা ইন্ডিভিজুয়াল অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হয়, সারপ্রাইজ কুইজ বা টেস্ট নেয়া হয়, গ্রুপ বা ইন্ডিভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন নেয়া হয়, মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জামের সহায়তা নিয়ে অডিও বা ভিডিও ক্লিপিংস দেখানো হয়।’

রোববার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।

আবদুল মঈন খান বলেন, ‘সম্প্রতি লন্ডনভিত্তিক টাইমস হায়ার এডুকেশন এশিয়ার ৪১৭টি বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি তালিকা প্রকাশ করেছে যেখানে প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত আমাদের সবার গর্ব ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্থান করে নিতে পারেনি। প্রাচ্যের অক্সফোর্ড হিসেবে যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে একসময় আমরা গর্ব করতাম, যে বিশ্ববিদ্যালয়কে সারা বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থার দর্পণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়; তালিকায় সে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম নেই। বৈশ্বিক র‌্যাংকিংয়ে হাজারের মধ্যেও নেই। কেন? সেটা আজ জাতির কাছে বড় প্রশ্ন। আসুন কারণগুলো একটু খতিয়ে দেখি।’

মঈন খান বলেন, ‘কোর্স কারিকুলাম বা সিলেবাসসমূহ উন্নত বিশ্বের নামি-দামি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে হালনাগাদ করা হয় না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে উন্নত বিশ্বের দেশগুলো থেকে ছাপা হওয়া নামি প্রকাশকের পাঠ্যবইয়ের বদলে অখ্যাত ভারতীয় বা অনুন্নত বিভিন্ন দেশের প্রকাশকের পাঠ্যবই বেছে নেয়া হয় ক্লাসরুমে পাঠদানের জন্য।’

তিনি বলেন, ‘আমরা জানি, মানসম্মত শিক্ষক নিয়োগ মানসম্মত পাঠদানের জন্য অতীব জরুরি একটি বিষয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব আজ চরম আকার ধারণ করেছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধাকে মূল্যায়ন না করে নিছক দলীয় রাজনৈতিক কর্মী অর্থাৎ ছাত্রলীগের কর্মীকে নিয়োগ প্রদানের মাধ্যমে ভোটার তৈরির চেষ্টা করা হয় যাতে শিক্ষক রাজনীতিতে প্রভাব বজায় রাখা সম্ভব হয়।’

‘এছাড়া দ্রুতগতি সম্পন্ন ইন্টারনেটসহ সমৃদ্ধ লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগার বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতির সঙ্গে অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত। নির্ধারিত পাঠ্যপুস্তকের পাশাপাশি হরেক রকম রেফারেন্স বই এবং জার্নালের সম্ভার থাকতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরি বা গ্রন্থাগারগুলোতে। ইলেকট্রনিক লাইব্রেরিতে পরিণত হয়েছে উন্নত বিশ্বের সবগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেেিগুলো। অথচ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিটি আজ পুরনো বইয়ের একটি প্রদর্শনী কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে যেখানে জ্ঞানান্বেষণে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা কদাচিৎ পা ফেলে থাকে।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদান পদ্ধতি স্কুলের পাঠদান পদ্ধতি থেকে ভিন্ন হওয়ার কথা। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আজও পাঠ্যবই থেকে স্কুলের বাচ্চাদের যেভাবে পড়ানো হয়ে থাকে সে রকমই একমুখী লেকচারভিত্তিক পদ্ধতিই অনুসরণ করা হয়। কিন্তু উন্নত বিশ্বের নামিদামি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একমুখী লেকাচার ছাড়াও ক্লাসরুমে ইন্টার-অ্যাকটিভ পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, গ্রুপ বা ইন্ডিভিজুয়াল অ্যাসাইনমেন্ট দেয়া হয়, সারপ্রাইজ কুইজ বা টেস্ট নেয়া হয়, গ্রুপ বা ইন্ডিভিজুয়াল প্রেজেন্টেশন নেয়া হয়, মাল্টিমিডিয়া সরঞ্জামের সহায়তা নিয়ে অডিও বা ভিডিও ক্লিপিংস দেখানো হয়।’

‘শিক্ষকের নেতৃত্বে বিভিন্ন প্রাসঙ্গিক সেক্টরগুলোতে ছাত্র-ছাত্রীদের ভিজিটে নিয়ে যাওয়া হয় এবং বিশেষ করে দেশ-বিদেশের নামিদামি অধ্যাপক ও প্রাসঙ্গিক সেক্টরের সফল পেশাজীবীদের অতিথি শিক্ষক হিসেবে আনা হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে এ রকম আধুনিক পাঠদান পদ্ধতি ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী প্রচলিত হয়ে গেলেও আমাদের প্রিয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তা বাস্তবায়ন করা সম্ভবপর হয়নি বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থায় চেপে বসা দুর্বল ও অযোগ্য অদক্ষ নেতৃত্বের কারণে।’

মঈন খান আরও বলেন, ‘আজ বলতে হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি বিনষ্ট হয়ে গেছে। একসময় অনেক বিদেশি ছাত্রছাত্রী পড়তে এলেও আমার জানামতে এই মুহূর্তে একজনও বিদেশি শিক্ষাথী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত নাই। আমার জানামতে ভাষা ইনস্টিটিউটে পূর্ণকালীন ও খণ্ডকালীন মিলিয়ে হাতেগানা কয়েকজন শিক্ষক রয়েছেন। অন্য কোথাও কোনো বিভাগে বিদেশি শিক্ষক বা গবেষকের দেখা বলতে গেলে মেলেই না।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যক্ষ সেলিম ভূইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



আমার বার্তা/১৯ মে ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন