শিরোনাম :

  • বৃহস্পতিবার আজারবাইজান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী পেশাগত দক্ষতা ও সততার বিকল্প নেই : প্রধানমন্ত্রী ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ভর্তি ২৩৬ ডেঙ্গু রোগী এবার কিউলেক্স মশা নিধনে মাঠে নামছে ডিএনসিসি বঙ্গবন্ধু মানমন্দিরের নাম পরিবর্তনের পরিকল্পনা
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কতটা অমানবিক হলে এ ধরনের কথা বলতে পারেন : মির্জা ফখরুল
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০৪ আগস্ট, ২০১৯ ১৬:৪১:২০
প্রিন্টঅ-অ+


বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ডেঙ্গুতে কতজন মারা গেছেন আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী তা বলতে পারবেন না এবং এটা তার জানা নেই। ডেঙ্গু যখন চরম আকার ধারণ করেছে তখন তিনি বললেন, ‘এডিস মশা রোহিঙ্গাদের মতো।’ কত বড় অমানবিক হলে, কত বড় অমানুষ হলে -এ ধরনের কথা আমরা একজন মন্ত্রীর মুখে শুনতে পাই।

রোববার (৪ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রী যখন মালয়েশিয়া গেলেন, পত্র পত্রিকায় দেখলাম তিনি ব্যক্তিগত কারণে গেছেন। ফিরে আসার পর বলেছেন, তিনি জানেন না কতজন মারা গেছেন। বলছেন, ১৬শ’ থেকে ১৭শ’ আক্রান্ত হয়েছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে অকার্যকর ওষুধ আমদানি করা হচ্ছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, মশা মারার ওষুধ কার্যকর হচ্ছে না। হবে কোথা থেকে, যে দুর্নীতি তারা করে তাতে তো কার্যকর হওয়ার কথা না। এখন নতুন ওষুধ আনবে, সেখানে আরও দুর্নীতি হবে। দুটি ওষুধ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, থাইল্যান্ড থেকে সে দুটি ওষুধ নাকি আনা হচ্ছে। কলকাতার ডেপুটি মেয়রকে তাদের কনসালটেন্সির জন্য আমদানি করছে। এখন এ অবস্থা যে হীরক রাজার দেশের চেয়েও অধম হয়ে গেছে।

সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, সময় শেষ হওয়ার আগেই এ পার্লামেন্ট বাতিল করুন। এ নির্বাচন বাতিল করুন এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন। অন্যথায় এ দেশের জনগণ জানে কিভাবে এ ধরনের সরকারকে পরাজিত করতে হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা অত্যন্ত কঠিন সময়ে বাস করছি। এত বড় কঠিন সময় বাংলাদেশে আর কখনো আসেনি। ১৯৭১ সালে যখন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় এর আগের মুহূর্তেও এত অসহায় বোধ করিনি। তখন জনগণের সামনে একটি শক্তি ছিল, জনগণের মধ্যে রাজনীতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ছিল। এখন মনে হয়, সমস্ত কিছু ভেঙে তছনছ করে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে ভিন্ন আঙ্গিকে গণতন্ত্রের একটা লেবাস পরিয়ে দিয়ে আবার একদলীয় শাসন ব্যবস্থা চালু করেছে। এ অবস্থায় যখন আমাদের সমস্ত অর্জন ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে, যখন আমাদের সমস্ত পথ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, তখন আমরা কী করতে পারি? আমরা যেটা করতে পারি সেটা করতে চেষ্টা করছি। আমরা জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করছি। জনগণই একমাত্র পারেন দেশকে রাষ্ট্রকে মুক্তি দিতে। আমরা যদি আজকে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করতে পারি, জনগণের উত্তাল তরঙ্গ সৃষ্টি করতে পারি, তাহলে নিসন্দেহে সরকার পরাজিত হবে।

আলোচনা সভার সভাপতিত্ব করেন আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদ। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এ জেড এম জাহিদ হোসেন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ডা. মোহাম্মদ সিরাজ উদ্দিন, ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কদ্দুস, সাংবাদিক কাদের গণি চৌধুরী, ড্যাবের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আব্দুস সালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



আমার বার্তা/০৪ আগস্ট ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন