শিরোনাম :

  • আন্তর্জাতিক কাস্টমস দিবস আজ আসছে বৃষ্টি, এরপর তীব্র শীত মজনুর ডিএনএ পরীক্ষায় ধর্ষণের সম্পৃক্ততা মিলেছে চেকআপ না করেই মালয়েশিয়া থেকে পালাল চীনা পরিবার
বিভাজনের রিং মাস্টার সিরাজ, নেতা রব-জলিল : নানক
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৯ আগস্ট, ২০১৯ ১৭:২০:২২
প্রিন্টঅ-অ+


বঙ্গবন্ধু হত্যার প্লট তৈরি করা হয়েছিল জানিয়ে এবং এজন্য জাসদকে দায়ী করে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেছেন, সেই বিভাজনের রিং মাস্টার (কুশীলব) ছিলেন সিরাজুল আলম খান। সেই বিভাজনের নেতা ছিলেন আ স ম আবদুর রব, মেজর জলিলরা।

বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগের কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেবির শওকত ওসমান মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এমন মন্তব্য করেন। ওই সভার আয়োজন করে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটি।

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, ‘যখন প্লট তৈরি করা হয়েছে, তখন আমাদের নেতৃত্ব কোথায় ছিলেন? তখন আমাদের নেতৃত্ব, দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা এবং তাদের কর্তৃত্ব দেয়া ছিল, তারা কোথায় ছিলেন-এ প্রশ্ন আমাদের থেকেই যাবে।’

তিনি বলেন, ‘১৫ আগস্টের পর, ওই ঘটনায় আমরা কর্নেল ফারুক, রশিদ, মেজর ডালিম, শাহরিয়ার নুর, মোস্তাক, জিয়াউর রহমান থেকে দেখছি। কিন্তু এই কয়জন ছিলেন অপারেশনাল টিমের সদস্য। এই অপারেশনাল টিমের পেছনে, যে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তি, যারা ষড়যন্ত্র করেছিল, ষড়যন্ত্রের জাল বুনে ছিল, যারা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে আমাদের সঙ্গে পরাজিত হয়েছিল সেই পরাজিত শক্তি, তারা মেনে নিতে পারেনি বঙ্গবন্ধু মুজিবকে। তারা এদেশের স্বাধীনতা মেনে নিতে পারে নাই। আর মেনে নিতে পারেনি, বলেই তারা বঙ্গবন্ধু মুজিবকে হত্যা করে।’

এ সময় স্বাধীনতা-উত্তর এদেশে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের এই নেতা।

আওয়ামী লীগের এই যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বিভাজন সৃষ্টি করে মুক্তিযুদ্ধের শক্তিকে দুর্বল করা হয়েছিল। কারা করল সে বিভাজন?’ এরপর নিজেই উত্তর দিয়ে বলেন, সেই বিভাজনের রিং মাস্টার ছিলেন সিরাজুল আলম খান। সেই বিভাজনের নেতা ছিলেন আ স ম আবদুর রব, মেজর জলিলরা। তারা পল্টনের লক্ষাধিক মানুষের যখন জমায়েত দেখেছে, মনে করেছে, এ মানুষগুলো সব জাসদের মানুষ। আসলে তারা ছিল স্বাধীনতাবিরোধী। ওই উপস্থিতি দেখেই ওদের (জাসদের) মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।’

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নানক বলেন, ‘আমাদের শত্রু-মিত্রকে চিনতে হবে। আজও দুটো বিষধর সাপ আমাদের সঙ্গে পথ চলছে। একটি অজগর সাপ আমাদের সঙ্গে পথ চলছে। আন্দোলনের নামে ব্যাপক সময়ের অপেক্ষায় রয়েছে। যখনই সুযোগ পাবে তখনই আমাদের ওপরে ছোবল হানবে। আমি সেই অজগর সাপকে চিহ্নিত করতে চেয়েছিলাম, জামায়াত-শিবিরকে দিয়ে। আজকে বাংলাদেশের বিষধর দুটি সাপের অবস্থান এখনো রয়েছে।’

‘আত্ম-অহমিকা এসব ভুলে গেলে কাজ হবে না। ক্ষমতায় আছি-এই আত্মপ্রসাদে কাজ হবে না। সতর্ক থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, ওই বিষধর সাপেরা, যখন আমাদের ঐক্যবদ্ধতা দেখে জনগণের কোলাহল দেখে, তারা যখন মুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষের ‘জয় বাংলা' স্লোগান দিতে দেখে, তখনই তারা গর্তের ভেতর ঢুকে যায়। যখনই দেখে লোকের কোলাহল দুর্বল হয়ে এসেছে, আমাদের ভেতরে অনৈক্য, আমরা অসতর্ক, তখনই ওরা পেছন থেকে ছোবল হানে।’

নানক আরও বলেন, ‘সাঈদীকে (জামায়াত নেতা) চাঁদে দেখা গেছে-এই কথা বলে তারা সারাদেশে জ্বালাও-পোড়াও করেছে। সারাদেশে পেট্রোল বোমা মেরে মানুষ হত্যা করেছে। এই শক্তি এই আগস্ট মাসেই তারা সিরিজ বোমা হামলা চালিয়েছিল, ২১ আগস্ট আমাদের দূরদর্শী নেতা শেখ হাসিনাকে হত্যার জন্য চালিয়েছিল গ্রেনেড হামলা।’

সরকার মানুষের মৌলিক অধিকার হরণ করছে-বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে আওয়ামী লীগের এই নেতা বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব, আমাদের দোষ দিয়ে কী লাভ! মানুষের কাছে চিহ্নিত হয়ে গেছেন। মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। আর মানুষ থেকে যেহেতু বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন সেই কারণেই আন্দোলন আন্দোলন খেলা আর হবে না।’

সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। সভায় উপস্থিত ছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুণ, বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংবাদিক স্বদেশ রায়, আওয়ামী লীগের পরিবেশ ও বন উপ-কমিটির সদস্য এবং দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।



আমার বার্তা/২৯ আগস্ট ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন