শিরোনাম :

  • আজ প্রধানমন্ত্রী ৭ বিদ্যুৎকেন্দ্র উদ্বোধন করবেন তিনটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি পুনর্গঠন বিমানে এল ২২৫টি অস্ট্রেলিয়ান গরু সৌদি থেকে ফিরছেন নির্যাতনের শিকার সেই সুমি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের নতুন সভাপতি ওয়াটসন
বর্তমানে দুর্নীতি আর লুটপাটের রাজত্বে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ : রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ১৫:০৫:০১
প্রিন্টঅ-অ+


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হাত-পা ক্ষমতাসীন দলের কাছে বাঁধা রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, দুদক সরকার বিরোধী নেতাকর্মীর পিছনে বেপরোয়াভাবে ছোটাছুটি করলেও দেশের প্রতিটি কাতে যখন দুর্নীতি মহামারী আকার ধারণ করেছে, তখন তারা নীরব ভূমিকা পালন করেছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, বর্তমানে দুর্নীতি আর লুটপাটের রাজত্বে পরিণত হয়েছে বাংলাদেশ। দুর্নীতি এখন মহামারী আকার ধারণ করেছে। দেশের আর্থিক খাত আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ব্যাংকগুলো তারল্য সংকটে ধুঁকছে। বাংলাদেশ ব্যাংক খেলাপি ঋণের ব্যাপারে দক্ষিণ এশিয়ায় শীর্ষে, যা ১২ শতাংশে এসে দাঁড়িয়েছে। ধানের ন্যায্য মূল্য না পেয়ে শোকে-দুঃখে কৃষক ধান পুড়িয়ে দেয়, কোরবানির চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পেয়ে মানুষ চামড়া মাটির নিচে পুঁতে রাখে, অথচ দেশের সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে চলছে হরিলুট।

তিনি আরও বলেন, গত পহেলা সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ব্যাংকগুলোতে সুদের হার বেশি হওয়ায় নাকি সবাই ঋণ খেলাপি হচ্ছে। সরকার প্রধানের কাছ থেকে এমন প্রশ্রয় পাওয়ার কারণে ব্যাংকিং খাতে অস্থিরতা ক্রমশ বেড়েই চলেছে। ফলে ব্যাংকগুলোতে এখন মূলধন সংকট দেখা দিয়েছে। টাকা পাচারকারী, ব্যাংক ডাকাত আর ঋণ খেলাপিদের বেপরোয়া লুটপাটে দেশের ব্যাংকগুলো প্রায় দেউলিয়া। শেয়ার বাজারের লুটপাট ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের নিঃস্ব করে দিচ্ছে, অথচ সরকার নির্বিকার। লুটপাটের কারণে গত কয়েক মাসে শেয়ার বাজার থেকে বিদেশিরা ৬০০ কোটি টাকা পুঁজি প্রত্যাহার করে নিয়েছে।

বিএনপির এই নেতা বলেন, কেবল ব্যাংক আর শেয়ার বাজার নয়, দুর্নীতির দুরন্ত গতি চলছে সরকারের সব প্রকল্প এবং প্রতিষ্ঠানজুড়ে। চারদিকে শুধু ‘উল্টে পাল্টে দে মা, লুটেপুটে খাই’ অবস্থার বিস্তার ঘটেছে।

রিজভী বলেন, নানা প্রকল্পের নামে ক্ষমতাসীন দলের লুটেরাদের কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত হয়ে এখন প্রশাসনের লোকজনও জড়িয়ে পড়েছে স্বেচ্ছাচারিতা আর দুর্নীতিতে। হারিয়ে গেছে জবাবদিহিতা আর শৃংখলার সব রীতিনীতি। পুকুর কাটা শিখতে রাজশাহীর বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ১৬ কর্মকর্তা রাষ্ট্রের ১ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয় করে ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, আবার মশা মারা শিখতে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা। সিলেট বিভাগে বক্স-কালভার্ট বানাতে কনসালটেন্সি বাবদ খরচ করা হয়েছে দেড় কোটি টাকা! গত চার বছরের বেশি সময় নিয়ে ঢাকা ওয়াসার একটি পানি পরিশোধন প্রকল্প শেষ হয়েছে। প্রকল্প ব্যয় ছিল ৩ হাজার ৮শ কোটি টাকা। সম্প্রতি এই প্রকল্পটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করার কয়েক মিনিটের মধ্যেই পানির পাইপ ফেটে গেছে। ইতোমধ্যে সিলেটের এক কারা কর্মকর্তার বাসায় ঘুষের ৮০ লাখ টাকা পাওয়া, স্বাস্থ্য বিভাগের চতুর্থ শ্রেণির আবজাল দম্পতির দেড় হাজার কোটি টাকার সম্পদের কাহিনী হারিয়ে যেতে না যেতেই রূপকথার পর্দার কাপড়, পুকুর খনন শিক্ষা, বই কাহিনী আর মশা মারা শেখার নামে বিদেশে বিনোদন ভ্রমণের খবর ফাঁস হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন,সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুস সালাম আজাদ, আবদুল আউয়াল খান সহ-দফতর সম্পাদক মুহাম্মদ মনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।



আমার বার্তা/০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন