শিরোনাম :

  • ঢাকা-ম্যানচেস্টার-সিলেট-ঢাকা ফ্লাইট ৪ জানুয়ারি থেকে ঘর থেকে কোরিয়ান পপ তারকার লাশ উদ্ধার ডিভোর্স নিয়ে মুখ খুললেন অভিনেতা সিদ্দিক ২০ অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে মহাখালীর স্টার সিনেপ্লেক্স অক্সিজেনের সিলিন্ডার ছাড়াই পানির গভীরে ডুবুরি!
মতপ্রকাশের কারণে হত্যা সংবিধানের ওপর আঘাত : ড. কামাল
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১০ অক্টোবর, ২০১৯ ১৪:০৩:১৫
প্রিন্টঅ-অ+


মতপ্রকাশের কারণে কাউকে পিটিয়ে হত্যা করা সংবিধানের ওপরে আঘাত মন্তব্য করে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যার বিচার বিভাগীয় তদন্ত দাবি করেছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে গণফোরাম আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যার বিচারের দাবিতে ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে গণফোরাম।

আবরার হত্যার উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘তদন্ত করে সত্যিকারের ঘটনা উদ্ঘাটন করতে হবে। এটা কোনো দলীয় বক্তব্য নয়। ১৬ কোটি মানুষের একজন হিসেবে আমি এই দাবি জানাচ্ছি।’

এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘লেজুড়বৃত্তি করা ছাত্ররাজনীতি আমরা কোনদিনই চাই না। তবে স্বাধীন ছাত্ররাজনীতি থাকতে পারে।’

আবরার হত্যাকাণ্ডে বিচার বিভাগীয় তদন্ত চান কি-না এমন প্রশ্নের জবাবে ড. কামাল হোসেন বলেন, ‘বিচার বিভাগীয় হতে পারে সাথে অন্যরাও থাকতে পারেন।’

দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতিতে আপনার দলের সংসদ সদস্য পদত্যাগ করবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সেটা দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী। তিনি বলেন, ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মী এমন বেপরােয়া হয়ে উঠেছে যে, তারা আজ ফ্র্যাঙ্কেনস্টাইনের মতাে আচরণ করছে। হলে হলে টর্চার সেল। বুয়েট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ইডেন মহিলা কলেজ, ঢাকা কলেজের হােস্টেলগুলােতে টর্চার সেল রয়েছে। টার্গেটে থাকা শিক্ষার্থীকে টর্চার করার আগে দেয়া হয় বিরােধী কোনাে সংগঠনের তকমা। এটা অত্যন্ত ন্যক্কারজনক, রাজনৈতিক ভণ্ডামি ও কৌশলী প্রতারণা।

সুব্রত চৌধুরী বলেন, সার্বিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেশ আজ ধ্বংসের মুখোমুখি। জনগণের মালিকানা জোরপূর্বক ছিনতাই করে ক্ষমতা দখলের কারণে আজ গণতন্ত্রের শেষ চিহ্নটুকুও মুছে যেতে বসেছে। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নেই। শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্যে রাষ্ট্রের সকল অঙ্গ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করা হয়েছে। গণতান্ত্রিক ন্যূনতম ব্যবস্থার পরিবর্তে কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ক্ষমতা যেখানে কেন্দ্রীভূত দুর্নীতির মহোৎসব সেখানে দৃশ্যমান। বর্তমান ভিন্নমত দমন, মিথ্যা মামলা, গুম, বিচার বহির্ভূত হত্যা, সভা-সমাবেশে বাধা-নিষেধ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন তৈরির মাধ্যমে সরকার প্রকাশ্যে জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণ করেছে। দেশে আজ ক্যাসিনাে সংস্কৃতি। মানুষের জীবনের কোনাে নিরাপত্তা নেই।

এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সায়ীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য মেজবাহ উদ্দিন, মহসীন রশিদ, মোকাববির খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিন আহমেদ আফসারি, মোস্তাক আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক লতিফুল বারি হামিম প্রমুখ।



আমার বার্তা/১০ অক্টোবর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন