শিরোনাম :

  • আজ পিকেএসএফ উন্নয়ন মেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ যে চ্যানেলে দেখা যাবে বাংলাদেশ-ভারত টেস্ট ম্যাচ সৌদি অ্যারামকোতে প্রথমবারের মতো নারী প্রধান ইসরায়েলি হামলায় গাজায় রক্তবন্যা, ২৪ ফিলিস্তিনি নিহত
নির্বাচন হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাছ ধরতে যান : দুদু
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:২১:০৫
প্রিন্টঅ-অ+


দেশে নির্বাচনের নামে একটি ‘হাস্যকর’ পরিস্থিতি আছে মন্তব্য করে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেছেন, নির্বাচন কমিশনার আছেন, নির্বাচন হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাছ ধরতে যান।

বুধবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে আবরার হত্যার প্রতিবাদ ও খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্য তিনি এ কথা বলেন।

দুদু বলেন, ‘গণতন্ত্রের মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তিনি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন- এটা তার বড় পরিচয় নয়। তিনি বাংলাদেশে নয়, সারা বিশ্বের গণতন্ত্রের পক্ষের দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার একমাত্র জীবিত নেত্রী।’

তিনি বলেন, ‘দেশ একটি অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে চলছে। দেশে নির্বাচন না, নির্বাচনের নামে একটি হাস্যকর (বলেছেন ফানিপূর্ণ) পরিস্থিতি আছে। নির্বাচন কমিশনার আছেন, নির্বাচন হলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাছ ধরতে যান। সর্বশেষ উপজেলা ও উপনির্বাচনে এই জিনিসটা আমরা দেখেছি।’

দেশে বিচারালয় আছে, প্রশাসন আছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আছে কিন্তু আবরারের মতো মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেই, বিচারের কোনো লক্ষণ নেই বলে অভিযোগ করেন দুদু। তিনি বলেন, সরকার যদি নির্লজ্জ না হতো, তাহলে অনেক আগেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বাড়ি পৌঁছে দিয়ে আসত।

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘এখন আমাদের একটি পুতুল নাচ দেখানো হচ্ছে। যেখানে হাত দিচ্ছে সেখানেই টাকা। যেখানেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যাচ্ছে সেখানেই মাদক, ক্যাসিনো, এক দুই কোটি টাকা নয়, শত শত কোটি টাকা। নিচে যদি এই অবস্থা হয় তাহলে ওপরের কী অবস্থা দেখা দেবে!’

এদেশে যত ভালো কাজ হয়েছে সব ছাত্ররাজনীতি, ছাত্র আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেন জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, আবরারকে হত্যা করার পর ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ করার প্রশ্ন উঠেছে। আবরার ছাত্ররাজনীতির কারণে মরে নাই, অপছাত্ররাজনীতির কারণে মারা গেছে। আর এই অপছাত্ররাজনীতির যারা জনক, নেতা-নেত্রী তাদের উচিত হচ্ছে, এই হত্যার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া।

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের বিরোধিতা করে দুদু বলেন, ‘ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া মানে হলো স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া, ছাত্ররাজনীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার অর্থ হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে, ’৭১ সালের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া।’

বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘আজকে শুধু খালেদা জিয়ার মুক্তি নয়, গণতন্ত্রের মুক্তি নয়, বাংলাদেশটাকে রক্ষা করার জন্য যদি রাস্তায় নেমে আসতে পারি, তাহলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই স্বৈরতান্ত্রিক সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনো সুযোগ নাই।’

বিএনপির সহ-প্রচার সম্পাদক আমিরুল ইসলাম খান আলীমের সঞ্চালনায় সভায় অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারি বাবু, ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আজিজুল বারী হেলাল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান প্রমুখ বক্তব্য দেন।



আমার বার্তা/২৩ অক্টোবর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন