শিরোনাম :

  • দুবাই শাসকের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক আরব আমিরাতের আরও বড় বিনিয়োগ প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সহজে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ আফগানিস্তানের রোনালদোর গোলে ইউরোর মূলপর্বে পর্তুগাল গ্রিজম্যান ঝলকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইউরোর মূলপর্বে ফ্রান্স
ভারত-বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে ব্যক্তিগত কন্টাক্ট অত্যন্ত জরুরি : জি এম কাদের
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১৪:৪৪:৫১
প্রিন্টঅ-অ+


জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করলেও দুই দেশের জনগণের মধ্যে সংযোগ বেশি না থাকায় অনেক ভুল বুঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। তাই দুই দেশের জনগণের মধ্যে আস্থা বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, ভারত একটা বড় রাষ্ট্র, অর্থনৈতিকভাবেও শক্তিশালী। তাই ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতে পারলে আমরা উপকৃত হব। শুধু আমাদের নিজেদের মধ্যে একটু দূরত্ব কমিয়ে আনতে পারলেই আমরা আরও সুফল পাব।

সোমবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর শান্তিনগরে হোটেল হোয়াইট হাউসে সার্ক কালচারাল সোসাইটির উদ্যোগে আয়োজিত এক সংর্বধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। ভারতের ত্রিপুরা বিধানসভার স্পিকার ও ভারতীয় জনতা পার্টির প্রবীণ নেতা শ্রী রেবোতি মোহন দাস এবং ত্রিপুরা রাজ্য সরকারের পর্যটন ও পরিবহনমন্ত্রী শ্রী প্রণজিৎ সিংহ রায়সহ ১৪ জনকে সংর্বধনা দেয়া হয়।

জি এম কাদের বলেন, ‘ভারত এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক অত্যন্ত শক্তিশালী ও ঐতিহাসিক। সত্যিকার অর্থে দুই দেশের মধ্যে আত্মীয়তা আছে। ত্রিপুরা, আসাম রাজ্যে আমাদের অনেক আত্মীয় আছে। এ বন্ধন শুধু রাজনৈতিক নয়, সবদিকের বন্ধনেই আমরা আবদ্ধ হয়ে আছি।’

তিনি বলেন, ‘এ বন্ধুত্বটাকে কাজে লাগিয়ে সামনে আরও অগ্রসর হতে চাই। বাংলাদেশের রাজনৈতিক সম্পর্ক অত্যন্ত সুসম্পর্ক। এর আগে কিছু সমস্যা ছিল, বর্তমান সরকার এগুলোকে নির্মূল করে দিচ্ছে। আগের মতো অনুপ্রবেশকারীদের দ্বারা সন্ত্রাসী কার্যকালাপ এখন আর নেই।’

ভারত এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারসন টু পারসন (ব্যক্তিগত) কন্টাক্ট অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান। এর কারণ হিসেবে তিনি বলন, ‘বৃহৎ একটা পটভূমিতে রাজনৈতিকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এগুলো জনমনে অনেক সময় সংশয় ও বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে। যদি জনগণের সঙ্গে জনগণের বন্ধুত্বটা থাকলে এ সংশয় থাকে না।’

সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি উদাহরণ টেনে জি এম কাদের বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি না পেলেও ফেনী নদীর পানি দিচ্ছে সরকার। এটা নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। আসলে আমরা যখন কোনো নদীর পানি শেয়ারের কথা বলি, সেটা ৫, ১০, ৫০ হাজার কিউসেক বা এরও বেশি পানি নিয়ে কথা হয়। অথচ ফেনী নদী থেকে ১ দশমিক ২৮ কিউসেক পানি দেয়া হবে। এটা কোনো বড় ধরনের বিষয় নয়।’

তিনি বলেন, ‘এক্ষেত্রে খুব অল্প পরিমাণ বন্ধুত্বের খাতিরে বাংলাদেশ ভারতকে দিয়েছে। এর বিনিময়ে হয়তো অনেক বড় জিনিস আমরা পেতে পারি। আসামের নগরিকত্ব নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের মাঝে একটা ভীতির সঞ্চার হয়েছিল। মানুষের মনে হয়েছিল সেখান থেকে হয়তো মুসলমানদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠাবে। এটা নিয়ে বাংলাদেশের জনমনে একটা আতঙ্গ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে ভারতের প্রধানমন্ত্রী এটা নিশ্চিত করেছেন যে, এটা নিয়ে বাংলাদেশের ভয়ের কোনো কারণ নেই। আর এ পর্যন্ত আমরা এর কোনো কুফল আমরা পাইনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদি মানুষে মানুষে সংযোগটা আরও বাড়ে তাহলে এসব সামান্য ব্যাপার নিয়ে ভুল বুঝাবুঝি হয় না। এ কারণে আমি সার্ক কালচারাল সোসাইটিকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কারণ তারা ভারতের সঙ্গে মানুষে মানুষে সংযোগ বাড়ানোর কাজ করছে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সার্ক কালচারাল সোসাইটির চেয়ারম্যান এবং জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি ও ঢাকা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা। সার্ক কালচারাল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাংগঠনিক সম্পাদক সুজন দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, সার্ক কালচারাল সোসাইটির অন্যান্য নেতা এবং ভারতীয় প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।



আমার বার্তা/০৪ নভেম্বর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন