শিরোনাম :

  • দুবাই শাসকের সঙ্গে শেখ হাসিনার বৈঠক আরব আমিরাতের আরও বড় বিনিয়োগ প্রত্যাশা প্রধানমন্ত্রীর ওয়েস্ট ইন্ডিজকে সহজে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ আফগানিস্তানের রোনালদোর গোলে ইউরোর মূলপর্বে পর্তুগাল গ্রিজম্যান ঝলকে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ইউরোর মূলপর্বে ফ্রান্স
আ.লীগের হৃদয়ে দেশপ্রেম নেই, আছে দিল্লিপ্রেম : রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০৪ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:৪২:২৮
প্রিন্টঅ-অ+


‘বিএনপির মেরুদণ্ড নেই’ আওয়ামী লীগের নেতাদের এমন মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ বলেছেন, ‘আপনারা বলেন, বিএনপির মেরুদণ্ড নেই? আমি বলব, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মেরুদণ্ড নিউজপ্রিন্টের কাগজের মেরুদণ্ড। যেমন সাদা কাগজের চেয়ে নিউজপ্রিন্ট ধরলেই ছিঁড়ে যায় তেমনি আওয়ামী লীগ নেতাদের মানব মেরুদণ্ড নেই। তিনি বলেন, তারা লোপাট, দুর্নীতিবাজ ও চোর সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছে। তাদের মানব মেরুদণ্ড থাকলে সমর্থন দিত না। তিনি আরও বলেন, তাদের হৃদয়ে দেশপ্রেম নেই। আছে দিল্লিপ্রেম।

সোমবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে এক দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী আহমেদ এসব কথা বলেন। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকার সুস্থতা কামনায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উদ্যোগে এই আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল হয়।

সরকারের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ বলেন, “আজকে দেশের অবস্থা বিপন্ন। দেশকে ভয়ঙ্কর অন্ধকারময় গুহার দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী গতকাল বলেছেন, বাবা-মা শিখিয়েছে ‘দেশকে কীভাবে ভালোবাসতে হয়।’ কিন্তু এই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আমলেই ক্যাসিনোর খনি, জুয়া আর টাকার খনি তৈরি হয়েছে। যেমন, তার বাবা বলেছিলেন, ‘সবাই পায় সোনার খনি, আর আমি পেলাম চোরের খনি।’ আজকে তাদের মুখে দেশপ্রেমের কথা শুনতে হয়। অথচ প্রধানমন্ত্রী এবং তার একজন সতীর্থ মতিয়া চৌধুরী হিন্দি ভাষায় কথা বলেন। তাদের মাঝে তো দেশপ্রেম নেই। তাদের হৃদয়ে দেশপ্রেম নেই। আছে দিল্লিপ্রেম।”

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া অসুস্থ হলেও তাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যা কথা বলছেন। একজন মুমূর্ষ রোগী নিয়েও তারা ডাহা মিথ্যাচার করেন। তিনি (খালেদা) নির্দোষ। তার বিরুদ্ধে যে দুই কোটি টাকার অভিযোগ দেয়া হয়েছে সেই টাকা ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনা তাকে বাইরে রাখবেন না। এজন্য তাকে নির্বাচনের আগে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। তার চিকিৎসকেরা বলছেন, তিনি গুরুতর অসুস্থ।’

রিজভীর বলেন, ‘শেখ হাসিনার মন্ত্রী, এমপিরা ডাহা মিথ্যাচার করছেন। নির্দোষ লোককে মিথ্যা মামলায় জেল খাটাচ্ছেন। কই, প্রধানমন্ত্রী আপনার আমলে ৯ লাখ কোটি টাকা গেছে, তার জবাব তো দেননি? বেসিক ব্যাংকে আপনার লোকেরা টাকা লুট করেছে, তার জবাব তো দেননি। নির্দোষ লোককে আপনার আদালত, অনুগত বিচারক, পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে জেল খাটাচ্ছেন, সে বিষয়ে তো কিছু বলেননি। পুলিশ নির্লজ্জভাবে প্রধানমন্ত্রীর কথা শুনছে। এই তো উপহার দিয়েছেন আপনি। আজকে অর্থনীতিবিদ ও সিপিডি থেকে শুরু করে সবাই বলছে, ব্যাংকে টাকা নেই। অথচ তারা উন্নয়নের জোয়ারের কথা বলেন। আসলে প্রধানমন্ত্রী ও তার দলের লোকেরা ব্যাংকের টাকা লুট করে তাদের লজ্জা, শরম ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। তাদের লজ্জা, শরম জমা আছে ব্যাংকের ভল্টে। তাই কথা বলতে প্রধানমন্ত্রীর লজ্জা লাগে না। তারা একের পর এক নির্দ্বিধায় মিথ্যা কথা বলছেন।’

তিনি বলেন, ‘তারেক রহমান না কি মালয়েশিয়ায় ফ্যাক্টরি তৈরি করেছেন। কই, আপনি ১০ বছরেও তার প্রমাণ দিতে পারেননি। আপনি জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু তারা আপনার কথায় বিভ্রান্ত হবে না। আপনার নেতৃত্বে ৯ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে। আপনার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে টর্চার সেল গঠন করা হয়েছে।’

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আজকে আওয়ামী লীগ নেই। কারণ আজকে যাকেই ক্যাসিনো বা অন্যান্য দুর্নীতিতে ধরা হয়, তারা বলে আগে বিএনপি করত। সুতরাং বিএনপি থেকে লোক গিয়ে আওয়ামী লীগ ভরে গেছে। এখন আওয়ামী লীগ আর কেউ করতে চায় না। যা তাদের বক্তব্যেই প্রমাণিত হয়।’

রিজভী আহমেদের ভাষ্য, মিথ্যার বেসাতি করে কিছুদিন টিকে থাকা যায় কিন্তু দীর্ঘদিন থাকা যাবে না। সময় ঘনিয়ে এসছে। যারা গণতন্ত্রের পক্ষে কথা বলেন, বাক্স্বাধীনতার কথা বলেন, তাদেরকে এই সরকার আওয়ামী লীগের গুহার মধ্যে বন্দি রাখতে চায়। আজকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই পরিণতিই ভোগ করছেন। জনগণের সর্বাধিক প্রিয় নেত্রী গণতন্ত্রের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়াকে দস্যুদলের সরকারের কারাগারে বন্দি করে রাখা হয়েছে। প্রত্যেকটি কারাগার আজকে আওয়ামী ডাকাত দলের গুহার মধ্যে পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তারা তারেক রহমান ও বেগম জিয়াকে নিয়েও আতঙ্কে আছে। তারেক রহমান ছয় হাজার মাইল দূরে থাকলেও তাকে নিয়ে ষড়যন্ত্র করছে। জনবিচ্ছিন্ন সরকার দুঃস্বপ্ন দেখে-এই বোধহয় তারেক রহমান চলে এলো, খালেদা জিয়া মুক্তি পেল।’

ঢাকার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা সাদেক হোসেন খোকা প্রসঙ্গে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘আমাদের মাঝে খণ্ডকালীন শিক্ষক, অ্যাডভোকেট আছে কিন্তু পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিবিদের অভাব। আর সাদেক হোসেন খোকা হলেন পূর্ণাঙ্গ রাজনীতিবিদ।’

বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর বিএনপির (দক্ষিণ) সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের অভিযোগ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কখনও আপস না করায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা দিয়ে কারাগারে বন্দি রাখা হয়েছে। ভীষণ অসুস্থ হলেও তার সুচিকিৎসা দেয়া হচ্ছে না। আমরা অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি ও সুচিকিৎসা দাবি করছি।

এস এম জিলানীর সভাপতিত্বে ও নজরুল ইসলামের পরিচালনায় দোয়া মাহফিলে অংশ নেন বিএনপির স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহ-সভাপতি নবী উল্লাহ নবী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সিনিয়র সহ-সভাপতি মোস্তাফিজুর রহমান, সহ-সভাপতি গোলাম সারোয়ার, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদির ভূঁইয়া জুয়েল, সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, মহানগর উত্তরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম রবিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রফিকুল ইসলাম, সরদার মো. নূরুজ্জামান, মো. হারুন-অর-রশিদ, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মোর্শেদ আলমসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মী।

আলোচনা শেষে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের আহ্বায়ক শাহ নেছারুল হক।



আমার বার্তা/০৪ নভেম্বর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন