শিরোনাম :

  • পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই : স্পিকার আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস আজ পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান : রাষ্ট্রপতি
রাঙ্গার প্রতি রিজভীর ধিক্কার
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১২ নভেম্বর, ২০১৯ ১৩:৩৩:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+


এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে নিহত শহীদ নূর হোসেনকে নিয়ে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা অশ্রাব্য বক্তব্য দিয়েছেন উল্লেখ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ রাঙ্গার প্রতি ধিক্কার জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি শহীদ নূর হোসেন সম্পর্কে রাঙ্গার অশ্রাব্য ভাষা ব্যবহারের তীব্র ধিক্কার জানাই, প্রতিবাদ জানাই।

মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) সকালে নয়াপল্টনে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের উদ্যোগে মিছিল বের হয়। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী আহমেদ এ মিছিলে নেতৃত্ব দেন। মিছিলটি বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনের থেকে শুরু হয়ে নাইটিঙ্গেল মোড় ঘুরে আবারও বিএনপি কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। মিছিল শেষে পথসভায় সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মশিউর রহমান রাঙ্গার সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ বলেন, স্বৈরাচারের কুৎসিত আত্মা দিয়ে তৈরি জাতীয় পার্টি তৈরি বলেই মশিউর রহমান রাঙ্গাদের মতো রাজনৈতিক ‘ভবঘুরেরা’ গণতন্ত্রের জন্য জীবন উৎসর্গকারী নূর হোসেনের মতো শহীদদের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য কথা বলতে পারেন। এরা লুটপাটের আদর্শে উদ্বুদ্ধ গণতন্ত্রের শত্রু বলেই গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ নূর হোসেনের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাতে পারেন। সেজন্য তারা গণতন্ত্র হত্যাকারী আরেকটি শক্তি বর্তমান হানাদার শাসকদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে গণতন্ত্র এবং সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই দুই স্বৈরাচার এখনও গণতান্ত্রিক প্রথা-প্রতিষ্ঠানকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য গণতান্ত্রিক শক্তিকে গুম ও খুনের মাধ্যমে বিভিষিকা তৈরি করে রেখেছে। অথচ শহীদ নূর হোসেন আওয়ামী লীগেরই কর্মী ছিলেন। কিন্তু নির্লজ্জভাবে ‘৯০ এর পরাজিত স্বৈরাচারের ‘পথকলিদের’ সঙ্গে জোট করে নূর হোসেনদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে গণতন্ত্রকে দেশের মাটি থেকে উচ্ছেদ করেছে।

রিজভীর ভাষ্য, ‘হেনস্তা ও অপমানের ভয়ে নাগরিক সমাজ এখন স্বাধীন মতো প্রকাশের সাহস হারিয়ে ফেলেছে। এই দুঃসহ অবস্থার মধ্যেও অবৈধ সরকারের পক্ষে একদল উচ্ছিষ্টভোগী কিছু লোক গুণকীর্ত্তনে মানুষ এখন অতীষ্ঠ হয়ে উঠেছে। দলীয়করণ, ভীতিপ্রদর্শন ও নানা অপকৌশলের মাধ্যমে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে আজ প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। সারাদেশে প্রকাশ্য সন্ত্রাস করছে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয় না। তাদের কোনো বিচার হয়না।’

তিনি বলেন, ‘মিডনাইট নির্বাচনের অবৈধ সরকার দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে সম্পূর্ণভাবে গায়ের জোরে বন্দী করে রেখেছে। বন্দী করার মধ্য দিয়ে তারা শুধুমাত্র দেশের একজন জনপ্রিয় নেত্রীকেই বন্দী করে রাখেনি, বরং তারা গোটা দেশ, গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তি স্বাধীনতা এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকেও এক শ্বাসরুদ্ধকর বন্দীশালায় আটকে রেখেছে।’

বিএনপির এই সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মনে করেন, বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র ফিরবে এবং দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিরাপদ হবে, দেশের মানুষ নিরাপত্তা ফিরে পাবে। তিনি বলেন, দেশনেত্রীর মুক্তির জন্য আমাদের আর বসে থাকলে চলবে না, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে।

খালেদা জিয়া বর্তমানে ভীষণ অসুস্থ বলে জানান রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। তিনি বলেন, ‘তিনি (খালেদা জিয়া) চলাফেলা করতে পারছেন না, নিজ হাতে খেতে পারছেন না। এমতাবস্থায় সরকার প্রধানকে বলব-প্রতিহিংসার রাজনীতি ভুলে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়াকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। নইলে জনগণের তীব্র ক্ষোভে আপনার মসনদ ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।’

এ সময় অন্যদের মধ্যে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, জাতীয়তাবাদী যুবদল ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা শাহীন, ছাত্রদল নেতা কাউসারসহ বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।



আমার বার্তা/১২ নভেম্বর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন