শিরোনাম :

  • ত্রাণ তহবিলে দানের আহ্বান ঢাকা উত্তর সিটি মেয়রের প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ তহবিলে একদিনের বেতন দিল কোস্টগার্ড প্রধানমন্ত্রীর তহবিলে ভূমি মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীদের ১৫ লাখ টাকা তুর্কি সরকারের বিরুদ্ধে ২৮৮ দিনের অনশনে গায়িকার মৃত্যু
ভোটের তারিখ পরিবর্তনের দাবি বিএনপিপ্রার্থীর
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৬:৩৪:০১
প্রিন্টঅ-অ+


পরিকল্পিতভাবে ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে দাবি করে বিএনপির মেয়রপ্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, ছুটির ফাঁদ থেকে ভোট বাঁচাতে হলে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ২৭ ও ২৮ মার্চ সাপ্তাহিক ছুটির দিন। তাই অধিকাংশ নগরবাসী শহরের বাইরে চলে যাবেন। ঢাকা সিটি নির্বাচন ও চট্টগ্রাম উপ-নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। তাই এ ছুটির ফাঁদ থেকে ভোট বাঁচাতে হলে নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে মনোনয়ন ফরম জমা দিয়ে এসব কথা বলেন বিএনপির এই প্রার্থী।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঢাকায় যেভাবে ২৯ জানুয়ারির পরিবর্তে ৩১ জানুয়ারি নির্বাচন হয়েছে, তেমনি চট্টগ্রামেও দুই দিন পিছিয়ে নির্বাচন করলে কোনো সমস্যা হবে না।’

প্রসঙ্গত, নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুসারে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিন ২৯ মার্চ। সাধারণত ভোটের দিন সংশ্লিষ্ট এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২৬ মার্চ বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা দিবস, এরপর ২৭ ও ২৮ মার্চ যথাক্রমে শুক্র ও শনিবার। এই ছুটিতে নগরের অনেক ভোটার গ্রামের বাড়ি কিংবা বেড়াতে চলে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন নির্বাচনের প্রার্থীরা।

এ বছরের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম-৮ আসনের উপ-নির্বাচনে নির্বাচন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী মাত্র ২৪ শতাংশ ভোট পড়েছিল। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ভোট পড়েছিল ২৫.৩ শতাংশ। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩০ শতাংশের মতো। সেসময় নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থাগুলো জানায়, ঢাকা সিটি নির্বাচনে এত কম ভোটারের উপস্থিতি আগে কখনও দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সে সময় ভোটার উপস্থিতি কম হওয়ার কয়েকটি কারণের মধ্যে লম্বার ছুটির কথাও বলেছিলেন।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার জোট ফেমা জানায়, মূলত তরুণদের মধ্যে ভোট দেবার ব্যাপারে বিরাট অনীহা, নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের অনাস্থা, ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের আশঙ্কা, ভোটের আগে লম্বা ছুটি ও ভোটের দিনে পরিবহন সঙ্কটের কারণে দেশে ভোটার উপস্থিতি দিন দিন কমছে।

আওয়ামী লীগ, রাষ্ট্রযন্ত্র, নির্বাচন কমিশন সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে অভিযোগ করে বিএনপিপ্রার্থী শাহাদাত বলেন, সুষ্ঠু ভোট চাইলে নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে হবে। নৌকার প্রতীক মানেই সাত খুন মাফ, নৌকার প্রতীক মানেই লালদীঘিতে সমাবেশ, নৌকার প্রতীক মানেই রেলওয়ে চত্বরে সমাবেশ-এভাবে চলবে না।’

তিনি বলেন, ‘ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন, চট্টগ্রামের জননেতা আবু সুফিয়ানের উপ-নির্বাচনে আপনারা দেখেছেন, জনগণ ভোট সেন্টারবিমুখ হয়ে গেছে। তাদের ভোটসেন্টারমুখী করার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। ইসিকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও নগর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবু সুফিয়ান, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল হাশেম বক্করসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা।



আমার বার্তা/২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০/জহির


আরো পড়ুন