শিরোনাম :

  • ঢাকায় বাড়তে পারে তাপমাত্রা করোনার ছোবলে এবার চলে গেলেন এসআই মোশাররফ সপ্তাহে তিন দিন ছুটির বিধান আসছে নিউজিল্যান্ডে পেরুতে একদিনেই আক্রান্ত প্রায় ৩ হাজার
বিএনপির মহতী উদ্যোগকে মন্ত্রীরা তাচ্ছিল্য করছেন : রিজভী
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৩ মে, ২০২০ ১৪:৫২:১৯
প্রিন্টঅ-অ+


সরকারের মন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা নিরাপদ স্থানে বসে বিএনপির মহতী উদ্যোগের উপহাস ও তাচ্ছিল্য করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবীর রিজভী। বুধবার দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

রিজভী বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব থেকে শুরু করে সারাদেশে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা গত একযুগ ধরে ক্ষমতাসীনদের জেল জুলুম হয়রানি ও নির্যাতন নিপীড়ণের শিকার। তারপরও জাতির এই সংকটময় মুহুর্তে জনগণের দল হিসেবে বিএনপি বসে নেই। তবে জনবিচ্ছিন্ন সরকার বিএনপির এই ইতিবাচক কাজ সহ্য করতে পারছে না। কোথাও কোথাও আমাদের যেমন ত্রাণ বিতরণে বাধা দেয়া হচ্ছে তেমনিভাবে আমাদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়া হচ্ছে, তাদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

রিজভী বলেন, করোনা ভাইরাসে গোটা বাংলাদেশ এখন বিপর্যস্ত। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ আর মৃত্যুর হার। মাত্র দুই মাসেই ‘এশিয়ার হটস্পটে’ পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। সংক্রমণের এ সূচক ভয়ঙ্করভাবেই স্পষ্ট। আক্রান্তের হিসাবে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত-পাকিস্তানের পেছনে থাকলেও সংক্রমণ হারে এশিয়ার অর্ধশতাধিক দেশের শীর্ষে এখন বাংলাদেশ। আমরা এক অচিন্তনীয় দুর্দিন পার করছি। মানুষের প্রতিটি মুহূর্ত কাটছে এক অজানা ভয় আর আতঙ্কে। একদিকে মরণঘাতী করোনা ভাইরাসের ভয় অপরদিকে বেশুমার পরিবারে খাদ্যাভাব। চলছে নীরব দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি। দেশে প্রতিদিনই বেড়ে চলছে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। আরও বেশি সংখ্যক মানুষকে টেস্টের আওতায় আনা গেলে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে এমনটাই মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

তিনি বলেন, আমরা শুরু থেকেই সরকারকে দেশে দেশে করোনা ভাইরাসের তাণ্ডব সম্পর্কে সতর্ক করে আসছিলাম। প্রস্তুতি গ্রহণের জন্য আহ্বন জানাচ্ছিলাম। জনগণকে সচেতন করছিলাম। কী কী করা উচিৎ এবং উচিৎ নয়, সে পরামর্শও দেয়া হয়েছে। অথচ দেখলাম ভিন্ন চিত্র।

রিজভী বলেন, বিশ্বকে থমকে দেয়া মহামারি করোনা ভাইরাসের মতো এমন ভয়াল-বিপজ্জনক ঘাতক ব্যাধি নিয়ে জনবিচ্ছিন্ন এই সরকার এবং তাদের মন্ত্রীদের বক্তব্য মন্তব্যের ধরন দেখলে মনে হয় তারা এটাকেও ‘গুজব আর ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দিতে চেয়েছিলেন। এই মে মাসেই আটক করা হয়েছে আটজন সাংবাদিককে। আওয়ামী লীগ মনে করেছিল, জনগণকে ডাণ্ডা মেরে ঠান্ডা রেখে কিংবা জনগণের বিরুদ্ধে র্যাব-পুলিশ লেলিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলা করবে। তবে এতদিন পরে এসে অবশেষে ওবায়দুল কাদের সাহেবরা মনে হয় পরিস্থিতির ভয়াবহতা একটু আঁচ করতে পেরেছেন।

রিজভী বলেন, গতকাল ওবায়দুল কাদের সাহেব স্বীকার করেছেন, ‘দেশের করোনা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে। যেভাবে ক্রমশ: বেড়ে চলছে আক্রান্তের সংখ্যা তাতে সামনের দিকে পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার ইঙ্গিত পাচ্ছি।’ তারা যে করোনার চেয়েও শক্তিশালী, তাহলে এখন সেই শক্তি কোথায় গেল ? এখন কেন তারা ঘরের ভিতর বসে শুধু অসত্য ও বিভ্রান্তির ধারাবিবরণী দিচ্ছেন ?

তিনি বলেন, এই ভয়াবহ দুর্দিনেও ক্ষমতাসীনরা দেশকে মগের মুল্লুকে পরিণত করেছে। কিছু বন্ধ কিছু খোলা, এই বন্ধ এই খোলা, সিদ্ধান্তহীনতা ও ঘন ঘন সিদ্ধান্ত বদলের অস্থিরতা, আয়হীন মানুষের হাতে খাদ্য ও বাঁচার উপকরণগুলো পৌঁছাতে ব্যর্থতা, ছুটি না লকডাউন তা নিয়ে ধোঁয়াসা এবং এইসবের কারণে মানুষের বাইরে আসা আর এই বাইরে আসার জন্য সরকারের সব ব্যর্থতার দায় জনগণের ওপর চাপাবার চালাকি করা হচ্ছে।



আমার বার্তা/১৩ মে ২০২০/জহির







 


আরো পড়ুন