শিরোনাম :

  • আজ বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস আজ হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর ৫৭তম মৃত্যুবার্ষিকী কৃষিতে আমাদের ব্যাপক উন্নয়ন বিশ্বের নজর কেড়েছে : প্রধানমন্ত্রী সুস্থ মাটির একটি অপরিহার্য উপাদান জীববৈচিত্র্য : রাষ্ট্রপতি
ভোটে নয়, রাজপথেই সরকারের পতন ঘটাতে হবে : হাফিজ উদ্দিন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
১৬ নভেম্বর, ২০২০ ১৬:৪৯:২১
প্রিন্টঅ-অ+


‘ভোটে নয়, রাজপথেই গণঅভ্যুত্থানে সরকারের পতন ঘটাতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীর বিক্রম)।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জিয়াউর রহমান সমাজকল্যাণ পরিষদের উদ্যোগে ‘ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর বিপ্লব ও সংহতি দিবসের তাৎপর্য এবং গৃহবন্দি থেকে নিঃশর্ত মুক্তির করণীয়’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা হয়।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু জনগণের ভোটের মাধ্যমে আর সরকার পরিবর্তনের সুযোগ নেই। যতদিন এই সরকার আছে ততদিন ভোটকেন্দ্রে সাধারণ নাগরিক যেতে পারবে না। সুতরাং একমাত্র উপায় গণঅভ্যুত্থান।’

হাফিজ বলেন, ‘ওই যে আমি বলেছি, দুই লাখ লোক দুদিন যদি রাস্তায় থাকেন পালিয়ে যাবে তারা (আওয়ামী লীগ সরকার)। সেই সাহস সঞ্চয় করে আসুন আমরা আগামী দিনে এই সরকারকে বিতাড়িত করতে রাজপথে আবার নেমে আসি।’

চলমান ব্যবস্থায় নির্বাচনগুলোতে দলের অংশগ্রহণ বিষয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘কেন আমরা এ ধরনের নির্বাচনে যাই? যখন নির্বাচনে যাওয়া উচিৎ না তখন যাই, যখন যাওয়া উচিৎ তখন যাই না। যেদিন সংসদে যাওয়া উচিৎ না সেই সংসদে গিয়ে আমরা বসে থাকি। যার জন্য আজকে বিএনপিকে ৪০০ ভোট দেয়। সিরাজগঞ্জ-১ আসনে ওদের প্রার্থী পেয়েছে এক লাখ ৮৮ হাজার ভোট আর আমাদের প্রার্থী পেয়েছে ৪০০ ভোট।’

‘আরে বিএনপির এজেন্টই তো হাজারের বেশি। আমাদের কোনো এজেন্ট ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন না, কোনো ভোটার কেন্দ্রে যেতে পারে না এমনকি আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভোটকেন্দ্রে যেতে পারে না- এই হলো বাংলাদেশের গণতন্ত্র।’

তিনি বলেন, ‘যদি আমরা জিয়াউর রহমানের আদর্শের অনুসারী হয়ে থাকি, তাহলে আমাদের দলেও তার প্রতিফলন থাকতে হবে। জিয়াউর রহমানের মতো সৎ হতে হবে, তার মতো সাহসী হতে হবে এবং দেশের স্বার্থে কখনও কোনো ধরনের আপস করা যায় না।’

‘বেগম খালেদা জিয়া আপস করেননি। কিন্তু আমরা অনেকে আপস করে বসে আছি। আজকে দুঃখের বিষয়, খালেদা জিয়ার মতো নেত্রী বছরের পর বছর জেলে কাটালেন আমরা কী করতে পেরেছি?’

বিএনপির এ ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় অশনিসংকেত আমি দেখতে পারছি, বিএনপি তো এখন ডাক দিলে রাস্তায় নামাতে পারে না। আমাদের এত শক্তিশালী ছাত্রদল ছিল তাদেরকে রাস্তায় নামাতে পারে না। কেন তাদের নামাতে পারে না আমি জানি না। কারণ আমি এই দলের এত বিরাট নেতাও না। কিন্তু অন্যদিকে ইসলামী মৌলবাদীদের মিছিল দেখেন, তাদের সংখ্যা দেখেন রাজপথে।’

‘যদি আমরা ব্যর্থ হই। এই সরকার তো যাবে, আওয়ামী জাহিলায়াতের অবসান হবেই। এই ধরনের একটা নষ্ট পচা সরকারকে বাংলাদেশের মানুষ বেশিদিন সহ্য করবে না। কিন্তু তার পরিবর্তন কীভাবে আসবে? কারা এদেরকে সরাবে- এটাই দেখার বিষয়। আমরা যেটা দেখতে পারব, এটা বেশি দূরে নয়। তবে এই রাষ্ট্র যদি উদার রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে গিয়ে আবার মোল্লাদের খপ্পরে পড়ে এই জন্য শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ দায়ী থাকবেন। আমরা এই ধরনের পরিস্থিতি চাই না। আমরা চাই, সরকারের পরিবর্তন হোক ভোটের মাধ্যমে।’

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘দুঃখ লাগে এই সামরিক বাহিনী আমরা সৃষ্টি করেছি। কত সম্মানের পাত্র ছিল তারা। নির্বাচনের সময়ে সেনাবাহিনী যেখানে যেত দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যেত। আর এখন! গত নির্বাচনের আগের রাত্রে সব ভোট দিয়ে ফেলল আর সেনা প্রধান বললেন, এতো ভালো ভোট আমি জীবনে দেখিনি।’

তিনি বলেন, ‘সারাবিশ্বের মানুষ কোভিডে আক্রান্ত, যুক্তরাষ্ট্রে ১১ লাখ লোক মারা গেছে, এককোটির উপরে লোক আক্রান্ত, যুক্তরাজ্যের কত লোক আক্রান্ত। কোনো দেশে পরীক্ষা বন্ধ হয়নি, সব দেশে পরীক্ষা (শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের) হয়েছে। এই এক অভাগা বাংলাদেশ। বিনা পরীক্ষায় হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের ডিগ্রি দিয়ে দিল। মানে এমনই মেধা শূন্যতা এসেছে আমাদেরকে গ্রাস করেছে, এমনই অপদার্থের দেশ বাংলাদেশ- একটা লোক মাথা খাটিয়ে বলল না। একটা লোককে জিজ্ঞাসাও হয়তো করেনি যে, ভাই কীভাবে আমরা পরীক্ষাটা নিতে পারি?’

‘সারা পৃথিবীতে পরীক্ষা চলছে, যাদের লাখ লাখ লোক মারা যাচ্ছে তারা পরীক্ষা নিতে পারছে। আর আমাদের সরকারি হিসেবে ৬ হাজার লোক মারা গেছে- আমরা কেন পরীক্ষা নিতে পারছি না। আমাদের জাতিকে মূর্খের জাতিতে পরিণত করার ষড়যন্ত্র হচ্ছে। কী শিক্ষা ব্যবস্থা এদেশে এখন আছে? পরিকল্পিতভাবে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে সরকার। এক অদ্ভুত উটের পিঠে চলছে বাংলাদেশ। মেধাশূন্য করতে তারা (সরকার) এই অটোপ্রমোশন দিলেন।’

হাফিজ বলেন, ‘মেধাবী লোক হচ্ছে এদের (সরকার) শত্রু। ড. মুহাম্মদ ইউনুসকে (নোবেল বিজয়ী) সারা বিশ্ব কত সম্মান করে। পৃথিবীর যেখানে যাবেন রাষ্ট্রপতি বাড়ির বাইরে এসে গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে তাকে আমন্ত্রণ জানিয়ে নিয়ে যাবেন। আমাদের দেশে তার বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি হয়, তাকে পালিয়ে বেড়াতে হয়, তাকে সুদখোর বলা হয়।’

‘এভাবে তো তারা দেশ থেকে মেধাবী ব্যক্তিদেরকে বিতাড়িত করে দিয়ে মূর্খের রাজত্ব কায়েম করেছে, আরও করবে ভবিষ্যতে। গোষ্ঠীপ্রীতি, খালি বংশের সুনাম শুনবেন, কার কী কী কৃতিত্ব জানি না। আমরা দুঃখ লাগে এই দেশটা আমরা সৃষ্টি করেছি, বাংলাদেশের মানুষ ইস্পাতকঠিন ঐক্যের মাধ্যমে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছে, একাত্তরের যুদ্ধ ছিল জনতার যুদ্ধ, কত ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে এই দেশ স্বাধীন হয়েছে। আর আজকে এর ফল বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটাকে তারা নষ্ট করেছে।’

৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতা বিপ্লবে কর্নেল তাহের সেনাবাহিনীকে ধ্বংস করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছিল উল্লেখ করে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাহসী ভূমিকার কথা তুলে ধরেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

সংগঠনের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকনের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সাবেক প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য আহসান হাবিব লিংকন, বিএনপির তথ্য ও গবেষণা সহসম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, নির্বাহী কমিটির সদস্য এ কে এম আবুল কালাম আজাদ, কৃষকদলের নেতা কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।



আমার বার্তা/১৬ নভেম্বর ২০২০/জহির


আরো পড়ুন