শিরোনাম :

  • পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই : স্পিকার আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস আজ পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান : রাষ্ট্রপতি
ইন্দোরে হায়দরাবাদের স্মৃতি ফিরিয়ে আনা হলো না মুশফিকের
স্পোর্টস ডেস্ক :
১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৪৯:১৫
প্রিন্টঅ-অ+


খেলায় কি হবে? তা জানাই হয়ে গিয়েছিল। বৃষ্টিতে পুরো এক বা দেড় দিন ধুয়ে মুছে না গেলে ম্যাচ বাঁচানোর সম্ভাবনা নেই। বাংলাদেশের হার নিশ্চিত ধরেই আজ ভারতীয় ইনিংস শেষে খেলা দেখতে বসা। দেখার বিষয় ছিল, টাইগাররা ইনিংস পরাজয় এড়াতে পারে কিনা!

সেই কৌতুহলী মন নিয়ে খেলা দেখতে দেখতে অনেকেই ফিরে গিয়েছিলেন আড়াই বছর আগে, ২০১৭ সালের ৯-১৩ ফেব্রুয়ারির সেই হায়দরাবাদে। ভারতের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ফলোঅন এড়াতে প্রাণপণ লড়েছিলেন মুশফিকুর রহীম। সংগ্রামী শতক উপহার দিয়েছিলেন, সেবার দলকে ফলোঅন থেকে রক্ষা করেছিলেন।

আজও সেই মুশফিকই লড়লেন। তাই মনে হচ্ছিলো, কি জানি হয়তো ইন্দোরেও হায়দরাবাদের স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে পারেন টেস্টে বাংলাদেশের এই অন্যতম সেরা এই ব্যাটসম্যান। কিন্তু এবার আর ইতিহাসের পুণরাবৃত্তি ঘটেনি।

এবার আর মুশফিক সেঞ্চুুরি করতে পারেননি। ইনিংস পরাজয়ও এড়ানো সম্ভব হয়নি। ভারতের কাছে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টটা বাংলাদেশ হেরেছে এক ইনিংস ও ১৩০ রানের বড় ব্যবধানে।

অথচ মুশফিকের দায়িত্বশীল ব্যাটিং মনের আয়নার সামনে বড় করেই দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল সেই হায়দরাবাদ টেস্টের স্মৃতি। মুশফিক ৭০ পার হতেই অনেকের মুখে সেই সেঞ্চুুরি নিয়ে শুরু হয় আলোচনা।

যে ম্যাচে অধিনায়ক বিরাট কোহলি অনবদ্য ডাবল সেঞ্চুরিতে (২৪৬ বলে ২০৪) ভারত ৬ উইকেটে ৬৮৭ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে দিয়েছিল। জবাবে মুশফিকুর রহিমের একার লড়াইয়ে ফলোঅন এড়িয়েছিল বাংলাদেশ। ৩৮১ মিনিটে ২৬২ বলে ১৬ বাউন্ডারি আর ২ ছক্কায় মুশফিকের উইলো ছুঁয়ে এসেছিল ১২৭ রানের চোখ ধাঁধানো এক ইনিংস। যে ইনিংসে ভর করেই ৩৮৮ রান করে ভারতকে আবারো ব্যাটিংয়ে নামাতে সক্ষম হয়েছিল বাংলাদেশ।

আজ যিনি আট নম্বরে নেমে মুশফিককে সাপোর্ট দিয়েছেন, সেই মেহেদি হাসান মিরাজ আড়াই বছর আগে হায়দরাবাদের ম্যাচটিতে প্রথম ইনিংসেও মুশফিকের সাথে লড়াই-সংগ্রাম করেছিলেন। সপ্তম উইকেটে ৯৭ রানের জুটিও গড়েছিলেন।

মিরাজের ব্যাট থেকে এসেছিল ১০৭ বলে ৫১ রানের (১০ বাউন্ডারিতে) লড়িয়ে ইনিংস। আজ তারও সুযোগ ছিল তেমন কিছু করার। মিরাজ সাধ্যমত চেষ্টাও করেছেন। তবে সেই টেস্টের মতো আজ হাফসেঞ্চুরি করতে পারেননি এই অলরাউন্ডার। ৫৫ বলে পাঁচ বাউন্ডারি ও এক ছক্কায় ফিরে গেছেন ৩৮ রানে। মুশফিক আর মিরাজের জুটিটি ছিল ৫৯ রানের।

মূলত মিরাজ ফেরার পরই মুশফিকের মনোবলটা ভেঙে যায়। আর টুকটাক ব্যাটিং জানা তাইজুল ইসলামও যখন উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তখন মুশফিক হয়তো মনে মনে ধরেই নিয়েছিলেন, এখন আর ঠুক ঠুক করে ধৈর্য্য ধরে আগানো যাবে না। তাই রবিচন্দ্রন অশ্বিনের বলে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে সোজা ছক্কা হাঁকাতে উদ্ধত হন মুশফিক।

কিন্তু বলের ঠিক পিছনে শরীর ও পা না নিয়ে তুলে মারার কারণে ব্যাটের জায়গামত লাগেনি। এক কথায় ছক্কার মার হয়নি। বল দূরে না গিয়ে আকাশে উঠে যায়। তারপরও হয়তো দুই ড্রপে বাউন্ডারি হতে পারতো। কিন্তু তা না হয়ে উল্টো ক্যাচ আউট হলেন মুশফিক। প্রায় ৫/৭ গজ পিছনে দৌড়ে অসামান্য দক্ষতায় দারুণ রানিং ক্যাচ নিয়ে ফেললেন চেতেশ্বর পূজারা। ১৫০ বলে মুশফিকের ৬৪ রানের ইনিংসটি থামে তাতেই।

এই টেস্টে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন মুশফিক। উইকেটকিপিং করলে তিনি ব্যাটিংটাও ভালো করেন, এতকাল সেটা ছিল পরিসংখ্যানে। আজ আরও একবার দেখা গেল, কিপিং ছাড়লেই তিনি ব্যাট হাতে বড় ইনিংস খেলতে পারবেন, এমন ধারণা সত্য নয়। টেস্ট ক্যারিয়ারের সব কটা শতক মুশফিক পেয়েছেন কিপার কাম ব্যাটসম্যান হিসেবেই। ভারতের সাথে আগের চার টেস্টের দুই সেঞ্চুরিও কিপার কাম মিডল অর্ডার হিসেবে। এ ম্যাচে শুধু ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলে ষাটের ঘরে গিয়েই থামতে হলো মুশফিককে।



আমার বার্তা/১৬ নভেম্বর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন