শিরোনাম :

  • শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস আজ অসাম্প্রদায়িক সমাজ গড়তে পারলে বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে : রাষ্ট্রপতি যারা মানবতাবিরোধীদের বাঁচানোর চেষ্টা করছে, তাদেরও বিচার হবে : প্রধানমন্ত্রী বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
মুমিনুলদের জন্য হোয়াটমোরের বিশেষ বার্তা
স্পোর্টস ডেস্ক :
১৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১৬:৫২:৫৫
প্রিন্টঅ-অ+


ইন্দোরে তিনদিনেই হেরে বসেছে বাংলাদেশ। তাও আবার ইনিংস ব্যবধানে। এ নিয়ে যখন হতাশায় বাংলাদেশ ক্রিকেট দল, তখন হঠাৎ করেই দৃশ্যপটে হাজির হলেন বাংলাদেশের সাবেক কোচ ডেভ হোয়াটমোর। জানালেন, ইন্দোরে বাংলাদেশের এমন হার নাকি ছিল প্রত্যাশিত। তবে পরবর্তী ইডেন গার্ডেন টেস্টে বাংলাদেশ দলকে কি করতে হবে, তার জন্য বিশেষ কিছু বার্তাও দিয়ে রাখলেন তিনি।

হোয়াটমোরের হাত ধরেই প্রথমবারেরমত বিশ্ব ক্রিকেটে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পেরেছিল বাংলাদেশ। ২০০৭ বিশ্বকাপে হোয়াটমোরের প্রশিক্ষণেই ভারতকে হারিয়ে শুভ সূচনা করেছিল টাইগাররা। এরপর সুপার এইটে তারা হারিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকাকেও। এমনকি জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে তার অধীনেই প্রথম টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিলেন হাবিবুল বাশারের দল।

ইন্দোরে বাংলাদেশ যখন হেরে গেলো, এরপর কলকাতার আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে ফোনে সাক্ষাৎকার দেন হোয়াটমোর। তখনই তিনি জানিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের এমন পরাজয় অপ্রত্যাশিত ছিল না। তিনি বলেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের এই ফল প্রত্যাশিতই ছিল। প্রথমত সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবালকে ছাড়া ভারতের এই দলের বিরুদ্ধে ওদের মোকাবিলা করার কঠিন পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। দ্বিতীয়ত, টেস্টকে এখনও যথেষ্ট প্রাধান্য দিতে শুরু করেনি ওরা।’

হোয়াটমোরের মতে, বাংলাদেশের এখনও টেস্ট মানসিকতাই ভালোভাবে গড়ে ওঠেনি। সীমিত ওভারের ক্রিকেট নিয়েই তারা সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত। তিনি বলেন, ‘সীমিত ওভারের ক্রিকেটে যে মনোভাব নিয়ে বাংলাদেশ খেলে, টেস্টে তা দেখা যায় না মোটেও। ভারতের বিরুদ্ধে টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথম ম্যাচে সাকিব, তামিমকে ছাড়াই কিন্তু খেলেছিল বাংলাদেশ। ওদের অভাব কিন্তু সে রকম অনুভব করা যায়নি। এবার থেকে টেস্টকেও উপভোগ করার কাজ শুরু করতে হবে ওদেরকে।’

হোয়াটমোর কোচ থাকাকালীন টেস্টে কিন্তু বাংলাদেশ খুব একটা খারাপ করেনি। জিম্বাবুয়েকে হারিয়েছে। ফতুল্লায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে এগিয়ে গিয়েছিল টাইগাররা। টেস্ট ড্র করেছিল পাকিস্তানের বিরুদ্ধে। তাহলে এখন কেন এমন দশা?

এমন প্রশ্নের জবাবে হোয়াটমোরের উত্তর, ‘হারের অন্যতম কারণ অবশ্যই রক্ষণাত্মক মনোভাব। মোহাম্মদ শামিদের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ওপেনারেরা বলের নাগালই পাচ্ছিল না। প্রতিপক্ষকে ওদের উপরে চাপতে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আমি কোচ থাকাকালীন স্পষ্ট বলে দিতাম, হারতে রাজি আছি; কিন্তু লড়াই ছাড়া হারতে পারব না। মাঠে নেমে প্রতিপক্ষকে বুঝিয়ে দাও, বাংলাদেশকে ছোট দল হিসেবে দেখলে ভুল করবে।’

ইন্দোর টেস্ট নিয়ে হোয়াটমোর জানিয়ে দিয়েছেন, টস জিতে ব্যাটিং নেয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। কিন্তু সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি মুমিনুলরা। তিনি বলেন, ‘ভারতের বিরুদ্ধে যদিও টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্তটি সাহসী ছিল; কিন্তু তার সদ্ব্যবহার করার কোনও চেষ্টাই দেখা যায়নি। ভেবেছিলাম ইমরুল কায়েস তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে পারবে। ওকে দেখে আমি হতাশ।’

ভারতের বিপক্ষেই টেস্ট বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ শুরু করেছে বাংলাদেশ। সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে হতে পারে টাইগারদের। উপমহাদেশের বাইরে গেলে কত পয়েন্ট অর্জন করতে পারবে বাংলাদেশ?

হোয়াটমোরের জবাব, ‘পেস বিভাগে উন্নতি করতে না পারলে এই কাজ খুবই কঠিন। আবু জায়েদ ভাল প্রতিভা; কিন্তু এবাদত হোসেন খুব বেশি শর্ট বল করে ফেলছে। সে সঙ্গে দলের সিনিয়র ক্রিকেটারদেরও উদাহরণ হয়ে উঠতে হবে। ভাল ইনিংস খেলে জুনিয়রদের অনুপ্রাণিত করতে হবে। উইকেটে থিতু হয়ে গেলে বড় ইনিংস গড়ার চেষ্টা করতে হবে। উইকেট ছুঁড়ে দিয়ে আসলে স্বপ্নপূরণ হবে না।’



আমার বার্তা/১৮ নভেম্বর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন