শিরোনাম :

  • আজ শুভ জন্মাষ্টমী আজ দেশের ১২ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না বার্মিংহামে প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড
সত্তরেই থেমে গেলো গতি তারকার জীবনপ্রদীপ
স্পোর্টস ডেস্ক :
০৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:৩১:৪৩
প্রিন্টঅ-অ+


গতিই ছিল যার কাছে জীবন, সেই গতি তারকার জীবনপ্রদীপ থেমে গেলো ৭০ বছর বয়সে। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক এবং সত্যিকার একজন ফাস্ট বোলার- বব উইলিস। বেশ কিছুদিন ধরেই লড়াই করছিলেন তিনি ক্যান্সারের সঙ্গে। অবশেষে এই লড়াইয়ে হেরে গেলেন তিনি। মঙ্গলবার মৃত্যু বরণ করলেন ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বকালের চতুর্থ সর্বোচ্চ উইকেটশিকারী।

উইলিসের পরিবারের তরফ থেকে সাবেক ইংলিশ অধিনায়কের মৃত্যুর খবর জানানো হয়। থাইরয়েড গ্ল্যান্ডের ক্যান্সারের সঙ্গে কয়েকদিন ধরে লড়াইয়ের পর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন বব উইলিস।

১৯৮১ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের বিখ্যাত অ্যাশেজ সিরিজ জয়ে অসাধারণ নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তিনি। বিশেষ করে লিডসের হেডিংলিতে চতুর্থ ইনিংসে ১৫.১ ওভার বল করে মাত্র ৪৩ রান দিয়ে ৮ উইকেট দখল করে ইতিহাসের পাতায় নাম লিখে ফেলেন তিনি। ১৯৮১ সালের অ্যাসেজ জয়টি তাই বব উইলিসের সামর্থক হিসেবেই পরিগণিত হতে শুরু করে।

১৯৭১ সালে ক্রিকেট ক্যারিয়ার শুরু করেন। তবে, ১৯৭৫ সালেই তার দুই হাঁটুতে অস্ত্রোপচার করতে হয়। কিন্তু সেই দুই অস্ত্রোপচার তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। পরবর্তী সময়টাতে ব্যাথাহীনভাবেই খেলে গেছেন তিনি। এমনকি, সঠিকভাবে খেলা এবং এ জন্য শক্তি অর্জন করতে প্রতিদিন নিয়ম করে ৫ মাইল করে দৌড়াতেন উইলিস।

তবুও হাঁটুর অস্ত্রোপচারের পর মাত্র ৯ বছর ক্যারিয়ার স্থায়ী হয়েছিল তার। ১৯৮৪ সালে লিডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে খেলেই ক্রিকেটকে বিদায় জানান ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা এই ক্রিকেটার।

১৯৭১ থেকে ১৯৮৪, এই ১৩ বছরে ইংল্যান্ডের হয়ে মোট ৯০টি টেস্ট খেলেন তিনি। নামের পাশে জ্বলজ্বল করছে ৩২৫টি উইকেট। জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড এবং স্যার ইয়ান বোথামের পর ইংলিশ বোলার হিসেবে যা চতুর্থ সর্বোচ্চ।

তবে উইলিসের সোনালি সময়টা গেছে মূলতঃ ১৯৭৭ থেকে ১৯৮১ সাল- এই চার বছরে। এ সময়টাতে মাত্র ৩৯ টেস্ট খেলে উইলিস দখল করেন ১৪৯ উইকেট। গড় ছিল ২৩.৪৬। ৫ উইকেট নিয়েছেন ৯বার।

ক্রিকেট মাঠে তার নাম হয়ে গিয়েছিল ‘গুজ’। বিশেষ করে ২২ গজে তার অস্বাভাবিক লুজ বল দিয়ে বিপদে ফেলে দিতে পারতেন ব্যাটসম্যানদের। এ কারণেই মূলতঃ এই অভিধায় ভুষিত করা হয় তাকে। ১৯৭০-৮০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ আর অস্ট্রেলিয়ান পেসারদের রাজত্বে টেক্কা দেয়ার মত ইংলিশ পেসারই ছিলেন বব উইলিস।

স্বাভাবিকভাবেই উইলিসের মৃত্যুতে শোকের ছায়া ক্রিকেটমহলে। উইলিসের পরিবারের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বব উইলিসের মৃত্যুর খবর। শোকবার্তায় বলা হয়, ‘আমরা আমাদের প্রিয় ববকে হারিয়ে ব্যথিত। বব একদিকে যেমন ছিলেন একজন অতুলনীয় স্বামী, ভাই এবং বড়ভাই হিসেবেও বব ছিলেন ঠিক তেমনই দারুণ। প্রত্যেকের জীবনেই তার ভীষণ প্রভাব ছিল। আমরা সবাই তাকে খুব মিস করব।’

ববের মৃত্যুতে শোকাহত ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ফুটবলার গ্যারি লিনেকারও। টুইটারে এক শোকবার্তায় লিনেকার লিখেছেন, ‘বব উইলিসের মৃত্যুর খবরে শোকাহত। আমাদের দেশের সেরা ফাস্ট বোলারদের মধ্যে অন্যতম। একাধিক অনুষ্ঠানে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছে। সঙ্গী হিসেবে দারুণ ছিলেন এবং তার সেন্স অফ হিউমর ছিল তার বোলিংয়ের মতোই তীক্ষ্ণ।’

মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাবের আজীবন সাম্মানিক সদস্য ছিলেন উইলিস। স্বাভাবিকভাবেই উইলিসের মৃত্যুতে এক শোকবার্তা জ্ঞাপন করা হয় এমসিসি’র তরফ থেকে।







আমার বার্তা/০৫ ডিসেম্বর ২০১৯/জহির


আরো পড়ুন