শিরোনাম :

  • দুদক পরিচালকের মৃত্যু : আইসোলেশনে থাকা ছেলের আবেগঘন স্ট্যাটাস শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানালেন করোনা আক্রান্ত প্রিন্স চার্লস রাখী দাশ পুরকায়স্থের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক ফের করোনা পরীক্ষা করাবেন ট্রাম্প
ফিল্ডার মুশফিকের দুর্দান্ত ক্যাচ, ফিরলেন রাজা
স্পোর্টস ডেস্ক :
২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ১৪:০৪:০২
প্রিন্টঅ-অ+


ব্যাট হাতে ডাবল সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে এরই মধ্যে চলতি মিরপুর টেস্ট নিজের করে নিয়েছেন বাংলাদেশ দলের অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম। কিন্তু শুধু ব্যাটিং নৈপুণ্য দেখিয়েই যেনো মন ভরলো না তার। এবার ফিল্ডিংয়েও দারুণ এক ক্যাচ তালুবন্দী করলেন মুশফিক।

ব্যাটিংয়ে আরও বেশি সময় দেয়ার জন্য এই কিছুদিন আগেই উইকেটকিপিং ছেড়েছেন মুশফিক। এখন তিনি খেলেন শুধুই ব্যাটসম্যান হিসেবে, দাঁড়ান না উইকেটের পেছনে। কিপিং গ্লাভস হাতে তার বেশ কিছু ক্যাচ বিখ্যাত হয়ে আছে দেশের ক্রিকেটে। এবার আউটফিল্ডেও দুর্দান্ত এক ক্যাচ নিয়ে নিজের ফিল্ডিং সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি।

মুশফিকের অসাধারণ ক্যাচে বিদায়ঘণ্টা বেজেছে সিকান্দার রাজার। তাইজুল ইসলামের করা শর্ট লেন্থের ডেলিভারিটি সজোরে পুল করেছিলেন রাজা। বলে চলে যাচ্ছিল শর্ট মিড উইকেট দিয়ে। সেখানে দাঁড়ানো মুশফিক পুরো শরীর হাওয়ায় ভাসিয়ে দুই হাতে ক্যাচ ধরে ফেলেন। শরীরের ভারসাম্য হারিয়ে নিজে পড়ে গেলেও, বল হাত থেকে ছাড়েননি মুশফিক। শুধুমাত্র ফিল্ডার হিসেবে খেলতে নেমে মুশফিকের ষষ্ঠ ক্যাচ এটি।

আউট হওয়ার আগে ৩৭ রান করেন রাজা। তার বিদায়ে ফলে জয়ের সুবাস পেতে শুরু করেছে বাংলাদেশ। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ১৩১ রান। বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন আর মাত্র ৪টি উইকেট। অন্যদিকে ইনিংস পরাজয় এড়াতে এখনও ১৬৪ রান দরকার জিম্বাবুয়ের।

এর আগে সোমবার শেষ বিকেলের কয়েক ওভার জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিং করানোর লক্ষ্যে বেশ তড়িঘড়ি করেই ইনিংস ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ। নিজেদের এ পরিকল্পনায় পুরোপুরি সফল স্বাগতিকরা। তৃতীয় দিনের তৃতীয় সেশনে মাত্র ৫ ওভারের জন্য জিম্বাবুয়েকে ব্যাটিংয়ে নামিয়ে দুই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ের দুটি উইকেটই নিয়েছেন নাইম হাসান। তাও ইনিংসের প্রথম ওভারেই। অন্ধকার নেমে আসা শেরে বাংলায় শেষ বিকেলে আর পেসার ব্যবহার করেননি মুমিনুল। অফস্পিনার নাইমের হাতে তুলে দেন প্রথম ওভার। অধিনায়কের আস্থার প্রতিদান দেন তরুণ নাইম।

নিজের ওভারের দ্বিতীয় বলে সরাসরি বোল্ড করে দেন বাঁহাতি ওপেনার প্রিন্স মাসভাউরেকে। পরের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন নাইটওয়াচম্যান হিসেবে খেলতে নামা ডোনাল্ড তিরিপানো। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনা জাগে নাইমের। যা নাকচ করে দেন ব্রেন্ডন টেলর।

আজ দিনের শুরুতে, প্রথম দিনের মতোই টানা ৪ ওভার মেইডেন করেন আবু জায়েদ রাহী ও তাইজুল ইসলাম। দিনের পঞ্চম ওভারে কভার ড্রাইভে চার মেরে প্রথম রান নেন ব্রেন্ডন টেলর। তাইজুলের করা পরের ওভারে অন সাইডে ঠেলে দুই রান নেন ওপেনার কেভিন কাসুজা।

সে ওভারেই অবশ্য বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় কাসুজার। ওভারের চতুর্থ বলটিতে খানিক বাড়তি ফ্লাইট দেন তাইজুল। যাতে বিভ্রান্ত হয়ে ফরোয়ার্ড ডিফেন্স খেলার চেষ্টা করেন কাসুজা। কিন্তু বল লাগে তার ব্যাটের বাইরের কানায়। প্রথম স্লিপে দাঁড়িয়ে সহজেই সেটি লুফে নেন মোহাম্মদ মিঠুন। ফলে ৩৪ বলে ১০ রান নিয়ে সাজঘরে ফেরেন কাসুজা।

নিজের ইনিংসের শুরু থেকেই ধৈর্য নিয়ে ব্যাট করছিলেন জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞতম ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন টেলর। কোনোরকমের ভুল শট না খেলে, একটু একটু করে এগিয়ে নিচ্ছিলেন নিজের ইনিংস। কিন্তু নাঈম হাসান আক্রমণে আসতেই যেন কী হয়ে গেল তার, হারিয়ে বসলেন নিজের উইকেট।

দিনের ১১ ওভার যাওয়ার পর প্রথমবারের মতো আক্রমণে আনা হয় ম্যাচের সফলতম বোলার নাঈম হাসানকে। কোনো ভুল করেননি নাঈম। নিজের প্রথম ওভারেই তুলে নিয়েছেন টেলরের উইকেট। জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই জোড়া উইকেট নিয়ে প্রথম ধাক্কা দিয়েছিলেন নাঈমই।

তাই হয়তো আজ নাঈম আক্রমণে আসতেই প্রতিশোধ নেয়ার ভূত চাপে টেলরের মাথায়। প্রথমে খেলার চেষ্টা করেন রিভার্স সুইপ। যা তার ব্যাট, উইকেট এবং উইকেটের পেছনে দাঁড়ানো লিটন দাসকে ফাঁকি দিয়ে বাই হিসেবে চলে যায় বাউন্ডারিতে।

সেই রিভার্স সুইপ মিস করেও যেনো শান্তি হয়নি টেলরের। তাই দুই বল পরেই উদ্ভ্রান্তের মতো ছক্কা হাঁকানোর আশায় স্লগ সুইপ করেন তিনি। যা ব্যাটের ওপরের কানায় লেগে উঠে যায় আকাশে। শর্ট স্কয়ার লেগ থেকে সহজেই ক্যাচ লুফে নেন তাইজুল ইসলাম। সাজঘরের পথ ধরেন ৪৭ বলে ১৭ রান করা টেলরে।

মাত্র ৪৪ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেলায় প্রতি আক্রমণের পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিন। ম্যাচে বাংলাদেশের সফল বোলার নাঈম হাসান থেকে শুরু করে বাকি সব বোলারকেই একের পর এক পাঠাতে থাকেন সীমানা দড়ির ওপারে। যা দ্রুত রান এনে দিচ্ছিল জিম্বাবুয়েকে।

সিকান্দার রাজার সঙ্গে পঞ্চম উইকেট জুটিটাও হয়ে গিয়েছিল ৬০ রানের, তাও মাত্র ১৩ ওভারে। কিন্তু একটু বেশিই তাড়াহুড়ো দেখা গেল আরভিনের ব্যাটিংয়ের। ইনিংসের ৩০তম ওভারের শেষ বলে শর্ট পয়েন্ট অঞ্চল থেকে দ্রুত রান নেয়ার চেষ্টা করেন তিনি।

কিন্তু ক্ষিপ্রতার সঙ্গে ফিল্ডিং করে বাঁহাতের সরাসরি থ্রোতে ব্যাটিং প্রান্তের স্টাম্প ভেঙে দেন টাইগার অধিনায়ক মুমিনুল। ফলে বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় জিম্বাবুয়ের অধিনায়ক আরভিনের। এ ইনিংসে ৬ চার ও ১ ছয়ের মারে ৪৯ বলে ৪৩ রান করেছেন তিনি।



আমার বার্তা/২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২০/জহির


আরো পড়ুন