শিরোনাম :

  • বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যাত্রাবাড়ীতে ওয়েলডিং মিস্ত্রির মৃত্যু হাজী সেলিমের ছেলে ইরফান সেলিম কারাগারে সিরিয়ায় রাশিয়ার বিমান হামলায় নিহত ৫০ ইরানের তেলমন্ত্রীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র
শোয়েব আখতারের চেয়েও দ্রুতগতির বোলিং করতেন ফারুক হামিদ!
স্পোর্টস ডেস্ক :
০১ অক্টোবর, ২০২০ ১৪:৩২:৫৭
প্রিন্টঅ-অ+


স্বীকৃত ক্রিকেটে দ্রুতগতির ডেলিভারির রেকর্ড পাকিস্তানের সাবেক গতিতারকা শোয়েব আখতারের। ২০০৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের নিক নাইটের বিরুদ্ধে ঘণ্টায় ১০০.২ মাইল ১৬১.৩ কিমি গতিবেগের ডেলিভারিটি করেছিলেন শোয়েব। যা এখনও সবচেয়ে দ্রুতগতির ডেলিভারির বিশ্বরেকর্ড হিসেবে টিকে রয়েছে।

এছাড়া ১০০ মাইলের বেশি গতিতে বোলিংয়ের রেকর্ড রয়েছে দুই অস্ট্রেলিয়ান পেসার শন টেইট এবং ব্রেট লি’র। কিন্তু পাকিস্তানের সাবেক পেসার ফারুক হামিদের দাবি, তিনি নিয়মিতই বোলিং করতেন ১১০ থেকে ১১৫ মাইল গতিতে। কিলোমিটারের হিসাবে যা ঘণ্টায় ১৭৭ থেকে ১৮৫তে গিয়ে দাঁড়ায়।

নিজের দাবিকে জোরালো করতে সাবেক কিংবদন্তি ক্রিকেটারদের মন্তব্যের রেফারেন্সও দিয়েছেন ষাটের দশকের এই পেসার। ঘরোয়া ক্রিকেটে ৪৩টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলা ফারুক হামিদ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে খেলেছেন একটি মাত্র টেস্ট। সেই ম্যাচে ১৮৪ বল করেও একটি বেশি উইকেট শিকার করতে পারেননি ডানহাতি এ পেসার।

বোলিং পরিসংখ্যান আহামরি না হলেও, নিজের গতি নিয়ে জোরালো দাবিই করছেন ৭৫ বছর বয়সী হামিদ। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘স্যার ডন ব্র্যাডম্যান, ইমতিয়াজ আহমেদ, জহির আব্বাসের মতো আন্তর্জাতিক তারকারা আমাকে সবচেয়ে দ্রুতগতির বোলার হিসেবে গণ্য করতেন। এমনকি তখনকার সময়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের গতিদানব চার্লি গ্রিফিথের চেয়েও দ্রুতগতির।’

এসময় ওয়েস্ট ইন্ডিজের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান রোহান কানহাইকে মাটিতে শুইয়ে দেয়ার উদাহরণ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘পাকিস্তানে কমনওয়েলথ একাদশের হয়ে খেলতে নেমে বিধ্বংসী এক বাউন্সারে রোহান কানহাইকে শুইয়ে ফেলেছিলাম। তখন ধারাভাষ্যকাররা বলছিল যে, আমি গ্রিফিথের চেয়েও জোরে বোলিং করেছি। আমার মনে হয়, আমি তখন নিশ্চিতভাবেই ১১০-১১৫ মাইল গতিতে বোলিং করেছি।’

নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচে মাত্র ১৬ রানে ৭ উইকেট শিকার করেছিলেন ফারুক হামিদ। কিন্তু সেই সফরের মূল ম্যাচগুলোতে সুযোগ পাননি তখনকার বিধ্বংসী এ পেসার। এতো ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েও জাতীয় দলে একটির বেশি ম্যাচ খেলতে না পারার আক্ষেপ এখনও রয়েছে ৭৫ বছর বয়সী ফারুক হামিদের।

তিনি বলেন, ‘ওয়েলিংটনে একটি ম্যাচে আমি ১৬ রানে ৭ উইকেট নিয়েছিলাম। সেই ম্যাচে তারা ১০ ওভারের মধ্যেই ৫৩ রানে অলআউট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু একই ভেন্যুতে কয়েকদিন পর হওয়া টেস্ট ম্যাচে আমি পাকিস্তান দলে সুযোগ পাইনি। যা সবাইকেই অবাক করে দিয়েছিল। এমনকি ঐ সফরের অন্য দুই ম্যাচেও আমাকে নেয়া হয়নি।’

‘১৯৬৩ সালে ইংল্যান্ড সফরের পাকিস্তান ইগলেটস দলের সদস্য ছিলাম আমি। ল্যাঙ্কাশায়ারের বিপক্ষে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে মাত্র তিন ওভারে ৫ উইকেট নেয়ার পরেও অধিনায়ক ওয়াজির মোহাম্মদ আমাকে দিয়ে আর বোলিং করাননি। পরে এমসিসির তখনকার সেক্রেটারি মিস্টার হাওয়ার্ড আমাদের ম্যানেজারকে বলেছিল যে, আমি সেরা সময়ের ট্রুম্যানের চেয়ে দ্রুতগতিতে বোলিং করেছি।’

ভালো বোলিং করেও পাকিস্তান দলে সুযোগ না পাওয়ার আক্ষেপ থেকে মাত্র ২৫ বছরেই ক্যারিয়ারের ইতি টেনেছিলেন ফারুক হামিদ। এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘বঞ্চিত হওয়ার এমন আরও অনেক উদাহরণ ছিলো আমার। এসব ঘটনায় অনেক বেশি হতাশ ও মনোবলহারা হয়ে পড়েছিলাম। যে কারণে মাত্র ২৫ বছরেই ক্রিকেটকে বিদায় জানাই। আফসোসের বিষয়, এখনও এমন বিষয়গুলো রয়েছে, যা আমাদের ক্রিকেটকে ক্ষতিগ্রস্থ করছে।’



আমার বার্তা/০১ অক্টোবর ২০২০/জহির


আরো পড়ুন