শিরোনাম :

  • আরও ৪০ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১১৪০ফেরিতে হুড়োহুড়িতে প্রাণ গেল ৬ জনেরমহাসড়কে চলছে দূরপাল্লার বাসআল-আকসা মসজিদে হামলায় প্রধানমন্ত্রীর নিন্দা
রায়হান হত্যা : ৮ দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে কনস্টেবল হারুন
নিজস্ব প্রতিবেদক :
০১ নভেম্বর, ২০২০ ১৭:২২:০৭
প্রিন্টঅ-অ+


সিলেট নগরের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান আহমদ হত্যার ঘটনায় দুই দফায় আটদিনের রিমান্ড শেষে সাময়িক বরখাস্তকৃত পুলিশ কনস্টেবল হারুনুর রশিদকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শেষে রোববার (০১ নভেম্বর) বিকেলে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পুলিশ পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম হারুনুর রশিদকে সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম জিয়াদুর রহমানের আদালতে হাজির করেন। আদালতে হারুন জবানবন্দি দিতে রাজি না হওয়ায় বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

২৯ অক্টোবর হারুনুর রশিদকে দ্বিতীয় দফায় তিনদিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। এ মামলায় প্রথম দফায় তাকে পাঁচদিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিল।

এর আগে আরেক পুলিশ কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাসকেও দুই দফায় আটদিনের রিমান্ডে নেয় পিবিআই। তবে তিনিও এ ঘটনার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেননি। তবে সাক্ষী হিসেবে তিন পুলিশ সদস্যের ১৬৪ ধারায় আদালতে দেয়া জবানবন্দিতে হারুনুর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাস দুজনে ১১ অক্টোবর ভোররাতে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হানকে নির্যাতন করেন বলে উল্লেখ করেছেন।

আলোচিত রায়হান হত্যা মামলায় ওই ফাঁড়ির এএসআই আশেক এলাহিকে গ্রেফতার করে ২৯ অক্টোবর পাঁচদিনের রিমান্ডে নিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পুলিশের পরিদর্শক মাহিদুল ইসলাম।

১১ অক্টোবর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতন করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ৭টা ৫০ মিনিটে রায়হানের মৃত্যু হয়।

রায়হান সিলেট নগরের আখালিয়ার নেহারিপাড়ার বিডিআরের হাবিলদার মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি নগরের রিকাবিবাজার স্টেডিয়াম মার্কেটে এক চিকিৎসকের চেম্বারে চাকরি করতেন।

এ ঘটনায় ১২ অক্টোবর রাতে অজ্ঞাতদের আসামি করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু আইনে এসএমপির কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নি।

১৪ অক্টোবর মামলাটি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশ পিবিআইতে স্থানান্তর হয়। তদন্তভার পাওয়ার পর পিবিআইর টিম ঘটনাস্থল বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ি, নগরের কাস্টঘর ও নিহতের বাড়ি পরিদর্শন করে। এরপর মরদেহ কবর থেকে তোলার পর পুনরায় ময়নাতদন্ত করা হয়।

নিহত রায়হানের মরদেহে ১১১ আঘাতের চিহ্ন উঠে এসেছে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে। এসব আঘাতের ৯৭টি ফোলা আঘাত ও ১৪টি ছিল গুরুতর জখমের চিহ্ন। এসব আঘাতগুলো লাঠি দিয়ে করা হয়েছে। অসংখ্য আঘাতের কারণে হাইপোভলিউমিক শক ও নিউরোজেনিক শকে মস্তিষ্ক, হৃৎপিণ্ড, ফুসফুস ও কিডনিসহ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলো কর্মক্ষমতা হারানোর কারণে রায়হানের মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় ওই ফাঁড়ির পুলিশ এএসআই আশিক এলাহি, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও কনস্টেবল হারুনুর রশিদ এবং ঘটনার রাতে কতিথ ছিনতাইয়ের মৌখিক অভিযোগকারী শেখ সাইদুর রহমান নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পিবিআই। ১০ অক্টোবর রাতে সাইদুরের অভিযোগের প্রেক্ষিতে রায়হানকে ধরে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে এনে নির্মম নির্যাতন করে পুলিশ।

ঘটনার দিন বিকেলে মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলে রায়হানকে ফাঁড়িতে এনে নির্যাতনের প্রাথমিক প্রমাণ পায় কমিটি। এই তদন্ত কমিটির সুপারিশে বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন, কনস্টেবল হারুনুর রশিদ, তৌহিদ মিয়া ও টিটু চন্দ্র দাসকে সাময়িক বরখাস্ত এবং এএসআই আশেক এলাহি, এএসআই কুতুব আলী ও কনস্টেবল সজিব হোসেনকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।

২১ অক্টোবর এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ (সাময়িক বরখাস্তকৃত) উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে ফাঁড়ি থেকে পালাতে সহায়তা করা, তথ্য গোপনের অপরাধে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির টুআইসি এসআই হাসান উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।



 



আমার বার্তা/০১ নভেম্বর ২০২০/নবীন হক


আরো পড়ুন