শিরোনাম :

  • কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে গুলিকরে ২ জনকে হত্যা চীনের দেয়া উপহার “৬ লাখ টিকা” আসবে বিকেলে সূচকের উত্থন পতনে ৩০ মিনিটে ৬০০ কোটি টাকার লেনদেন ইসরায়েলি সেনার গু'লিতে প্রাণ গেল ফিলিস্তিনি নারীর।
প্লাস্টিক খাতে কর অবকাশ সুবিধা চেয়েছে বিপিজিএমইএ
০৮ জুন, ২০২১ ১৭:৩৯:৪৪
প্রিন্টঅ-অ+


প্লাস্টিক খাতকে কর অবকাশ সুবিধা চেয়েছে বাংলাদেশ প্লাস্টিক পণ্য প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশন (বিপিজিএমইএ)। এছাড়া প্লাস্টিকের তৈজসপত্র ও খেলনাসামগ্রীর ওপর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারসহ ১৫ দফা দাবি জানিয়েছে তারা।  রাজধানীর পল্টনে বিপিজিএমইএ কার্যালয়ে আয়োজিত গতকালের এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বাজেটের ওপর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বক্তব্য রাখেন । তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে নেয়া বিভিন্ন সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে দেশ আরেক ধাপ এগিয়ে যাবে। তবে কভিডের কারণে দেশের বেশির ভাগ মানুষের আয় কমেছে। নতুন করে দরিদ্র হয়েছে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ। কর্মহীন হয়ে পড়েছে লাখ লাখ লোক। এ বাস্তবতায় সরকার সব শ্রেণীর মানুষকে মাথায় রেখে করোনা মোকাবেলা, জীবন-জীবিকা রক্ষা, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে বাজেটে বেশ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় বিপিজিএমইএ সব রফতানি খাতে সমহারে উৎসেকর দশমিক ২৫ শতাংশ এবং করপোরেট করহার ৩২ দশমিক ৫০ শতাংশের পরিবর্তে ১০ শতাংশ ধার্য করার প্রস্তাব করেছে। এছাড়া ফিলার ও কালার মাস্টার ব্যাচে বিদ্যমান শুল্কহার ১০ শতাংশ হতে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা, অ্যালু অ্যালু বটম ফয়েল এবং অ্যালুমিনিয়াম ব্লিস্টার ফয়েলের বর্তমান শুল্কহার ৫ শতাংশ হতে কমিয়ে ১ শতাংশ করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের উদীয়মান খেলনা প্রস্তুতকারীদের ব্যবহার্য উপকরণ আমদানিতে শুল্ক রেয়াতি সুবিধা দিয়ে এসআরও-১১৯ জারি করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিপিজিএমইএ। তবে তারা বলছে, খেলনার জরুরি ব্যবহার্য ২৮টি উপকরণের জন্য করছাড় চাওয়া হলেও মাত্র ১৩টি উপকরণের ওপর রেয়াতি সুবিধা দেয়া হয়েছে। কিন্তু জারী করা এসআরও-১১৯ ভুলভ্রান্তি ও কিছু অসংগতির জন্য এটি সংশোধন করা প্রয়োজন। এজন্য নতুন এসআরও জারির জন্য এনবিআরের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

বিপিজিএমইএ বলছে, যেহেতু দেশীয় খেলনা অত্যন্ত উন্নতমানের এবং আমদানি বিকল্প। কাজেই তৈরি খেলনা আমদানিতে ট্যারিফ মূল্য বৃদ্ধির প্রস্তাবটি পুনর্বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে তারা।

প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর টার্নওভারভিত্তিক ধার্যকৃত আয়কর দশমিক ৫ শতাংশের পরিবর্তে দশমিক ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্ত আয়করের হিসাবটি সমন্বয়ের প্রস্তাব করেছে বিপিজিএমইএ। সংগঠনটি বলছে, কভিড-১৯ পরিস্থিতিতে প্লাস্টিক খাতের অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ ও রুগ্ণ শিল্পের তালিকাভুক্ত। শ্রমঘন শিল্প হতে হাজার হাজার নারী-পুরুষ কর্মচারী ও কর্মকর্তা বেকার হয়েছেন। এসব শিল্প ব্যাংকঋণ পরিশোধ করতে পারছে না। রফতানিতে সম্পৃক্ত অনেক প্রতিষ্ঠান রুগ্ণ শিল্প হিসেবে তালিকাভু্ক্ত হচ্ছে। এ অবস্থায় ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে প্লাস্টিক শিল্পের ওপর আরোপিত ৩ শতাংশ আগাম কর অব্যাহতির দাবি জানিয়েছে বিপিজিএমইএ। এছাড়া টার্নওভারের ঊর্ধ্বসীমা ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা নির্ধারণ করে করের হার প্রস্তাবিত ৪ শতাংশ থেকে ৩ শতাংশে নামিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছে সংগঠনটি।

সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন বিপিজিএমইএ সভাপতি সামিম আহমেদ। তিনি বলেন, সামাজিক প্রতিটি সূচকে আমাদের অগ্রগতি লক্ষণীয়। শিশুমৃত্যুর হার কমছে। নারী শিক্ষা, কৃষি, টেলিযোগাযোগ, ইন্টারনেট, তথ্য অধিকার, মানবসম্পদ উন্নয়নে বাংলাদেশ আগের চেয়ে অনেক সাফল্য অর্জন করছে।

আগামী বাজেট বাস্তবায়ন অত্যধিক চ্যালেঞ্জ হবে উল্লেখ করে সামিম আহমেদ বলেন, বর্তমানে প্লাস্টিক খাত সরকারের থ্রাস্ট সেক্টর হিসেবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। প্লাস্টিক খাতে বর্তমানে সারা দেশে প্রায় ৫ হাজার ৩০-এর অধিক ক্ষুদ্র, মাঝারি, বৃহৎ শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। অভ্যন্তরীণভাবে বর্তমানে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি টাকার প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন ও বিপণন হচ্ছে। খাতটি সরকারের কোষাগারে প্রতি বছর আনুমানিক প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা রাজস্ব দিয়ে থাকে। রফতানি হয় প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের মতো। প্লাস্টিক খাতে এরই মধ্যে প্রায় ১২ লক্ষাধিক লোকের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতি বছর রফতানি বাড়ছে। এ খাতের প্রবৃদ্ধির হার গড়ে ২০ শতাংশের বেশি। নতুন প্রজন্মের ব্যবসায়ী উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগে এগিয়ে আসছেন। ফলে খাতটি বিকশিত হচ্ছে। বিস্তৃত হচ্ছে। এ অবস্থায় আমরা সরকার ঘোষিত আগামী প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা প্লাস্টিক খাতে দেয়ার জন্য অনুরোধ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিপিজিএমইএ সাবেক সভাপতি এএসএম কামাল উদ্দিন ও ফেরদৌস ওয়াহেদ, বর্তমান সিনিয়র সহসভাপতি গিয়াসউদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি কেএম ইকবাল হোসেন ও কাজী আনোয়ারুল হক, পরিচালক মোসাদ্দেকুর রহমান নান্নু, মো. শাহজাহান এটিএম সাঈদুর রহমান বুলবুল, মো. এনামুল হক ও আমান উল্লাহ উপস্থিত ছিলেন।

আমার বার্তা/এসএ


আরো পড়ুন