শিরোনাম :

  • ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৬ মৃত্যু শনাক্ত আরও এক হাজার ৩৮৬ জনকরোনায় আক্রান্ত তসলিমা নাসরিনআজকের মেঘমালা দেশের ৭০ ভাগ অঞ্চলকে ছুঁয়েছেসিলেটের নতুন বিভাগীয় কমিশনার খলিলুর রহমান
পৃথিবীর ভয়ংকর সুন্দর পর্যটন স্পট মাউন্ট ওয়াশিংটন
১১ এপ্রিল, ২০২১ ১২:৩৬:২৬
প্রিন্টঅ-অ+


ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে একটি দল আছে যারা বেশ বিপদজনক, ভয়ংকর, শিহরণ জাগায় এমন কিছু অভিজ্ঞতার খোঁজে থাকেন সবসময়। সুযোগ পেলেই বেরিয়ে যান রোমাঞ্চের খোঁজে। তবে পৃথিবীতে এমন কিছু জায়গা আছে যা রোমাঞ্চের সঙ্গে বিপদও ডেকে আনতে পারে। ভয়ংকর সুন্দর সেসব জায়গা নিয়ে থাকছে যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট ওয়াশিংটনের কথা।

উত্তর-পূর্ব আমেরিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট ওয়াশিংটন। উচ্চতায় ৬২৮৮.২ ফুট এই শৃঙ্গটি মিসিসিপি নদীর পূর্বদিকের সবচেয়ে শীর্ষস্থানীয় পর্বত।

পর্বতটির আবহাওয়া বোঝা ভার। অনিয়মিত ও বিরূপ আবহাওয়ার জন্য এটি বেশি পরিচিত। ১৯৩৪ সালের ১২ এপ্রিল এর চূড়ায় প্রতি ঘন্টায় বাতাসের গতি রেকর্ড করা হয় ২৩১ মাইল (৩৭২ কিলো/ঘন্টা)। টর্ণেডো বা ঘূর্ণিঝড় ছাড়া এটি ছিল ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর সর্বোচ্চ বাতাসের গতি। ১৯৩২ সালে প্রতিষ্ঠিত মাউন্ট ওয়াশিংটন অবজারভেটরি এখনো পর্যন্ত এই জায়গার আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।

পর্বতের শীর্ষে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭২ ডিগ্রী ফারেনহাইট। আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা -৪৭ ডিগ্রী ফারেনহাইট। জুলাই মাসে এর গড় তাপমাত্রা ৪৯ ডিগ্রী ফারেনহাইট।

বিজ্ঞাপন

বর্তমানে প্রতিবছর বিশ্বের আড়াই লাখেরও বেশি মানুষ মাউন্ট ওয়াশিংটনে ভ্রমণ করেন। তবে এই পর্বত আরোহন করতে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে অনেকেরই। ১৮৪৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে ১৫০ জন মানুষ মারা গেছে বলে জানা গেছে।

এতো মানুষ মারা যাওয়ার পেছনের কারণ হিসেবে সেখানকার আবহাওয়া পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, পর্বতটির অবস্থানের জন্য প্রায় সব ধরনের ঝেই এর ওপর দিয়ে যায়। আর সে কারণেই এখানকার আবহাওয়া বিরূপ বলে মনে করেন তারা।

গ্রীষ্মে সেখানকার পর্যটকরা শীত উপভোগ করেন। পরিস্কার আবহাওয়ায় সেখান থেকে পাঁচটি রাজ্য দেখা যায়। সেগুলো হলো -নিউ হ্যাম্পশায়ার, ম্যাইমেইন, ভা-মান্ট, ম্যাসাচুসেটস ও নিউইয়র্ক। মাঝেমধ্যে সেখান থেকে কানাডাও দেখা যায়।

শীতকালে এখানকার ঝর্ণার মোহনীয় সৌন্দর্য দেখে মুগ্ধ হন পর্যটকরা। শীত বা গ্রীষ্ম যখনই আপনি মাউন্ট ওয়াশিংটনে ভ্রমণ করুন না কেন, অতিরিক্ত পোশাক, বাইনোকুলার ও ক্যামেরা নিতে অবশ্যই ভুলবেন না।

মাউন্ট ওয়াশিংটনে ভ্রমণ করলে অবশ্যই সেখানকার জাদুঘরটি ঘুরে দেখবেন। সেখানে এই জায়গার মানুষ ও প্রকৃতির ইতিহাস আছে। জাদুঘরটির রক্ষণাবেক্ষণ করে মাউন্ট ওয়াশিংটন অবজারবেটরি। উত্তর কনওয়েতে অবজারভেটরি'র ওয়েদার ডিসকভারি সেন্টার বা অনলাইনেও (www.mountwashington.org) এই পর্বত সম্পর্কে জানতে পারবেন।

আদি আমেরিকানরা এই শৃঙ্গকে ‘অ্যাজিওকোচক’ নামে ডাকতেন। সেখানে তারা কখনো আরোহন করেন নি। তাদের বিশ্বাস ছিল, মাউন্ট ওয়াশিংটনের চূড়ায় ‘মহান আত্মা’বসবাস করে।

গিওবানি দ্য ভিরাজানো নামের এক ইউরোপীয় নাগরিক প্রথম এটি আবিস্কার করেছিলেন। ১৫২৪ সালে নিউ হ্যাম্পশায়ার সমুদ্র উপকূল থেকে তিনি প্রথম এটি দেখেছিলেন। ১৬৪২ সালে ডার্বি ফিল্ড নামের এক ইউরোপীয় সেখানে প্রথম বসতি স্থাপন করেন।

১৮১৯ সালে এই পর্বতশৃঙ্গে পায়ে হেঁটে যাওয়ার রাস্তা তৈরি করেন আবেল ক্রফোর্ড ও তার ছেলে ইথান অ্যালেন ক্রফোর্ড। তারা ছিলেন আমেরিকার আদি জনগোষ্ঠী। এই পথটি আমেরিকানরা এখনো রক্ষণাবেক্ষণ করছে। পরবর্তীতে ইথান অ্যালেন ক্রফোর্ড এটিকে ঘোড়ার রাস্তার উপযোগী করে তৈরি তোলেন। ১৮৪০ সালে এ কাজ শেষ হয়।

১৮৬১ সালে, যখন মাউন্ট ওয়াশিংটন অটোরোডটি পরিবহনের উপযুক্ত হয়, তখন থেকে পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় জায়গায় পরিণত হয় মাউন্ট ওয়াশিংটন। এর আট বছর পর তৈরি হয় রেলপথ। এটি বিশ্বের প্রথম র‌্যাক ও পিনিয়নের তৈরি রেলপথ।


আরো পড়ুন