শিরোনাম :

  • আফগানিস্তানে জাতিসংঘ কম্পাউন্ডে হামলা কর্মস্থলে যেতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ৫ আগস্টের পরও বাড়বে বিধিনিষেধ, আসতে পারে শিথিলতা কামরাঙ্গীরচরে নিজ বাসায় আগুনে পুড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
শিল্পী সাঈদ আহমাদ
সঙ্গীত মানুষের হৃদয়ে গভীরে
মাসউদুল কাদির
১৮ জুন, ২০২১ ২০:২৫:০৭
প্রিন্টঅ-অ+


সাঈদ আহমাদ হামদ-নাতের পাখি। দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিদেশের শ্রোতাদেরও টানতে পেরেছেন তিনি। সঙ্গীতের নানা অনুষঙ্গ নিয়ে কাজ করছেন। আলোচনায়ও সিদ্ধহস্ত। আরবি মাধ্যমে সর্বোচ্চ শ্রেণি তাকমিল ফিল হাদিস-এর ডিগ্রি অর্জন করে একজন দ্বীনী দাঈ হিসেবে কাজ করছেন তিনি। বর্তমানে হামদ-নাত নিয়ে কেমন কাজ হচ্ছে তা-ই জানালেন নাশিদশিল্পী সাঈদ আহমাদ। কথা বলেছেন আমার বার্তার সহকারী সম্পাদক মাসউদুল কাদির। পাঠকের জন্য সাক্ষাৎকারের চুম্বুকাংশ তুলে ধরা হলো-

বর্তমানে প্রচুর হামদ-নাতের কাজ হচ্ছে। অন্যান্য সঙ্গীতের সঙ্গে পালস্না দিয়ে হামদ-নাতের জনপ্রিয়তাও অনেক। এর জন্য কোন্ বিষয়টি প্রাধান্য পাচ্ছে বলে আপনি মনে করেন?

উত্তর : ধন্যবাদ। প্রচুর হামদ-নাতের কাজ হচ্ছে। আমি পালস্নার কথা বলবো না। তবে হামদ নাতের বাজার তৈরি হয়েছে। শ্রোতা বেড়েছে-নিঃসন্দেহে। প্রতিযোগিতার মাঠে সবাই ভালো কিছু করতে আগ্রহী। আরও ভালো কাজের আশাবাদি আমরা।

আপনার প্রথম হামদ-নাত গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন কার হাত ধরে?

উত্তর : প্রথম ইসলামি সংগীত গাওয়ার সুযোগ পেয়েছিলাম উস্তাদ মরহুম আইনুদ্দিন আল আজাদ রহ.-এর হাত ধরে। আমি তার কাছে আসি ২০০৫ এর শুরুতে। তখন থেকেই আজও পর্যন্ত এবং সব সময় তার চিন্তা  চেতনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। সব কিছু ফলো করার চেষ্টা করি, তার বলা, চলা, গাওয়া বলতে গেলে সবক্ষেত্রে। আলস্নাহ তায়ালা উস্তাদ আইনুদ্দিন আল আজাদ রহ.কে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।

আগে হামদ-নাতের ক্যাসেড বা সিডি-ভিসিডি বিক্রি হতো। এখনতো সে অবস্থা নেই। শিল্পীদের আয়ের উৎসও কমে গেছে। নতুন কী কী পদ্ধতিতে শিল্পীরা আয়ের সুযোগ পাচ্ছেন?

উত্তর : শিল্পী হলেই যে অর্থ আয় করতে হবে বিষয়টা এমন নয়। কারণ এটা উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক অঙ্গন। এখানে নিজেকে বিলিয়ে দিতে হবে প্রচারের জন্য দ্বীনের স্বার্থে। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। তারপর যদি কিছু আয় হয় সেটা ভিন্ন কথা। আর আমাদের দেশে শুধু গানকে ইনকাম সোর্স বানানো এটা কঠিন। কেননা আমরা গানগুলো নিজেদের খরচে করে থাকি। তাই প্রত্যক শিল্পীর উচিত গানের পাশাপাশি অন্য কিছু করা।

সিডি-ভিসিডি যুগে আপনার আয় বেশি ছিল নাকি ফেসবুক-ইউটিউভ আমলে?

উত্তর : অডিও এলবাম সিডি ভিসিডির সময় যে শিল্পীদের আয় বেশি হতো বিষয়টা তা নয়। কারণ অনেক শিল্পী নিজেদের টাকা খরচ করে এলবাম করতো তারপর কোন একটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে দিতো বা ঐ প্রতিষ্ঠানের খরচে এলবাম হতো। আগে প্রতিষ্ঠান বেশি লাভবান হতো।  সেখান থেকে শিল্পীদের তেমন বেশি কিছু পাওয়ার সুযোগ ছিলো না। সামান্য কিছু টাকা দিতো।  এখন বর্তমানে শিল্পীদের আয়ের উৎস হলো কেবল স্টেজ প্রোগ্রাম। এছাড়া কেউ যদি নিজস্বভাবে কোন ইউটিউব চ্যনেল খুলে আয় করার জন্য সেটা ও খুব কঠিন অনেক ইনভেস্ট করা লাগে ব্যয় বহুল। অডিও সিডি ভিডিডির সময় আমার ইনকাম তেমন বেশি কিছু ছিলো না। কারণ তখন ছোট ছিলাম, আবার ছাত্র ছিলাম। প্রোগ্রামে যাওয়া হত কম। শুধু শুক্রবার যেতাম। সেখানেও খুবই কম পেতাম। কেননা বর্তমান সময় আর আগের সময় অনেক তফাৎ। কিন্তু এখন বড় হয়েছি প্রোগ্রাম আলহামদুলিলস্নাহ অনেক করছি চাকরি করছি, ব্যবসা করছি। সব মিলিয়ে আলহামদুলিলস্নাহ ভালো আছি।

হামদ-নাতে একসময় হিন্দি বা অন্য অনেক দেশের সুর নকল হতো। এখন কি মনে করেন সে নকলচর্চা কমেছে?

উত্তর : একটা সময় হিন্দি গান বা বাংলা গানের সুরে ইসলামি সংগীত গাওয়া হতো প্রচুর। কারণ এখন যতটা আপডেট মানুষ ইসলামী সংগীত নিয়ে চিšত্মা করে তখন এমনটা ছিলো না কোন রকম হলেই চলে যেতো। কিন্তু বর্তমানে আমরা কলরবসহ যারাই কাজ করছে সবাই চিšত্মা করছে বা করছি কিভাবে আগের ভুলগুলো থেকে শিক্ষা নিয়ে ইসলামী সংগীতকে নকল সুর বা হিন্দি গানের সুর থেকে বেরিয়ে আসা যায়। ইনশাআলস্নাহ আশা করছি একটা সময়, নকল সুরচর্চা থেকে আমাদের সুরকার-শিল্পীগণ বেরিয়ে আসতে সড়্গম হবেন।

 হামদ-নাতের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নিয়ে আপনার ভাবনা কী?

উত্তর : আসলে শিক্ষার কোন বয়স নেই সেই ছোট বেলা থেকে হামদ-নাত চর্চা করছি। সামনেও সবসময় করবো ইনশাআলস্নাহ।

আলহামদুলিলস্নাহ আমরা কলরব বিশেষভাবে হামদ-নাত চর্চা যেন ভালো হয় সেই জন্য ৩ মাস কোর্স চালু করেছি। বর্তমানে ২৫তম ব্যাচ চলছে আমাদের কলরবে। প্রায় প্রতি সাপ্তাহে অসংখ্য শিক্ষার্থী সংগীতের ক্লাসে অংশ গ্রহণ করে থাকে। আমরা প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। আমরা সবধরনের সংগীত শিখিয়ে থাকি। হামদ-নাত, দেশাত্মবোধক, জাগরণী ও সমসাময়িক। আমাদের এই কোর্সটি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে আলহামদুলিলস্নাহ। আর একজন ভালো শিল্পীর জন্য প্রশিক্ষণের বিকল্প নেই।

একসময় কেবল রমজান কেন্দ্রীক ছিল হামদ-নাতের চর্চা। এখন গন্ডি পেরিয়েছে। সবমহলে হামদ-নাতকে ছড়িয়ে দিতে আপনাদের উদ্যোগ কী?

উত্তর : একটা সময় শুধু রমজান এলেই কাজি নজরম্নলের সংগীত গুলো বাজতো বিভিন্ন রেডিও টেলিভিশনে। আলহামদুলিলস্নাহ এখন আমাদের সংগীতগুলো শুধু রমজান কেন্দ্রীক নয় বরং সারা বছরই মানুষ আনন্দেই শুনছে, গাইছে। কেননা বলতে গেলে আগে এতো ইসলামি সংগীতশিল্পী, এতো বেশি ছিলো না হাতেগোনা কয়েকজন কিন্তু এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শিল্পী আছে আলহামদুলিলস্নাহ। হামদ নাতের চর্চা হচ্ছে অনেক বেশি যার প্রমাণ আমরা দেখতে পাই আগে যেখানে গান চলতো এখন সেখানে সুন্দর সুন্দর হামদ-নাত বাজানো হয়। বিশেষ করে বিভিন্ন গাড়ি, দোকান-পাট, রেষ্টুরেন্টসহ সব জায়গায় বাজছে আলহামদুলিলস্নাহ। মানুষ ইসলামি সংগীতকে গ্রহণ করেছে। আর অনেক বেশি স্টেজ প্রোগ্রাম হচ্ছে সারা দেশে আলহামদুলিলস্নাহ। আমাদের শিল্পীরাতো এখন বিভিন্ন দেশে গিয়ে হামদ-নাতের প্রোগ্রামে অংশ নিচ্ছে।

নির্ভুল সঙ্গীত কী হচ্ছে বাংলাদেশে? এমন দাবি করতে পারেন আপনি?

উত্তর : আসলে নির্ভুল সংগীত চর্চা আমাদের দেশে খুবই কম হচ্ছে। তার কারণ আমাদের দেশে বাদ্যযন্ত্র দিয়ে গানের চর্চা বেশি হয়। যার কারণে আমরা ইসলামি সংগীত বলতে বুঝি যার মধ্যে কোন ধরনের হারাম ইনুস্টুমেন্ট থাকবে না, সেটাই হলো পবিত্র সুর। তবে এখন আস্তে আস্তে চেষ্টা করছি আমরা এবং অন্যরা যার যার জায়গা থেকে ইসলামি সংগীত নিয়ে নির্ভুল কাজ  করার চেষ্টা করছে। তবে আমি বলবো, এই জন্য একজন ভাল মানের শিল্পী হতে হলে ভালো প্রশিক্ষণ নিয়ে শিখে তারপর গান গাইতে শুরু করা উচিত।

হামদ-নাতের শ্রোতাদের মধ্যে কোন বয়সের বেশি?

উত্তর : হামদ-নাত  মূলত মানুষের সবসময় খুবই পছন্দের সংগীত যা সববয়সের মানুষ পছন্দ করে আর অন্য সংগীতগুলো যেমন জাগরণী বিদ্রোহী বা সমসাময়িক সংগীতগুলো মানুষ সব জায়গায় বাজায় না। এমনিতেই মানুষ শুনে আত্মার খোরাক হিসেবে। শুনতে ভালো লাগে মনের মধ্যে চেতনা ফিরে আসে। তাই আমি বিশেষভাবে বলবো, হামদ-নাত সবচেয়ে বেশি পছন্দ করেন ছোট বয়সের এবং মুরুব্বিগণ। আর বিদ্রোহী বা জাগরণী সংগীতগুলো পছন্দ করেন যুবকরা।

ছোটদের সঙ্গীত নিয়ে কোনো ভাবনা আছে কী?

উত্তর : বলতে গেলে বাংলাদেশেসহ বিভিন্ন দেশে বাচ্চাদের সংগীতের প্রতি মানুষের আকর্ষণ বেশি বড়দের তুলনায়। তাই সংগীতের ক্ষেত্রে বড়দের পাশাপাশি ছোটদের নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা থাকে সবচেয়ে বেশি। আমরা চেষ্টা করছি বাংলা সংগীতের পাশাপাশি ছোটদের দিয়ে আরবি, ইংরেজি ও উর্দুসহ বিভিন্ন ভাষায় সংগীত রচনা করে রিলিজ করা। যাতে করে আন্তর্জাতিকভাবে আমাদের সংগীতগুলো ব্যাপক প্রচার প্রসার ঘটে এবং পবিত্র সুর ছড়িয়ে যায় বিশ্বময়।

আমার বার্তা/ সাঈদুজ্জামান নূর/এসএ





 


আরো পড়ুন