শিরোনাম :

  • কুষ্টিয়ায় প্রকাশ্যে গুলিকরে ২ জনকে হত্যা চীনের দেয়া উপহার “৬ লাখ টিকা” আসবে বিকেলে সূচকের উত্থন পতনে ৩০ মিনিটে ৬০০ কোটি টাকার লেনদেন ইসরায়েলি সেনার গু'লিতে প্রাণ গেল ফিলিস্তিনি নারীর।
ছোঁয়াচে নয় 'ব্ল্যাক ফাঙ্গাস'
২৯ মে, ২০২১ ১৬:৪০:৩২
প্রিন্টঅ-অ+


প্রাণঘাতি করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে মৃত্যুপুরীতে পরিণত বাংলাদেশ, ভারত সহ সারা বিশ্ব এখন ধুঁকছে ‘ব্ল্যাক ফাঙ্গাস’ আতঙ্কে। ভয়ংকর ছত্রাকজনিত এই রোগে ভারতে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৮০০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে প্রাণহানি ঘটেছে ২১৯ জনের। যে কারণে তামিলনাড়ু, গুজরাট, ওডিশা, রাজস্থান ও তেলেঙ্গানা- এই পাঁচ রাজ্যে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে মহামারি ঘোষণা করা হয়েছে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস

এটি একটি ছত্রাক সংক্রমণ, যা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে মানুষের নাক, চোখ ও কোনও কোনও সময় মস্তিষ্কের কোষকে আক্রমণ করে। চিকিৎবিজ্ঞানের ভাষায় ব্ল্যাক ফাঙ্গাসকে ‘মিউকোরমাইকোসিস’ বলা হয়। বর্তমানে ভারতে করোনা রোগীদের শরীরে ঘটছে এই ছত্রাকের সংক্রমণ। তবে এটি সংক্রামক নয় এবং এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তিতে ছড়ায় না।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস কোথায় হয়

এই ছত্রাক আমাদের চারপাশের আর্দ্র বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রাকৃতিকভাবে যেকোনো জায়গায়, যেমন: কাদামাটি, গাছের পাতা, কম্পোস্ট সার, পশু গোবর এবং পচে যাওয়া জিনিসের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে রয়েছে এই ফাঙ্গাস। বাড়ির এসি বা কুলারেও থাকতে পারে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। এসব উৎস থেকে ছড়িয়ে পড়ে সংক্রমিত করতে পারে যে কাউকে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ

এই ছত্রাক বেশির ভাগ মানুষের জন্য ক্ষতিকারক নয়। সাধারণত মানুষ নিজের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দিয়ে এর মোকাবেলা করতে পারে সহজেই; কিন্তু করোনা সংক্রমণের চিকিত্সায় রোগীকে এমন কিছু ওষুধ দেওয়া হয়, যাতে তার স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে গিয়ে এই ফাঙ্গাল সংক্রমণের আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। তবে শুধু যে করোনা রোগীদের মধ্যেই ছড়ায় এমন নয়। যাদের শরীরে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, আগে কোনো গুরুতর রোগের ইতিহাস আছে বা যারা ডায়াবেটিস আক্রান্ত, অর্গান ট্রান্সপ্লান্ট করা ব্যক্তি আবার কেউ যদি স্টেরয়েডজাতীয় ওষুধ ব্যবহার করে, তাদের ক্ষেত্রে এই ছত্রাক যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ এবং সংক্রমণের মাত্রাও তাদের ক্ষেত্রে গুরুতর হতে পারে। করোনা অতিমারি ছড়ানোর আগে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ দেখা যেত প্রতি এক লাখ মানুষের মধ্যে একজনের শরীরে এবং মৃত্যুর হারও যথেষ্ট বেশি। কভিড রোগীদের কিংবা কভিড থেকে সেরে ওঠা মানুষের ক্ষেত্রেই এই সংক্রমণ বেশি দেখা যাচ্ছে ভারতজুড়ে। এমন পরিস্থিতিতে এই অসুখও মহামারি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে সেখানে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষণ

ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের লক্ষ্মণ সম্পর্কে চিকিৎসরা জানান, এটি চোখে সংক্রমণ ঘটালে আক্রান্তের নাক বন্ধ হয়ে যায়, নাকে ঘা হয়ে রক্তক্ষরণ হয়, রোগী চোখে ঝাপসা দেখে অর্থাৎ দৃষ্টি শক্তি কমে আসে, চোখের ভেতর থেকে রক্তক্ষরণ হয়, চোখ জ্বালা পোড়া করে, কারো কারো মুখের একদিকে ফুলে যায়, নাক অথবা দাঁতের মাড়ি কালো হয়ে যায়, এক পর্যায়ে কফের সঙ্গে রক্ত যায়, রক্ত বমি হয়, মাথা ব্যথা, দাঁতে ব্যথা ও ঘাড়ে ব্যথা শুরু হয়। ত্বকে কালো দাগ দেখা দেয়। এছাড়া নতুন করে নিউমোনিয়ার সংক্রমণ ঘটে। ফুসফুসের অক্সিজেন ধরে রাখার সক্ষমতা কমে যায় রোগীর। ফলে শ্বাসকষ্ট বাড়ে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস শনাক্ত করা হয় যেভাবে

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)। ব্যক্তি এই ছত্রাকে আক্রান্ত কি না তা জানতে মাইক্রোস্কোপের স্লাইডে পরীক্ষা করে কিংবা কালচার করে নিশ্চিত হওয়া যায়। তাছাড়া প্রাথমিকভাবে সিটি স্ক্যান করেও নির্ণয় করা সম্ভব। ঢাকা মেডিকেল কলেজের ভাইরোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. সুলতানা শাহানা বলেন, ব্ল্যাক ফাঙ্গাস  শনাক্ত করতে হলে নাক কিংবা চোখে যেখানে উপসর্গ দেখা যায় সেখান থেকে নমুনা নিতে হয়। নমুনা নেওয়ার পর মাইক্রোস্কোপের নিচে স্লাইড বানিয়ে সেখানেই দেখা হয়। আরেকটি পদ্ধতি হচ্ছে কালচার করে দেখা যায়। সেক্ষেত্রে কালচার মিডিয়া আছে। কালচার করতে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়।  তিনি যোগ করেন, ইনফেকশন হলে ফাঙ্গাস সিটি স্ক্যানে বুঝা যাবে কিন্তু কোন ফাঙ্গাস , ব্ল্যাক, হোয়াইট নাকি ইয়েলো সেটি বুঝতে মাইক্রোস্কোপে দেখা লাগবেই। কালচার করা যায় তবে কালচার করার পর স্যাম্পল নিয়ে আবার মাইক্রোস্কোপে দেখতে হবে।

ব্ল্যাক ফাঙ্গাস থেকে কীভাবে দূরে থাকা যায়

মাইক্রোবায়োলজিস্ট এবং ভাইরোলজিস্টরা বলছেন, এসব ছত্রাক পরিবেশে বিশেষ করে মাটি, পচে যাওয়া জৈব পদার্থে (যেমন: পচা ফলমূল, পাতা বা পশুর বিষ্ঠা) ছড়িয়ে থাকে। ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের জীবাণু প্রাকৃতিক ভাবে অরগানিক কিংবা ময়লার মধ্যে থাকেই। তাই এসব থেকে দূরে থেকে সর্বদা পরিষ্কার- পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে। সব সময় পরিষ্কার মাস্ক পরতে হবে, একই মাস্ক বার বার ব্যবহার করা যাবে না। শরীরকে দুর্বল রাখা যাবে না। শারীরিক ব্যায়াম করতে হবে। পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে। পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করতে হবে। ভিটামিন সি, ডি, ও পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। অনেক ধূলিকণা যেমন নির্মাণ বা খননকাজের জায়গা, যেখান থেকে ধুলাবালি ছড়িয়ে পড়ছে এমন জায়গা এড়িয়ে চলা, জুতার সঙ্গে মোজা ব্যবহার করা। খালি পায়ে না ঘোরা। ভেজা বা স্যাঁতসেঁতে দেওয়ালের স্পর্শে না যাওয়া। বাড়ির আঙিনা বা বাগানের কাজে/মাটি খননের সময় জুতা, লম্বা প্যান্ট, লম্বা হাতা শার্ট ও গ্লাভস পরিধান করা। ত্বকে সংক্রমণ হওয়ার আশঙ্কা কমাতে পচা মাটি বা ধূলিকণার সংস্পর্শে গেলে সাবান ও পানির সাহায্যে ত্বক পরিষ্কার করা। ব্লাড-সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখা।

আমার বার্তা/ এইচ এইচ এন


আরো পড়ুন