শিরোনাম :

  • আফগানিস্তানে জাতিসংঘ কম্পাউন্ডে হামলা কর্মস্থলে যেতে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ ৫ আগস্টের পরও বাড়বে বিধিনিষেধ, আসতে পারে শিথিলতা কামরাঙ্গীরচরে নিজ বাসায় আগুনে পুড়ে ব্যবসায়ীর মৃত্যু
রাব্বির হাম হুমা
মুহাম্মদ মিযনুর রহমান
১৮ জুন, ২০২১ ২০:০৮:৩৫
প্রিন্টঅ-অ+


বাবা শব্দটি মনে হলেই প্রতিটি সন্তানের চোখে ভেসে ওঠে পরম ভরসা ও আত্মবিশ্বাসের ছবি। বড় মমতা, আদরের প্রিয় এক মুখ। সন্তানের কাছে প্রতিটি বাবা থাকে অপার্থিব এক ভালোবাসায়। এটা কোনো দিবসের সঙ্গে যুক্ত কোনো কিছু নয়।

‘কাটে না সময় যখন আর কিছুতে/ বন্ধুর টেলিফোনে মন বসে না/ জানালার গ্রিলটাতে ঠেকাই মাথা/ মনে হয় বাবার মতো কেউ বলে না/ আয় খুকু আয়, আয় খুকু আয়’।  শিল্পীদের গাওয়া এই গানটি সন্তানদের মনে করিয়ে দেয় বাবা আসলে কী?

মূলত বাবা হলেন সেই বটবৃক্ষ, যার ছায়াতলে সন্তান সবচেয়ে নিরাপদ থাকে। বাবা শব্দটি দায়িত্ব ও ভালোবাসায় ঘেরা। বাবা শ্রদ্ধা, ভয়, উৎসাহ, নির্দেশনা ও নির্ভরতার চূড়াত্ম ঠিকানা। যাঁর হাত ধরে  সন্তানরা পৃথিবীর সব দুর্গম পথ হেঁটে পৌঁছে বাবার স্বপ্নসুখে।  

বাবা নামটাই কেমন ভারী ভারী! বাবা ঠিক মা নয়। বাইরে বেশি থাকেন। কঠিন চেহারা, শক্ত চোয়াল আর অত সহজেও হাসেন না। আর এই বাবাকে কোনো না কোনো দিন চিনে ফেলে সন্তান। বাইরে তিনি যতটাই কঠিন, ভেতরে ততটাই কোমল। সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য নিজের বর্তমানের হাসিমুখকে উৎসর্গ করে দেন এই বাবারা।

‘বাবার আদর্শেই আমরা চলি। আমার বাবা ছিলেন আমার বটগাছ, এখনও তাই। এ অনুভূতিটাই আমাকে একটা নিরাপত্তা আর নির্ভরতার বোধ দেয়। দেয় আত্মবিশ্বাস।’ ‘বাবা’ শব্দটা যেন এক বিশাল পৃথিবীর সমান। একজন বাবা তার সন্তানদের শুধু ভালোবাসা নয়, তার শেষ সম্বলটুকু উজাড় করে দিতেও দু’বার চিন্তা করেন না। কারণ তার কাছে সন্তানের চেয়ে দামি আর কিছু নেই। কিন্তু, সেই সন্তানদের কেউ যদি বাবাকেই ভুলে যায়?

আমরা অবাক হই- অনেক মুসলিম তরম্নণ যুবাদেরকে মা দিবসে উইশ করতে দেখে। প্রাক্টিসিং মুসলিম এমনকি আলেম ওলামাদেরকেও মা দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে লেখালেখি করতে দেখি। এসব দিবসের ইতিহাস ও এগুলোকে কেন্দ্র করে কর্পোরেট কোম্পানিগুলোর উদ্দেশ্য না জেনে এবং ইসলামের সৌহার্দ্যপূর্ণ বিধান না জানার কারণে মুসলিম সমাজেও এসবের প্রচলন ঘটছে। বাস্তবিকভাবে আমার কাছে এভাবে বাবা দিবস পালন করাটা বাণিজ্যিক মনে হয়। অথচ ইসলাম মা- বাবার প্রতি  সব সময় সুন্দর আচরণের কথা বলে। এইতো পিতা- মাতার আনুগত্যের ব্যাপারে স্বয়ং আলস্নাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমার পালন কর্তা আদেশ করেছেন যে, তাঁকে ছাড়া অন্য কারো ইবাদাত কর না এবং বাবা-মার সঙ্গে সদ্ব্যবহার কর। তাদের মধ্যে কেউ অথবা উভয়েই যদি তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্যে উপনীত হন; তবে তাঁদেরকে ‘উহ’ শব্দটিও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না এবং তাদের সঙ্গে বল শিষ্টাচারপূর্ণ কথা। (সূরা বনি ইসরাইল : আয়াত ২৩)। এভাবে  পবিত্র কুরআনুল কারিমের পনের জায়গায় বাবা-মার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যের কথা বলা হয়েছে।

অন্যদিকে রাসুলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম বাবার মর্যাদা সম্পর্কে বলেছেন, ‘বাবার সন্তুষ্টিতে আলস্নাহ তাআলা সন্তুষ্ট হন; আবার বাবার অসন্তুষ্টিতে আলস্নাহ অসন্তুষ্ট হন।’ সে কারণেই ইসলাম বাবা-মার সঙ্গে অন্যায় আচরণ করাকে বড় গোনাহের কাজ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। বাবা-মার মর্যাদা কত বড় তার প্রমাণে রাসুলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহিস সালামের রয়েছে অনেক বড় একটি হাদিস রয়েছে। হাদিসটি সংক্ষিপ্ত রূপ হলো, হজরত আবু হুরায়রা রাদিয়ালস্নাহু আনহু হতে বর্ণিত, ‘একবার রাসুলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম মিম্বরের প্রথম ধাপে ওঠে বললেন, আমিন; দ্বিতীয় ধাপে ওঠে বললেন, আমিন; তৃতীয় ধাপে ওঠে বললেন, আমিন। সাহাবায়ে কেরাম বিশ্বনবির আমিন বলার কারণ জানতে চাইলেন। রাসুলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম বললেন, ‘এ মাত্র জিব্রিল আলাইহিস সালাম আমাকে জানালেন, যে ব্যক্তি রমজান পেলে কিনন্তু তার গোনাহ মাফ হয়নি, সে ধ্বংস হোক; আমি বললাম আমিন। তারপর জিব্রিল বললো, সে ব্যক্তি ধ্বংস হোক, যার সামনে আমার নাম উচ্চারণ করা হলো কিন্তু সে দরূদ পড়লো না, আমি বললাম আমিন। তারপর জিব্রিল বললো, ‘সে ধ্বংস হোক, যে বাবা-মা উভয়কে পেল অথবা একজনকে পেল কিন্তু তারা তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করালো না। আমি বললাম আমিন। এ হাদিসের ব্যাখ্যায় মুহাদ্দিসগণ বললেন, ‘বার্ধক্যে পিতা-মাতা দুর্বল হয়ে পড়ে; রোগে-শোকে অসহায় হয়ে পড়ে, সে অবস্থায় যে সন্তান পিতা-মাতর খেদমত তথা সেবা-যত্ন না করে তাদের জন্য এ ধ্বংস। যে ব্যাপারে বিশ্বনবি আমিন বলেছেন। অথচ বিশ্বনবি ছিলেন উম্মতের জন্য রহমদিল। সব সময় উম্মতের জন্য আলস্নাহর নিকট কল্যাণের আবেদন করতেন। অথচ পিতা-মাতার অবমূল্যয়ন করায় বিশ্বনবী তাদের ধ্বংসের ব্যাপারে আমিন বলেছেন। (নাউজুবিলস্নাহ)।

রাসুলুলস্নাহ সালস্নালস্নাহু আলাইহি ওয়া সালস্নাম বলেছেন আরো বলেন, ‘যখন কোনো সšত্মান বাবা-মার প্রতি অনুগ্রহের দৃষ্টিতে তাকান; আলস্নাহ তাআলা তার প্রতিটি দৃষ্টি বিনিময়ে সšত্মানের আমলনামায় কবুল হজের সোয়াব দান করেন।

জগতের সব কিছু দিয়েও বিনিময় দেওয়া অসম্ভব মা-বাবার। শুধু একটি দোয়া ছাড়া। আমার আব্বাসহ পৃথিবীর সব বাবাদের মহান আলস্নাহ তায়ালা সুস্থ রাখুন এবং নেক হায়াত দান করম্নন। আসুন সবাই পড়ি- রাব্বির হাম হুমা কামা রাব্বাইয়ানী সগীরা।

লেখক : শিক্ষার্থী, জামিয়া শরইয়্যাহ মালিবাগ, ঢাকা



 


আরো পড়ুন