ই-পেপার শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ: ইতিহাস ও ভূগোলের কঠিন বাস্তবতা

প্রফেসর মো. শাহাদত হোসেন:
১০ মার্চ ২০২৬, ১৪:১০
আপডেট  : ১০ মার্চ ২০২৬, ১৪:১৮

আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করেছে। এই আক্রমণের ফলে কি ইরান পরাজিত হবে? স্পষ্ট উত্তর—না। তাহলে কি এই যুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরাইল পরাজিত হবে? তারও উত্তর—না। যুদ্ধটি অসম হলেও এই যুদ্ধে কোনো পক্ষেরই চূড়ান্ত বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। সমরাস্ত্রের দিক থেকে আমেরিকা ও ইসরাইল অবশ্যই ইরানের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। কিন্তু তারপরও এটি সত্য যে, এই যুদ্ধে আমেরিকা বা ইসরাইল সহজে বিজয়ী হতে পারবে না। এর প্রধান কারণ—তারা আক্রমণ করছে এমন একটি দেশকে, যার নাম ইরান। এই ইরান বা পারস্য কখনো সহজে কারো কাছে মাথা নত করে না, পরাভূতও হয় না। পাঁচ সহস্রাধিক বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে ইরানের। পারস্যের বীরত্বগাঁথা সারা বিশ্বেই সমাদৃত। মাথা উঁচু করে বেঁচে থাকা এক আত্মমর্যাদাশীল জাতি হলো ইরান।

ইসলামের আগেও ইরানিরা সাহসী, সৎ, বীর এবং আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। ইসলামের ছায়াতলে আসার পর তাদের এই গুণাবলি আরও বহুগুণে বিকশিত হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, আমেরিকা ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানকে তছনছ করে পরাজিত করবে। ইতোমধ্যে তারা ইরানের শীর্ষ নেতাসহ অনেককে হত্যা করেছে। ধ্বংস করেছে ইরানের বহু স্থাপনা। নারী ও শিশুও নিহত হয়েছে। কিন্তু তারপরও ইরান মাথানত করেনি।

সামনের দিনগুলোতে আমেরিকা ও ইসরাইল তাদের আক্রমণ আরও বাড়াতে পারে। ফলে ইরানের হাজার হাজার সৈনিক, সেনাপতি এবং সাধারণ মানুষ নিহত হতে পারে। ধ্বংস হতে পারে ঐতিহাসিক স্থাপনা ও বিভিন্ন শহর। তবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস—তাতেও ইরান আত্মসমর্পণ করবে না।

এক সময় আমেরিকা ও ইসরাইলের আকাশপথে আক্রমণ সীমিত হয়ে আসতে পারে। তখন তারা স্থল আক্রমণের চেষ্টা করবে। কিন্তু ইরান একটি বৈচিত্র্যময় ভূ-প্রাকৃতিক দেশ। এখানে রয়েছে অসংখ্য পাহাড়-পর্বত। ফলে বহিঃশত্রুর পক্ষে স্থলভাগে বড় ধরনের সুবিধা করা সহজ হবে না।

এছাড়া ইরানে বর্তমান সরকারের প্রতি মানুষের যে ক্ষোভ ছিল, আমেরিকা-ইসরাইলের আক্রমণের ফলে সেই ক্ষোভ অনেকটাই কমে গেছে। বরং দেশপ্রেম ও ধর্মীয় চেতনা নতুনভাবে জাগ্রত হয়ে মানুষকে একতাবদ্ধ করেছে। ইতিহাস বলছে—একতাবদ্ধ কোনো জাতিকে অস্ত্রের শক্তি দিয়ে সহজে পরাজিত করা যায় না। এর উজ্জ্বল উদাহরণ বাংলাদেশ।

আমেরিকা-ইসরাইলের অন্যতম বড় শক্তি ছিল মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত তাদের সামরিক ঘাঁটিগুলো। কিন্তু ইরান এবার কৌশলে সেই ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে।

এক্ষেত্রে ইরানের সামরিক কৌশলের প্রশংসা না করে উপায় নেই। আমেরিকা ও ইসরাইল যখন যৌথভাবে ইরানে আক্রমণ করে, পাল্টা লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ইরান সরাসরি আমেরিকা বা ইসরাইলকে বেছে নেয়নি। বরং তারা আশপাশের দেশগুলোতে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে আমেরিকা ও ইসরাইল যে সহযোগিতা পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিল, তা অনেকটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

অনেকে বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর ইরানের আক্রমণ অন্যায় হয়েছে, কারণ এসব দেশে মুসলমানরাই বসবাস করে। কিন্তু এই বক্তব্য পুরোপুরি সঠিক নয়। কারণ ইরান মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর ওপর আক্রমণ করেনি; বরং সেখানে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলোকেই লক্ষ্যবস্তু করেছে।

এই সামরিক ঘাঁটিগুলো অনেকটা স্বাধীন রাষ্ট্রের মতো পরিচালিত হয়। অর্থাৎ আমেরিকার অনুমতি ছাড়া সংশ্লিষ্ট দেশগুলোরও এসব ঘাঁটিতে প্রবেশের পূর্ণ অধিকার থাকে না। এ ধরনের পরিস্থিতির কারণেই জাপান দীর্ঘদিন ধরে তাদের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু বিভিন্ন চুক্তির অজুহাতে আমেরিকা এখনো সেগুলো সরিয়ে নেয়নি।

মধ্যপ্রাচ্যের এসব সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা ইরানের অন্যতম বড় কৌশলগত সাফল্য। এখন যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তাহলে অনেক ক্ষেত্রেই ইরান তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকতে পারে।

এই যুদ্ধে ইরানকে যদি পরাজিত করা না যায়, তবে খুব শিগগিরই ইরান পারমাণবিক শক্তি অর্জনের পথে আরও এগিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে এটি মধ্যপ্রাচ্যের দ্বিতীয় পারমাণবিক শক্তিধর দেশে পরিণত হতে পারে। আর ইরান যদি পারমাণবিক শক্তি অর্জন করে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা ও ইসরাইলের প্রভাব-প্রতিপত্তি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে।

লেখক: অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, গুরুদয়াল সরকারি কলেজ, কিশোরগঞ্জ।

আমার বার্তা/প্রফেসর মো. শাহাদত হোসেন/এমই

খাদ্য মানুষের জন্য অধিকার অনুগ্রহ নয়

প্রতি বছর ১৬ অক্টোবর বিশ্ব খাদ্য দিবস পালিত হয়। ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূর করা, সবার

আজকের উদ্ভাবন আগামীর পুষ্টি

একটি দেশের ক্ষুধা ও খাদ্যসংকটের চিত্র সব সময় খাদ্যগুদামের শূন্যতা, কৃষিজমির অনুর্বরতা কিংবা বন্দরে খাদ্যশস্যের

অবহেলা, অনিয়ম আর জবাবদিহির সংকট

শুভ সকাল। রাষ্ট্রেরও বোধ হয় ঘুম পায়। তবে মুশকিল হলো, তার ঘুম ভাঙানোর জন্য কখনো

কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতে ভবিষ্যৎ অন্ধকারে 

সচেতনতা । কিশোর—শব্দটা শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে দুরন্তপনা, ছটফটে এক উজ্জ্বল চেহারার ছবি। যার অস্থির
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

রিয়াদ ইয়ারপোর্টে হামলায় ১৭ জন নিহত, আহত ৩৩৩ : সৌদি

ককরোচ পার্টির পক্ষে রায় দিলো দিল্লি হাইকোর্ট

গুলশানে দুই দিনব্যাপী সুগন্ধিমেলা শুক্রবার শুরু 

বিজেপিকে ঠেকাতে উত্তর প্রদেশে জোটের প্রস্তাব ওআইসির

নওমুসলিমের মুসলিম কোটা বাতিল করলো ভারত

নেহা বোরার ‘বাংলাদেশের আন্দোলন পথ দেখিয়েছে’ ভিডিও নিয়ে বিজেপির বয়ান

বুরকিনা ফাসোতে সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ 

রাগের মাথায় সুন্নাহ পরিপালন

আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত মুফতি তাকি উসমানি

শারদীয় শুভেচ্ছা জানানোর শরয়ি বিধান

মনের দশ রোগ নিরাময় ও ইসলাম

খাদ্য মানুষের জন্য অধিকার অনুগ্রহ নয়

আজকের উদ্ভাবন আগামীর পুষ্টি

কৃষককে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখেই কৃষিখাতের নীতি ও প্রযুক্তি নির্ধারণ করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসগু‌লোর মধ্যে ঢাকার ফেসবুক পেজ‌টি সবচেয়ে বড়

ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: রাষ্ট্রপতি

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন: রাষ্ট্রদূত

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও বাংলাদেশের অর্থনীতি সঠিক পথে: অর্থমন্ত্রী

গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করল পুলিশ

দুর্গাপূজা নিরাপত্তায় নিয়োজিত থাকবে ২ লাখ ১২ হাজার আনসার-ভিডিপি