শিরোনাম :

  • ৩০ হাজার ৩৫৪ জন হাজি দেশে ফিরেছেন মক্কায় আরও এক বাংলাদেশি হাজির মুত্যু এবার হজ করেছেন ২৪ লাখ ৮৯ হাজার ৪০৬ মুসল্লি মোজাফফর আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী ইশান্তের তোপে দিশেহারা ক্যারিবীয়রা
প্রথম স্ত্রীর পরিকল্পনায় শ্রমিক হত্যার অভিযোগ
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
৩১ জুলাই, ২০১৯ ১০:৫২:৪০
প্রিন্টঅ-অ+


সাতক্ষীরা সদরের ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের গোবিন্দকাটি গ্রামের একটি পাটক্ষেত থেকে আলমগীর হোসেন আলম (৩৫) নামের এক পরিবহন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩০ জুলাই) সকাল ৯টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

নিহত আলমগীর গোবিন্দকাটি গ্রামের ফকির আহম্মদ সরদারের ছেলে ও সাতক্ষীরার সংগ্রাম পরিবহনের সুপারভাইজার। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার প্রথম স্ত্রী আয়েশা খাতুন ও দ্বিতীয় স্ত্রী রহিমা খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ।

এদিকে আটকের আগে নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী রহিমা খাতুন জানান, প্রথম স্ত্রী গোবিন্দকাটি গ্রামের আয়েশা খাতুনকে তালাক দিয়ে ২০১৫ সালের নভেম্বরে রহিমাকে বিয়ে করেন আলমগীর। বর্তমানে তাদের দুই বছরের একটি ছেলে সন্তান রয়েছে। তালাকনামা না তুলে আয়েশা ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে, পারিবারিক আদালতে ও বিনা অনুমতিতে বিয়ের অভিযোগ এনে আদালতে পৃথক তিনটি মামলা করে।

তিনি আরও জানান, মামলায় সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হোসনে আরা আক্তার প্রথম স্ত্রী আয়েশা ও তার মেয়ের পড়াশোনা ও সংসার খরচ বাবদ জমি ও টাকা দিয়ে ছয় মাস আগে মীমাংসা করে দেন। মীমাংসার শর্ত অনুযায়ী, আয়েশাকে পৃথক দুটি দলিলে তিন কাঠা ও দুই শতক জমি লিখে দেন আলমগীর। নগদ ৬০ হাজার টাকাও দেয়া হয় চার মাস আগে। অথচ গত ২৪ জুন মামলার ধার্য দিনে আয়েশা ও তার বাবা আনছার আদালত চত্বরে আলমগীর হোসেনকে মারপিটের চেষ্টা করে ও হত্যার হুমকি দেয়। আয়েশা ও তার বাবা পরিকল্পিতভাবে আলমগীরকে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন রহিমা খাতুন।

ঘটনার বিবরণে রহিমা খাতুন আরও জানান, গত সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে আলমগীর বাড়ি থেকে মাধবকাটি বাজারে যান। সেখানে কামরুলের চায়ের দোকানে বসে ইউপি সদস্য সুমনের সঙ্গে কথা বলে একটি ইজিবাইকে ওঠেন। রাত ১১টা পর্যন্ত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে ঘটনাটি শাশুড়িকে জানান রহিমা। সকালে আলমগীরের মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহত আলমগীরের মা খাদিজা খাতুন অভিযোগ করে জানান, দ্বিতীয় বিয়ের কারণে প্রথম স্ত্রী ও তার স্বজনরা আলমগীরকে খুন করেছে।

নিহত আলমগীরের প্রথম স্ত্রীর মেয়ে স্কুলছাত্রী দিশা জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার বাবা তাদের বাড়িতে এসে মায়ের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে যায়। এরপর কোথায় যায় সেটি সে জানে না।

সাতক্ষীরা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান  বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, আলমগীর হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। মাথায় ভারী জিনিস দিয়ে আঘাত করা হয়েছে। এছাড়া গলায় ফাঁস লাগানোর চিহ্ন রয়েছে।

তিনি বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহতের প্রথম স্ত্রী আয়েশা ও দ্বিতীয় স্ত্রী রহিমা খাতুনকে আটক করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বিস্তারিত জানা যাবে। এ ঘটনায় এখনও কোনো মামলা হয়নি। মামলার প্রস্তুতি চলছে।



আমার বার্তা/ ৩১ জুলাই ২০১৯/ রিফাত


আরো পড়ুন