শিরোনাম :

  • নিজেকে বিজয়ী করতে যা করতাম এখনও তা-ই করব : আ জ ম নাছির অস্ত্র ঠেকাতে বিমানবন্দরে বসছে অত্যাধুনিক বডি স্ক্যানার সরকার ও জনগণের বন্ধন যত বেশি মজবুত হবে গণতন্ত্র তত টেকসই হবে : রাষ্ট্রপতি কাশ্মীর ইস্যুতে জাতিসংঘের দেয়া প্রস্তাব ভারতের নাকচ
রাজশাহীতে থানা থেকে বেরিয়ে লিজার আত্মহননে পুলিশের গাফিলতি নেই
রাজশাহী প্রতিনিধি :
০৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১০:৪০:৩৬
প্রিন্টঅ-অ+


রাজশাহী নগরীর শাহমখদুম থানা থেকে বেরিয়ে গায়ে আগুন দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন কলেজছাত্রী লিজা রহমান (১৮)। স্বামীর বিরুদ্ধে থানা পুলিশ মামলা না নেয়ায় এই কাণ্ড ঘটান রাজশাহী মহিলা কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী।

তবে নগর পুলিশ বলছে, ওই ছাত্রীর আত্মহননে শাহমখদুম থানা পুলিশের গাফিলতি নেই। এই ঘটনা তদন্ত করে নগর পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, ঘটনা তদন্ত করে আরএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) সালমা বেগমের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গত শনিবার পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবিরের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। ওই প্রতিবেদনে থানা পুলিশের গাফিলতি পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলেজছাত্রী লিজা রহমান তার স্বামীর দ্বারা মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়ে অভিযোগ করতে এসেছিল শাহমখদুম থানায়। কিন্তু এটি কোনো ফৌজদারি অপরাধ না হওয়ায় মামলা রেকর্ড করেননি ওসি। পরে লিজাকে দুই নারী কনস্টেবলের সঙ্গে থানা চত্বরে অবস্থিত ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখান থেকে বেরিয়ে এসেই লিজা মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সামনে নিজের গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অতিরিক্ত উপ-কমিশনার গোলাম রুহুল কুদ্দুস বলেন, এ ঘটনায় শাহমখদুম থানার ওসি কোনো রেকর্ড না রাখায় তাকে কৈফিয়ৎ তলব করা হতে পারে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের দিকে রাজশাহীর শাহমখদুম থানা থেকে বেরিয়ে গায়ে আগুন দেন লিজা রহমান। ৬৩ শতাংশ দগ্ধ শরীর নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চারদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে হেরে যান লিজা।

এর আগে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেয়ার পর লিজা রহমান জানিয়েছিলেন, স্বামীর বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করতে গিয়ে ব্যর্থ হয়ে থানার সামনেই আত্মহত্যার চেষ্টা চালান তিনি। গত জানুয়াড়িতে প্রেমে করে পরিবারের অমতে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পর থেকেই তারা নগরীর গাঙপাড়া এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে সংসার করছিলেন।

এ ঘটনায় ২ অক্টোবর রাতে নিহতের বাবা আলম মিয়া বাদী হয়ে শাহমখদুম থানায় আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলা করেন। এ মামলায় পরদিন রাতে লিজা রহমানের স্বামী সাখাওয়াত হোসেনকে (১৮) গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে মামলার অপর আসামি লিজার শ্বশুর মাহবুবুল খোকন ও শাশুড়ি নাজনিন বেগম পলাতক রয়েছেন।





আমার বার্তা/ ০৭ অক্টোবর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন