শিরোনাম :

  • একদিন পিছিয়ে আজ হেমন্তের শুরু টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ বছিলায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান : তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৮ নভেম্বর সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ ওমরাহ যাত্রী নিহত পাক-ভারতের গোলাগুলি, নিহত ৪
কক্সবাজারে চাঞ্চল্যকর ৪ খুনের জট খোলেনি এখনো
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
০৭ অক্টোবর, ২০১৯ ১৭:২৭:৩৮
প্রিন্টঅ-অ+


কক্সবাজারের উখিয়া রত্নাপালংয়ে চাঞ্চল্যকর ‘চার খুনের’ রহস্য ১৩ দিনেও উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় জড়িত বা সন্দেহজনক কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি পুলিশ।

এদিকে খুনের ঘটনায় জড়িতরা আত্মগোপন বা বিদেশে পালিয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা তৈরি হয়েছে নিহতের স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ‌্যে।

তবে পুলিশ জানিয়েছে, হত্যার ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত এবং গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে নানাভাবে তদন্ত অব্যাহত রেখেছে তারা। এ নিয়ে এখনো নিরাশ হওয়ার মত কিছু হয়নি।

গত ২৪ আগস্ট দিবাগত রাতে উখিয়ার রত্নাপালং ইউনিয়নের পূর্ব রত্নাপালং গ্রামের প্রবীন বড়ুয়ার ছেলে কুয়েত প্রবাসী রোকেন বড়ুয়ার পরিবারের চার সদস্যকে জবাই করে হত‌্যা করা হয়। নিহতরা হলেন, রোকেনের মা সুখী বালা বড়ুয়া (৬৫), স্ত্রী মিলা বড়ুয়া (২৬), ছেলে রবীন বড়ুয়া (২) এবং ভাই শিপু বড়ুয়ার মেয়ে সনি বড়ুয়া (৬)।

এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট রাতে রোকেনের শ্বশুর শশাংক বড়ুয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে উখিয়া থানায় মামলা করেন। বর্তমানের মামলাটির তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন ওসি তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার।

ঘটনার দিন প্রবাসী রোকেন বড়ুয়া কুয়েতে অবস্থান করছিলেন। খবর শুনে তিনি ঘটনার পরদিন দেশে ফেরেন।

এদিকে, খুনের ঘটনার পরপরই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি পিবিআই এবং সিআইডির বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। এ ছাড়া তদন্ত সংশ্লিষ্টরা মামলার বাদী, স্বাক্ষী এবং নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশীসহ বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও ঘটনার ১৩ দিনেও খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।

নিহতের স্বজনদের ভাষ্য মতে, একতলা পাকা বাড়িটিতে প্রধান দরজা ও উত্তর দিকের দরজাসহ ভিতর থেকে সিঁড়ি দিয়ে উপরে ওঠার একটি দরজা ছিল। দিনের অধিকাংশ সময়ই এসব দরজা বন্ধ থাকত। কিন্তু খুনের ঘটনা জানাজানির পর বাড়িটির প্রধান দরজা ও উত্তর দিকের দরজা ভিতর থেকে আটকানো থাকলেও ছাদে ওঠা-নামার দরজাটি অক্ষত অবস্থায় খোলা পাওয়া যায়।

পুলিশসহ সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, খুনিরা বাড়িতে যেভাবেই প্রবেশ করুক, হত্যাকাণ্ডের পর ছাদে ওঠানামার সিঁড়ি দিয়েই বেরিয়ে গেছে এটা নিশ্চিত।

চাঞ্চল্যকর এ হত্যা ঘটনার ১৩ দিনেও খুনিরা চিহ্নিত বা গ্রেপ্তার না হওয়ায় পার পেয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন নিহতদের প্রতিবেশি অনিন্দ বড়ুয়া।

অনিন্দ বলেন, ‘ঘটনার পর নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশি অনেককে থানায় নিয়ে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক প্রচেষ্টার বিষয়টি খুনিরা বুঝতে পেরেছে। কিন্তু ঘটনার ১৩ দিনেও রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি।

এতে খুনের ঘটনায় জড়িতরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপন বা বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার মত সুযোগ পেয়েছে অভিমত এ প্রতিবেশীর।

এদিকে ঘটনার পর থেকে মা ও স্ত্রী-সন্তানকে হারিয়ে এখনো হতবাক কুয়েত প্রবাসী রোকেন বড়ুয়া। ঘটনার ১৩ দিনেও রহস্য উদঘাটন না হওয়া এবং জড়িতদের চিহ্নিত করতে না পারায় তিনি অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছেন।

রোকেন বলেন, ‘পরিবারের কারো সঙ্গে এমন নৃশংস ঘটনা ঘটানোর মত সম্পর্ক নেই। এ ছাড়া এক প্রতিবেশির সঙ্গে বসত ভিটার সীমানা নিয়ে বিরোধ থাকলেও এ রকম ঘটনা সংঘটিত করতে পারে ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে।

তবে পুলিশসহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার বিষয়টি নিয়ে তার কোনো প্রশ্ন নেই। তবে এতো দিনেও রহস‌্য উদঘাটিত না হওয়ায় কিছুটা হতাশ।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা ও উখিয়া থানার ওসি (তদন্ত) মো. নুরুল ইসলাম মজুমদার বলেন, ‘চাঞ্চল্যকর এ খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করছে। ঘটনার ব্যাপারে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহল নিয়মিত তদারকি ও খোঁজ খবর নিচ্ছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘খুনের ঘটনাটি পরিকল্পিত। খুনের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। ঘটনায় পরিবারটির ঘনিষ্ঠ কেউ জড়িত থাকতে পারে।’

মামলার এ তদন্তকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘটনাটি জানাজানির পর বাড়িতে প্রবেশের দরজাগুলো বন্ধ থাকলেও ভেতর থেকে ছাদে ওঠানামার দরজাটি খোলা পাওয়া যায়। তাই খুনিরা যেভাবেই প্রবেশ করুক হত্যাকাণ্ডের পর ছাদে ওঠানামার দরজা দিয়ে বের হয়ে গেছে এটা নিশ্চিত।’

নুরুল ইসলাম মজুমদার জানান, ঘটনার ব্যাপারে জানতে পুলিশ মামলার বাদী, স্বাক্ষী এবং নিহতদের স্বজন ও প্রতিবেশিসহ অন্তত ২০ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের পর অণন‌্য যাকেই প্রয়োজন মনে করেছে পুলিশ তাকেই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় এনেছে।

তবে খুনের ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং হত্যাকারীদের চিহ্নিত করার ব্যাপারে এখনো নিরাশ হওয়ার মত কিছুই ঘটেনি বলে মন্তব্য করেন মামলার এ তদন্তকারি কর্মকর্তা।



আমার বার্তা/ ০৭ অক্টোবর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন