শিরোনাম :

  • একদিন পিছিয়ে আজ হেমন্তের শুরু টেকনাফে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত ২ বছিলায় জঙ্গি আস্তানায় অভিযান : তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল ১৮ নভেম্বর সৌদি আরবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫ ওমরাহ যাত্রী নিহত পাক-ভারতের গোলাগুলি, নিহত ৪
স্থানীয়রা ফেনী নদীর অবৈধ পাম্পের অপসারণ চান
বান্দরবান প্রতিনিধি :
০৮ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:৫০:২৯
প্রিন্টঅ-অ+


খাগড়াছড়ির ফেনী নদী থেকে চুক্তি মেনে পানি উত্তোলনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজ।

মানবিক দিক বিবেচনায় বাংলাদেশ ফেনী নদী পানি উত্তোলনে ভারতকে সম্মতি দিলেও চুক্তি কার্যকরের আগে নদীতে স্থাপিত অবৈধ পাম্প অপসারণ ও চুক্তির বাইরে পানি উত্তোলন রোধে তদারকির দাবি করেছেন তারা ।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের অভিযোগ, ২০১০ সাল থেকে যখন ফেনী নদীতে পাম্প বসিয়ে ভারত পানি তুলে নেয় তখন শুষ্ক মৌসুমে নদীর বিভিন্ন স্থানে বালুর চর জেগে ওঠে। নদীর দুই তীরে চাষাবাদ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফেনী নদীর উপর নির্ভরশীল মুহুরী প্রজেক্টের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ে। মুহুরী প্রজেক্টের আওতায় চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ফেনীর ১৫ টি উপজেলার প্রায় ৯ লক্ষাধিক একর কৃষি জমিতে লোনামুক্ত পানি সেচ কার্যক্রম চলে। তাই ফেনী নদীর পানি বন্টন চুক্তি নিয়ে ইতোমধ্যেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে খাগড়াছড়ির রামগড়, মাটিরাঙ্গা ও নদী তীরবর্তী সুফলভোগী বিভিন্ন উপজেলার জনসাধারণের মাঝে।

রামগড়ের মহামুনি সীমান্তে (সীমানা পিলার ২২১৫/২-আর বি) দেখা যায়, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে নো ম্যান্স ল্যান্ডের ১৫০ গজের ভেতরে পাম্প হাউজ স্থাপন করে ফেনী নদী থেকে পানি উত্তোলন করা হচ্ছে। একই ভাবে বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা, রামগড়, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ৩৪ টি পয়েন্টে পাম্প মেশিন বসিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে পানি তুলে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

মহামুনি এলাকার ভুট্টা চাষি ওমর আলী বলেন, ‘ফেনী নদী বাংলাদেশের নদী হওয়ার পরও ভারতের বিএসএফ সদস্যরা বাংলাদেশিদের নদীতে নামতে দেয় না। কিন্তু তারা বছরের পর বছর নদী থেকে পানি তুলে নিচ্ছে। আগামী শীত মৌসুমে যখন নদীতে পানি থাকবে না তখন ধানসহ শাক সব্জি চাষ করতে পারবেন না এই পারের কৃষকরা।’

ফেনী নদী গবেষক নাজিম উদ্দিন লাভলু বলেন, ‘ভারত যদি ফেনী নদী থেকে ১.৮২ কিউসেক পানি উত্তোলন করে তবে তাতে নদীর স্বাভাবিক প্রভাবে তেমন বিরূপ প্রভাব পড়বে না। কিন্তু ২০১০ সাল থেকে নদীর ৩৪ টি পয়েন্টে উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন পাম্প মেশিন বসিয়ে গড়ে ৩০-৪০ কিউসেক পানি উত্তোলন করছে। যার প্রভাবে শুষ্ক মৌসুমে নদীর বুকে বালুর চরে জেগে উঠে। মানবিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী ভারতে যেমন পানি উত্তোলনে সম্মতি দিয়েছেন তেমন করে অবৈধভাবে সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে স্থাপিত পাম্পগুলো অপসারণে ভারতের প্রতি চাপ সৃষ্টি করতে হবে। নয়তো বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বিভিন্ন স্মৃতিজড়িত এই নদীর অস্তিত্ব সংকটের মুখে পড়বে।’

রামগড় উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্ব প্রদীপ কার্বারী বলেন, ‘ভারত যেন অনুমোদিত চুক্তির বাইরে পানি উত্তোলন করতে না পারে সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নজর রাখতে হবে।’

চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে ৬ অক্টোবর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ফেনী নদী থেকে ভারত যে পরিমাণ পানি উত্তোলন করা হবে তার পরিমাণ ‘খুব সামান্য’। প্রতিবেশী দেশের ত্রিপুরা রাজ্যের সাব্রুম শহরের খাবার পানি সরবরাহের ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্টের জন্য মানবিক বিবেচনায় প্রধানমন্ত্রী এতে সায় দিয়েছেন।





আমার বার্তা/০৮ অক্টোবর ২০১৯/রহিমা



 


আরো পড়ুন