শিরোনাম :

  • পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নে জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই : স্পিকার আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস আজ পার্বত্য অঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় তরুণদের সম্পৃক্ত করার আহ্বান : রাষ্ট্রপতি
নিম্নমানের সংস্কার কাজের ফলে গুরুত্ব হারাচ্ছে মহাসড়কটি
কুমিল্লা প্রতিনিধি :
১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১৫:৫৮:৩৭
প্রিন্টঅ-অ+


নিম্নমানের সংস্কার কাজের ফলে দিন দিন গুরুত্ব হারাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়ক। আবারও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে মহাসড়কটির দেবিদ্বার অংশ।

কুমিল্লা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কটি দেশের অন্যতম একটি বানিজ্যিক সড়ক। সড়কটি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা সেনা নিবাস এলাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপর দিয়ে সিলেটের সাথে যুক্ত হয়েছে। দেশের পূর্বাঞ্চলের অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এটি।

সড়কটি কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলাসহ দেবিদ্বার, মুরাদনগর, ব্রাক্ষণপাড়া উপজেলা হয়ে পার্শ্ববর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া স্থলবন্দরে যুক্ত হয়েছে। ভারত থেকে আমদানী ও রপ্তানিতে এই সড়কটির বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। অথচ সংস্কার কাজ নিম্নমানের হওয়ায় এই সড়কপথ হয়ে উঠছে মহাবিরক্তির।

এই আঞ্চলিক মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের প্রায় ৪২ কিলোমিটার অংশজুড়ে রয়েছে অসংখ্য খানা-খন্দক। ফলে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিক-আপ, সিএনজি চালিত অটোসহ ছোট-বড় যানবাহন চালকদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে প্রতিদিন। বর্তমানে সড়কটি যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়লেও সংশ্লিস্ট কর্তৃপক্ষের সেই দিকে কোন নজর নেই।

ময়নামতি সেনানিবাস এলাকা থেকে শুরু করে কংশনগর, জাফরগঞ্জ দেবিদ্বার হয়ে কোম্পানীগঞ্জ পর্যন্ত অধিকাংশ স্থানে ছোটবড় অসংখ্য গর্ত যেন চিরায়ত হয়ে উঠেছে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা বর্ষণে মহাসড়কটি পরিণত হয় মৃত্যুকুপে। সড়কটির দেবিদ্বার অংশে টানা প্রায় ১৮ কিলোমিটার সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই থই থই কাদায় পরিনত হয়। হয়ে উঠে ব্যবহার অনুপযোগী। এরপর এই এলাকায় সংস্কারের নামে পাথরের বদলে দেয়া হয় ইটের সলিং। সাম্প্রতিক সময়ে ঝড়-বৃষ্টিতে সেগুলো আবার আগের অবস্থায় ফিরে গেছে। বেহাল অবস্থার কারণে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। বেহাল দশার কারণে শুধুমাত্র দেবিদ্বার পৌর এলাকা পাড়ি দিতে ঘন্টাখানেক সময় লাগছে যাত্রীদের।

সড়কটি চার লেনে উন্নীত হওয়ার কথা থাকলেও এক যুগেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ রুটে চলাচলকারী সিলেটগামী কুমিল্লা ট্রান্সপোর্ট, কোম্পানীগঞ্জগামী ফারজানা ও কসবাগামী সুগন্ধা পরিবহনের চালকরা জানান, মহাসড়কের বিভিন্নস্থানে অসংখ্য ছোট-বড় খানা-খন্দকের পাশাপাশি অনেকস্থান উঁচু নিচু হয়ে পড়ায় যানবাহন চালনাকালে নিয়ন্ত্রণ ঠিক রাখতে হিমসিম খেতে হচ্ছে চালকদের। বিশেষ করে দেবীদ্বার এলাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা দিন দিন বাড়ছে।

চালকরা জানান, বড় বড় গর্তে ইট দিয়ে প্রায়ই সংস্কারের চেষ্টা করা হলেও কার্যত কোন সুফল আসছেনা। বরং দর্ভোগ বাড়ছেই। কারণ, সেগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যেই উঠে যাচ্ছে। এছাড়া পাথরের স্থানে ইট টেকসই না হওয়ায় ভারী যানবাহনের চাপে স্বল্প সময়েই সেগুলো ভেঙ্গেও যাচ্ছে। ফলে বছর জুড়েই থাকছে জনগণের ভোগান্তি।

সড়কের এই দুরাবস্থার বিষয়ে জানতে চাইলে কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (কুমিল্লা সার্কেল) রানা প্রিয় বড়ুয়া জানান, সড়ক ও জনপথ বিভাগের এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। মহাসড়কটির সংস্কারের জন্য মন্ত্রণালয়ে টেন্ডার করা হয়েছে। দেবিদ্বার ও কংশনগর এলাকা এবং খানা খন্দকে প্রাথমিকভাবে ইটের সলিং দেয়া হয়েছে।



আমার বার্তা/১৬ নভেম্বর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন