শিরোনাম :

  • প্রয়াত এমপি ফজিলাতুন্নেছা বাপ্পীর মায়ের খোলাচিঠি সারওয়ার আলীকে হত্যাচেষ্টা : মূল পরিকল্পনাকারী নাজমুল আটক শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা নেমেছে ৬ ডিগ্রিতে, আসছে বৃষ্টি প্রধানমন্ত্রী টুঙ্গিপাড়া যাচ্ছেন শুক্রবার
ভাল যাচ্ছে না সম্মুখ সমরের মুক্তিযোদ্ধা রাজিয়া খাতুনের শারীরিক অবস্থা
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :
০৭ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১৫:২৫:০২
প্রিন্টঅ-অ+


৩ নং সেক্টরের সম্মুখ সমরের বীর যোদ্ধা রাজিয়া খাতুনের শারীরিক অবস্থা ভাল যাচ্ছে না। আবার পঙ্গু ছেলে সাহেদুলকে নিয়েও কষ্টে আছেন। ছেলের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

রাজিয়া খাতুন হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ পৌরসভার পুরানবাজারস্থ উবাইাটা গ্রামের আব্দুল হামিদ মহালদারের স্ত্রী। স্বামী হামিদ বেঁচে নেই। তাই জীবন সংগ্রামেও একাই লড়তে হচ্ছে এই নারী বীর মুক্তিযোদ্ধাকে।

আলাপকালে তিনি জানান, একাত্তর সালে তাঁর বয়স ছিল ১৮ বছর। যুদ্ধের সময় তিনি বাবার বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় থাকতেন। তখনও তাঁর বিয়ে হয়নি। বৈশাখ মাসের ১২ তারিখ দুপুরে বাড়ির পুরুষরা পালিয়ে যান। তখন পাকিস্তানি বাহিনীর ৬-৭ জন বাড়িতে হামলা চালায় এবং তাকে নির্যাতন করলে তিনি জ্ঞান হারান। যখন জ্ঞান ফেরে তখন তিনি নিজেকে পার্শ্ববর্তী পাকিস্তানি সেনা ক্যাম্পে দেখেন। তখনই ফের নির্যাতিত হন। এভাবে ৩টি দিন নির্যাতন ভোগের পর এক শুক্রবার জুম্মার দিনে সেখান থেকে পালিয়ে সীমান্ত দিয়ে ভারতে আশ্রয় নেন। পরবর্তীতে তিনি ৩ সেক্টরে মেজর শফি উল্লাহর অধীনে তেলিয়াপাড়া, কাশিমনগর, হরিণখোলাসহ বিভিন্ন স্থানে সম্মুখ সমরে অংশগ্রহণ করেন।

তিনি বলেন, ‘যুদ্ধকালে আমাকে শ্রীমঙ্গলের সাতগাঁওয়ের আবিদ সুবেদার, মৌলভীবাজারের সৈয়দ মহসিন আলী (সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী), আজিজুর রহমান, সরাইলের আব্দুর রউফ, কাশিমনগরের রহিমাসহ অনেকই সহযোগীতা করেছেন। স্বাধীনতার পর গ্রামে ফিরে আসি।’

‘পরবর্তীতে স্বাধীনতার ৪২ বছর পর ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে ৩নং সেক্টর প্রধান মেজর শফি উল্লাহ আমাকে দেখে চিনে ফেলেন। আমি সালাম করি। তিনি ফুল দিয়ে আমাকে বরণ করেন। এ অনুভূতি বুঝিয়ে বলতে পারব না।’

রাজিয়া খাতুন বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধে ত্যাগ করেছি। বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। কিন্তু সহজেই মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পাইনি। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়িয়েছি। কেউ আমাকে সহযোগীতা করেনি। পরবর্তীতে বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডেন্ট মানিক চৌধুরীর কন্যা কেয়া চৌধুরীর কাছে গিয়ে আশ্রয় পাই। তিনি আমিসহ আরো ৫ নারী যোদ্ধার স্বীকৃতির জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেন। তাঁর আন্তরিক চেষ্টায় ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর- আমিসহ ৬ বীর নারীকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে গেজেটভুক্ত করার কাজটি সম্পন্ন হয়। অবশেষে মুক্তিযোদ্ধা খেতাব পেলাম। মাসে ১২ হাজার টাকার ভাতা পাচ্ছি। সহায়তা বলতে, প্রকল্প থেকে একটি ছোট ঘর পেয়েছিলাম। এ অবস্থায় আর্থিক দৈন্যতায় দিনাতিপাত করছি। এটা শুধুই অনুভূতি।’

তিনি আরো বলেন, ‘একমাত্র ছেলে সাহেদুল পঙ্গু হয়ে আমার ওপর নির্ভরশীল। মেয়ের বিয়ে হয়েছে। ছেলে ঘরে বেকার বসে রয়েছে। আমার শারীরিক অবস্থা দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। মৃত্যুর পূর্বে ছেলেকে একটি দোকান তৈরি করে দিয়ে যেতে চাই। এজন্য জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সহযোগীতা চাই।’



আমার বার্তা/০৭ ডিসেম্বর ২০১৯/রহিমা


আরো পড়ুন