শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
একই পরিবারের ৫ প্রতিবন্ধী, ভাঙা কোমর নিয়ে যন্ত্রণায় জিয়া
১৪ ডিসেম্বর, ২০২১ ১৮:৫৭:৩৪
প্রিন্টঅ-অ+

ফরিদপুরের মধুখালীর মেগচামী গ্রামের প্রতিবন্ধী জিয়া শেখ (৪০)। তার বাবা করিম শেখ ছিলেন একজন হতদরিদ্র। ভিক্ষা করে চালাতেন সংসার। বছর সাতেক আগে তিন ছেলে ও স্ত্রী রেখে মারা যান করিম শেখ। অন্যদের খবর না থাকায় ছোট ছেলে জিয়ার কাছেই থাকছেন তার শ্রবণ প্রতিবন্ধী মা।


স্ত্রী ও চারসন্তানসহ তার পরিবারের সংখ্যা সাত। শ্রবণ প্রতিবন্ধী হলেও তিনি দিনমজুরির পাশাপাশি তালগাছ ও নারকেল গাছ পরিষ্কার করে চলাতেন সংসার। কিন্তু ছয় মাস আগে একটি তাল গাছ পরিষ্কার করতে গিয়ে ঘটে দুর্ঘটনা। গাছ থেকে পড়ে জিয়ার কোমর ভেঙে যায়। হারান চলাচলের শক্তিও।


ফরিদপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার পর ডাক্তার বলেছেন অস্ত্রোপচারের কথা। কিন্তু সেই সামর্থ্য নেই তার পরিবারে। এদিকে, পরিবারের ঘানি টানতে স্ত্রী আরজিনা বেগম স্থানীয় একটি মিলে মজুরের কাজ করতেন। আরজিনা নিজেও শ্রবণ প্রতিবন্ধী। একপর্যায়ে মিলে কাজ করতে যেয়ে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন।


সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, ভাঙাচুরা টিনের চালার এক কক্ষের একটি ঘর তুলে সেখানেই চার সন্তান, স্ত্রী ও বৃদ্ধা মাকে নিয়ে বসবাস করছেন জিয়া।


জিয়া শেখ জানান, তার দুই ছেলে ও দুই মেয়ে। এর মধ্যে বড় ছেলে আকাশ (১৫) জন্ম থেকেই শারীরিক ও মানসিক প্রতিবন্ধী। ছয় বছর বয়সী ছোট মেয়ে ইয়াসমিন বাবা-মায়ের মতোই শ্রবণ প্রতিবন্ধী। শারীরিক কোনো সমস্যা নেই ১৪ বছর বয়সী মেয়ে হেলেনা ও আট বছর বয়সী তামিমের। হেলেনা মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজ আদর্শ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণিতে এবং তামিম স্থানীয় প্রাইমারি স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্র।


জিয়া শেখ আরও জানান, বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক থেকে অনুদান হিসেবে পাওয়া গরুর বাছুর পালন করে বিক্রির পর সেই টাকা দিয়ে গ্রামে তিন শতাংশ জমি কিনেছেন। সেখানে কোনোমতে একটি ঘর তুলে পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। বড় ছেলে আকাশ প্রতিবন্ধী ভাতা পায়। তার সঙ্গে মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় কোনোরকম চলছে তার সংসার। মাঝে মধ্যে তার বাড়ির চুলাও জ্বলে না। শিশু সন্তানদের নিয়ে ঠিকমতো না খেয়েই অনেকদিন কেটে যায়। তাদের এখন সম্বল বলতে সামান্য বাড়ির ভিটে ছাড়া আর কিছুই নেই।


জিয়া শেখ বলেন, একসময় দিনমজুরি করে সংসার চালিয়েছি। কিন্তু কোমর ভেঙে এখন আমি ঘরে পড়ে আছি। ডাক্তার বলেছেন আমার অপারেশন করাতে। কিন্তু সেই সামর্থ্য নেই। কেউ যদি দয়া করে একটু সাহায্য সহযোগিতা করতেন তাহলে আমরা প্রাণে বেঁচে থাকতে পারতাম।


এ ব্যাপারে স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আজম মোল্যা জাগো নিউজকে বলেন, এই হতদরিদ্র পরিবারটি খুবই অসহায়ত্বের মধ্যে আছে। এলাকাবাসী টাকা তুলে জিয়া শেখের চিকিৎসা করিয়েছি। এখন তার অপারেশনের জন্য বেশ কিছু টাকার প্রয়োজন।


এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কল্লোল সাহা  বলেন, আমরা পর্যায়ক্রমে এ পরিবারের প্রতিটি প্রতিবন্ধী সদস্যকে জরিপের আওতায় এনে ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করবো এবং সরকারি বিশেষ যে প্রতিবন্ধী ক্ষুদ্র ঋণ সহায়তা আছে সে ব্যবস্থাও করা হবে।


এ বিষয়ে মধুখালী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, অসহায় পরিবারটির খোঁজ-খবর নিয়ে সাধ্যমতো সাহায্য সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে।

আরো পড়ুন