শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
বেনাপোলে লাগেনি উন্নয়নের ছোঁয়া, স্থবির বাণিজ্য
০৭ মে, ২০২২ ১০:৩৭:৪১
প্রিন্টঅ-অ+

বেনাপোল বন্দরের উন্নয়নের ধীরগতিতে স্থবির হয়ে পড়েছে আমদানি-রফতানি বাণিজ্য। বন্দরের রাস্তাঘাটের বেহাল দশায় একদিকে দুর্ভোগ অন্যদিকে জায়গা সংকটে খোলা আকাশের নিচে রাখতে হচ্ছে মূল্যবান পণ্য। এতে রোদ, বৃষ্টি, ধুলায় পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।


দেশের সবচেয়ে বড় বেনাপোল স্থলবন্দর। গুরুত্বপূর্ণ হলেও বন্দরটির চাহিদামতো অবকাঠামো উন্নয়ন হয়নি। ফলে পণ্য খালাসে চরম দুর্ভোগ আর হয়রানি থেকে কোনোভাবে মুক্তি মিলছে না। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, বর্তমানে সড়কপথের পাশাপাশি রেলপথেও বাণিজ্য বৃদ্ধি পাওয়ায় সমস্যা আরও বেড়েছে।


বন্দরে জায়গা সংকটে পণ্য আমদানির পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে। মালগুদামে জায়গার অভাবে দিনের পর দিন ট্রাক দাঁড়িয়ে থেকে খোলা আকাশের নিচেই মূল্যবান আমদানি পণ্য নামাচ্ছে। এতে রোদ, বৃষ্টি আর কাদায় মধ্যে পণ্যের মান নষ্ট হচ্ছে। অপরদিকে রাস্তা বেহাল দশা হওয়ায় পণ্য খালাসের ভোগান্তি চরমে সীমায় পৌঁছেছে। ভোগান্তিতে পড়া একজন ব্যবসায়ী বলেন, রাস্তাঘাট ভাঙা ও ধুলাবালি থাকায় আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাসজনিত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।


বন্দরে ধুলাবালির মধ্যে গার্মেন্টস, ইমিটেশনসহ মূল্যবান পণ্য নামাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করে বন্দর সংশ্লিষ্টরা।


বন্দরে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের ঠিকভাবে কাজ না করার অভিযোগ করে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি সাজেদুর রহমান বলেন, বন্দরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য একটি দল নিযুক্ত রয়েছে। তবে তারা ঠিকমতো কাজ করেন না।


বন্দরে জায়গা অধিগ্রহণ করে বেসরকারি খাতে ওয়ারহাউজ ব্যবস্থাপনা দিলে বাণিজ্যে গতি আসবে বলে মনে করে ল্যান্ডপোর্ট ইমপোর্ট এক্সপোর্ট কমিটির চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান।


তিনি বলেন, দক্ষিণ দিকে যে বিল রয়েছে, সেখানের ২০০ বিঘা বা একর জমি যদি ভরাট করে ব্যবহার উপযোগী করে বরাদ্দ নেওয়া হয়, তাহলে এখানে দেশি-বিদেশি বহু লোক আসবে।


এদিকে বন্দরে জায়গার অভাবে কার্গোরেল দিনের পর দিন দাঁড়িয়ে থাকছে বলে জানান বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, ভারত থেকে আসা কার্গোরেলগুলো ৫ থেকে ৬ দিন বাংলাদেশে পড়ে থাকে। যার ফলশ্রæতিতে বাংলাদেশকে বৈদেশিক মুদ্রায় হায়ার চার্জ দিতে হয়।


তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, বন্দরের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দরের উপ-পরিচালক মামুন কবীর তরফদার বলেন, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য বর্তমানে যে কাজগুলো চলমান রয়েছে সেগুলো আগামী ২ থেকে ৩ বছরের আগে শেষ হওয়া সম্ভব নয়।  


বেনাপোল বন্দরের ধারণ ক্ষমতা মাত্র ৪৫ হাজার মেট্রিক টন পণ্য। বর্তমানে ৪২টি শেড ও ইয়ার্ডের মাধ্যমে আমদানি-রফতানি পণ্য রক্ষণাবেক্ষণ হচ্ছে।

আরো পড়ুন