শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
মির্জাপুরে ইউপি নির্বাচন
নৌকার মনোনয়ন কি পাবে বিদ্রোহী-বিতর্কিতরা?
রাব্বি ইসলাম, মির্জাপুর
১৩ মে, ২০২২ ১৯:২০:০৪
প্রিন্টঅ-অ+


আগামী ১৫ জুন অনুষ্ঠেয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার ৬ ইউপিতে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ২৭ প্রার্থী। তবে এদের মধ্যে বিদ্রোহী, বিতর্কিত একাধিক প্রার্থী রয়েছে। দলীয় মনোনয়ন পেতে উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দৌড়ঝাপ শুরু করেছে নৌকা প্রত্যাশীরা। তবে এ নির্বাচনেও বিএনপি অংশ নিচ্ছে না বলে জানা গেছে।


এ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন, ভাওড়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন, ইঞ্জিনিয়ার জুয়েল ইসলাম, আনিছুর রহমান, মেহেদী হাসান মালেক, বহুরিয়া ইউপির সাবেক দুই চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া ও আবুল কাশেম সিকদার খোকন, আব্দুল লতিফ সিকদার, গোলাম মোস্তফা ফজল, রেজাউল করিম বাবলু, শেখ জসিম উদ্দিন, লতিফপুর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান জাকির হোসেন, আলহাজ সিকদার, সৈয়দ আরিফ সিকদার, রাজিব সিকদার, ফতেপুর ইউপি বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুর রউফ মিয়া, সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন তালুকদার, নজরুল ইসলাম, আবুল কালাম আজাদ, আজগানা ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম সিকদার, আব্দুল কাদের সিকদার, শহিদুল ইসলাম মল্লিক, এম.এ কদ্দুস মিয়া। তরফপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিন মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলম, বাছেদ মিয়া, শাহজাহান মিয়া, ইজ্জত আলী জনি।


জানা যায়, গত ২০১৭ সালের ১৬ এপ্রিল এই ৬ ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আ.লীগের তিন প্রার্থী পরাজয় বরণ করেন। এরমধ্যে বহুরিয়া ইউপিতে আ.লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন রেজাউল করিম বাবলু। ফলে অল্প কিছু ভোটের ব্যবধানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আ. সামাদের কাছে পরাজিত হন আ.লীগ প্রার্থী আবু সাঈদ মিয়া।


এছাড়া লতিফপুর ইউপিতে আ.লীগের দলীয় সিদ্ধান্ত উপক্ষো করে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন সৈয়দ আরিফ। যদিও ওই ইউপিতে নৌকা প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন জাকির হোসেন।


অপরদিকে ফতেপুর ইউপিতে ধানের শীষ না পেলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নৌকার প্রার্থী হুমায়ুন তালুকদারকে পরাজিত করে জয় লাভ করেন ওই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আব্দুর রউফ মিয়া। যদিও এরপর তিনি আ.লীগে যোগদান করেন। তারপর অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মাধ্যমে ওই ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এবার তিনি নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে আ.লীগে যোগদানের পর তার সভাপতি নির্বাচিত হওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছিলো। এবার তিনি নৌকা প্রতীক চাওয়ায় স্থানীয় আ.লীগ অঙ্গণে চাপা সমালোচনা হচ্ছে। ওই ইউনিয়ন ও উপজেলার একাধিক নেতাকর্মী বলেন, বিএনপি থেকে আ.লীগে যোগ দিয়েই কেউ যদি এতো কিছু পেয়ে যায় তবে দলের ত্যাগী, পরিশ্রমী নেতাকর্মীরা আওয়ামী রাজনীতি করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলবেন। আব্দুর রউফ মিয়া ২০১৩ সালে বিএনপির জালাও-পোড়াও আন্দোলনের মামলার অন্যতম আসামী।


এদিকে উপজেলার তরফপুর ইউপিতে নৌকার জন্য জোর চেষ্টা চালাচ্ছেন ইজ্জত আলী জনি। আ.লীগ অঙ্গণে যিনি অনেকটা বিতর্কিত হিসেবেই পরিচিত। সর্বশেষ চলতি বছরের ১৬ই জানুয়ারি টাঙ্গাইল-৭ (মির্জাপুর) আসনের উপ-নির্বাচনে দলীয় নেতাকর্মীদের মারধরের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার হন জনি। এছাড়াও তার ব্যবহৃত দলীয় পদবি নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। নিজেকে তিনি সদ্য সাবেক উপজেলা আ.লীগের সহ-দপ্তর সম্পাদক হিসেবে পরিচয় দিলেও উপজেলা আ.লীগ তার এই পদের কথা কখনোই স্বীকার করেনি এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা আ.লীগের সম্মেলনে তিনি ভোটার/কাউন্সিলর হতে পারেননি। সহোদর ভাইয়ের করা জমি দখল করার চেষ্টা মামলায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়ে জেলও খাটেন জনি।


প্রসঙ্গত, সর্বশেষ গত ০৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত আটটি ইউপি নির্বাচনে পাঁচটিতেই পরাজিত হয় আ.লীগের প্রার্থীরা। অযোগ্য ও বিতর্কিত প্রার্থীদের নৌকা প্রতীক দেয়ায় এই ভরাডুবি হয় বলে তৃণমূল আ.লীগ নেতাকর্মীদের দাবি। তাই এবারের অনুষ্ঠিত ছয় ইউপিতে ভেবে চিন্তে দলীয় মনোনয়ন না দিলে ভরাডুবির আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অনেকেই।


উপজেলা আ.লীগের সভাপতি মীর শরীফ মাহমুদ বলেন, ছয় ইউনিয়ন ২৭ প্রার্থী থাকলেও গত নির্বাচনে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করায় রেজাউল করিম বাবলু ও সৈয়দ আরিফ সিকদারের নাম বাদ রেখে ২৫ প্রত্যাশীর নাম জেলা আ.লীগের কাছে পাঠানো হয়েছে।


 



 

আরো পড়ুন