শিরোনাম :

  • আজ শুভ জন্মাষ্টমী আজ দেশের ১২ অঞ্চলে ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস আজ রাজধানীর যেসব এলাকায় গ্যাস থাকবে না বার্মিংহামে প্লাস্টিক ফ্যাক্টরিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড
রাজধানীতে জমেনি ঈদ কেনাকাটা, হতাশ দোকানিরা
নিজস্ব প্রতিবেদক :
২৯ জুলাই, ২০২০ ১৭:৫৪:৪১
প্রিন্টঅ-অ+


ঈদ উপলক্ষে রাজধানীর শপিংমল ও বিপণি বিতানগুলোতে ক্রেতাদের কমবেশি ভিড় রয়েছে। তবে অন্যান্য বছরের তুলনায় বিক্রি নেই বললেই চলে। বিভিন্ন পণ্যে নানা ধরনের ছাড় দিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না অনেকেই। আবার সন্ধ্য ৭টার মধ্যে দোকান বন্ধের নির্দেশকেও বেচাবিক্রির অন্তরায় হিসেবে দেখছেন দোকান মালিকরা। রাজধানীর কয়েকটি শপিংমল ঘুরে ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

রাজধানীর নিউমার্কেটের প্রতিটি দোকানেই ঈদের এই সময়ে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। তবে এবার ব্যতিক্রম। এই মার্কেটের প্যান্ট-শার্টের কাপড়ের দোকান নিউ ফ্যাশনের মালিক জুনায়েদ বলেন, প্রতিবছর এই সময়ে অনেক বেচাকেনা হয়। এবার তেমন ক্রেতা নেই। যাও দুয়েকজন আসছে, তাদের মধ্যেও কেনার সেরকম আগ্রহ নেই। পাশের ন‚রজাহান মার্কেটের প্যান্টের দোকানি রনি বলেন, অন্য বছরের তুলনায় বেচাকেনা অর্ধেকও নেই। বেশিরভাগ কাপড়ই এবার বিক্রি হবে না।

জানতে চাইলে নিউমার্কেট দোকান মালিক সমিতির ভাইস প্রেসিডেন্ট আশরাফ উদ্দিন বাবু বলেন, ‘এবার ঈদে কোনো বেচাকেনা নেই। মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতিও তেমন নেই। ব্যক্তিগতভাবে আমার দোকানে বিভিন্ন পণ্যে ছাড় দিয়েও ক্রেতা পাচ্ছি না।’

ফার্মগেটের সেজান পয়েন্ট শপিং মলের গেটআপ পয়েন্টের মালিক শরিফুল ইসলাম বলেন, এবার ক্রেতা নেই। একেবারেই সীমিত ক্রেতা রয়েছেন। কোনো বছরই এত কম ক্রেতা থাকে না। দোকান খুলে দেওয়ার পর থেকে এখনো এই অবস্থা। ভেবেছিলাম ঈদে কিছুটা বিক্রি বাড়বে। তবে ঢাকাতে মানুষই নেই। বিক্রিও নেই।

এদিকে, বসুন্ধরা শপিং মলে ক্রেতাদের লাইন ধরে ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা গেছে। বাইরে থেকে দেখলে মনে হবে ঈদের কেনাবেচা বেশ জমেছে। তবে এই মার্কেটের ভেতরেও বড় বড় ব্র্যান্ডের দোকান বাদে ছোট দোকানগুলোতে ক্রেতা নেই বললেই চলে। এমনই একটি কাপড়ের দোকান সুমাইয়া ফ্যাশন। দোকানের বিক্রয়কর্মী সাদিক বলেন, ‘অন্য বছর দোকানে পা ফেলার জায়গা থাকে না। এবার সেই অবস্থা নেই। করোনার কারণে ক্রেতারাও মার্কেটে খুব একটা আসছে না। অন্য বছরের তুলনায় এবার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশও বিক্রি নেই।’ জেন্টল পার্কও যেমন বিভিন্ন পণ্যে ২০ থেকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দিলেও তাদের আউটলেটে ক্রেতাদের তেমন ভিড় দেখা যায়নি।

তবে আড়ং, ইয়োলো, ক্যাটস আই, দর্জিবাড়ির মতো বড় বড় ব্র্যান্ডের দোকানগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। আড়ংয়ে কেনাকটা করতে এখনো আগে থেকে টোকেন নিতে হচ্ছে। ক্রেতাদের ভিড় রয়েছে ইয়োলোতেও। করোনার কারণে অবশ্য তারা পোশাকের ট্রায়াল বন্ধ রেখেছে। আর বেচাকেনার ক্ষেত্রে এসব আউটলেটে দম ফেলার ফুসরত নেই।

জানতে চাইলে আড়ংয়ের চিফ অপারেটিং অফিসার আশরাফুল আলম বলেন, এখনো করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। ফলে স্বাভাবিক সমেয়র মতো বেচাকেনা এখনও শুরু হয়নি। তবে আমাদের আউটলেটে এখন যারা আসছেন, তারা শুধু কেনাকাটাই করছেন। অন্যান্য বছরের ঈদের মতো এবার ভিড় নেই। ফলে স্বাভাবিকভাবে বিক্রিও কম রয়েছে।

মন্তব্য জানতে চাইলে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ঈদ উপলক্ষে কিছু বেচাকেনা হচ্ছে। তবে সার্বিকভাবে বেচাকেনা খুবই খারাপ। এখন সব দোকানপাট খোলা রয়েছে। কিন্তু সময় তো বাড়িয়ে দেয়নি। ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখা যাচ্ছে। মাগরিবের আজানও হয় ৭টায়। আমরা আবেদন করেছি, অনেক রিকোয়েস্ট করেছি, কিন্তু সময় বাড়িয়ে দেয়নি। এটি এখন আমাদের ম‚ল দাবি ছিল। সব মিলিয়ে দোকানিরা বেচাকেনা নিয়ে হতাশায় রয়েছেন।



আমার বার্তা/ ২৯ জুলাই,২০২০/এসএফসি


আরো পড়ুন