শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
ঘুম ভাঙে হাবিবের মৃত্যুর খবরে
বশির হোসেন খান
২০ জানুয়ারি, ২০২২ ১৮:২২:২৩
প্রিন্টঅ-অ+


ঘড়ির কাটায় সকাল ৬টা। হঠাৎ ফোন বেজে উঠল। ফোন রিসিভ করতেই এক সহকর্মী সাংাদিকের কান্নার শব্দ। শুধু বলছে হাবীব আর নেই। তখন নিজেকে প্রশ্ন করলাম কি শুনলাম। সঙ্গে সঙ্গে ফোনের ডাকা কানেকশন অন করতেই একাধিক মেসেজ আসল সংবাদ বিনিময়ের গ্রæপগুলোয়।



খুলে দেখলাম রাজধানীর হাতিরঝিলের সড়ক দুর্ঘটনায় সময়ের আলোর সাংবাদিক হাবীব রহমানের মৃত্যুর সংবাদ। মনে একটাই প্রশ্ন জাগলো, পৃথিবী এত নিষ্ঠুর কেন? অত্যন্ত বিনয়ী, ভদ্র হাবীবকেও কেড়ে নিল! হাবীব ভাইর সঙ্গে আর দেখা হবে, হাসিমাখা মুখখানা আর দেখতে পারবো না, বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। এ কথা ভেবে নিজেকে ঠিক রাখতে কষ্ট হচ্ছিল। হাবীবের সন্তানের মত আমারও তো আড়াই বছরের একটা ছেলে রয়েছে। সৃষ্টিকর্তার ডাকে সাড়া দিয়ে আমি যদি হঠাৎ করে চলে যাই, কি হবে আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ? এটা ভেবে হাবীবের অবুঝ শিশুর জন্য চোখে পানি এসে গেল। আজ অসহায় হয়ে গেলো হাবীবের পরিবার। আড়াই বছরের শিশু পুত্র হারালো বাবাকে।



আর স্ত্রী হারালো প্রিয় স্বামীকে। গত মঙ্গলবার রাতে ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিটিতে দেখা হয়েছিল তার সঙ্গে, একসঙ্গে আড্ডা দেই কিছু সময়। দেখা হলেই জিজ্ঞেস করতেন, ‘বাবু এক্স ওয়ায় জেট কেমন আছ?’ এই নামে আমার একটা ই-মেইল আইডি ছিলো। এ কারণে ওই নামে ডাকতেন। নিয়মিত যোগাযোগ না হলেও মাঝে মধ্যে আওয়ামী লীগ বিটের নিউজ দরকার হলে তার কাছে চাইতাম। তিনি সঙ্গে সঙ্গেই দিতেন। বিশেষ নিউজের ক্ষেত্রে নানা সময় তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন হাবীব। সাংবাদিকদের যে কোন বিপদে পাশে দাড়াতেন। বিপদে আপদে যখনই ফোন দিতাম পাশে পেতাম এই মানুষটিকে। মনে পড়ে, ২০২০ সালে করোনা পরিস্থিতিরর মধ্যে রাত ২টার পর ধানমÐি থানায় একটি সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে ভুল বোঝাবুঝি থেকে ওসি’র সঙ্গে বাকবিতÐা হয়। ঘটনা সংবাদিক সুশান্তকে জানালে সে হাবীবকে শেয়ার করে। সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিয়ে আমার লোকেশন জানতে চায়।



কয়েক মিনিটের মধ্যেই ধানমÐি থানায় হাজির হয়ে বিষয়টির সুরাহা করে দেন। ওই সময় তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। কি বলবো তাকে নিয়ে, কান্নায়-কষ্টে বুক ফেটে যাচ্ছে। আমার সাথে দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক। কত স্মৃতি কত কিছু চোখের সামনে ভাসছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় জীবন থেমে গেলো সদা হাস্যোজ্জ্বল টগবগে হাবীবের। বয়সে তরুণ হলেও পরম মমতায়-ভালোবাসায় সকল সংবাদকর্মীদের আগলে রাখতেন। অন্তঃপ্রাণ সদা হাস্যোজ্জ্বল এই খবরপাগল মানুষটির অভাব প্রতিনিয়তই অনুভব করবে তার সহযোদ্ধারা।

গতকাল বুধবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে হাবীবের নিথর দেহ পরে ছিল। আর মর্গের বাইরে বসে ছিল তার স্ত্রীর ও একমাত্র ছেলে। অবুঝ শিশু জানে না যে তার বাবা আর কোন দিন ফিরে আসবে না। কোলে তুলে আদর করবে না। স্ত্রীকে দেখলাম বাকরুদ্ধ হয়ে বসে আছেন। যেন মাথার ওপর বাঁজ পড়েছে। চোখ গড়িয়ে শুধু পানি পড়ছে। কথা বলার মত ভাষা হয়তো হারিয়ে ফেলেছেন।

পরিবারের সদস্য ছাড়াও বহু মানুষ কাঁদছে হাবীরের জন্য। মানুষটা এমনই ছিলেন, যার সঙ্গে একবার পরিচয় হলে মনে রাখতে হবে। যেমন পরোপকারী, তেমন মিষ্টভাষী। তার স্ত্রী, বাবা-মা কিভাবে এই শোক সামলে উঠবে জানি না। তবে দোয়া করি তার পরিবারের জন্য, মহান আল্লাহর কারছে প্রার্থনা করে পরপারে যেন হাবীব জান্নাতবাসী হয়।


আরো পড়ুন