শিরোনাম :

  • জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত ২দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২ আইসিসির সেরা হওয়ার দৌড়ে বাংলাদেশের নাসুম
সালিশে করতে গিয়ে কিশোরীকে বিয়ে, চেয়ারম্যানের কাণ্ড গড়িয়েছে হাইকোর্ট অব্দি
২৭ জুন, ২০২১ ২১:২২:১৪
প্রিন্টঅ-অ+


পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় প্রেমের টানে বাড়ি ছাড়ে ১৪ বছরের কিশোরীর।  বিষয়টি নিয়ে ডাকা হয় সালিশ। সালিশ কেন্দ্রে কিশোরীকে পছন্দ হওয়ায় তাকে বিয়ে করে ফেলেন স্থানীয় কনকদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহীন হাওলাদার (৬০)। এ ঘটনায় এবার  তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।

পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক, জেলা নিবন্ধক ও পিবিআইকে বিষয়টি তদন্ত করে পৃথক প্রতিবেদন আগামী ৩০ দিনের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কাছে দাখিল করতে বলা হয়েছে।

রোববার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি এসএম মনিরুজ্জামানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ জারি করেন। রুলে ক্ষমতার অপব্যবহার করায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। এছাড়া আরেক আদেশে ওই কিশোরীকে নিরাপত্তা দিতে এসপিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সালিশে কিশোরী বিয়ে নিয়ে শনিবার দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এরমধ্যে একটি প্রতিবেদন আদালতের নজরে আনেন সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করিম ও ইকরামুল হক টুটুল। পরে আদালত আদেশের পাশাপাশি এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির জন্য আগামী ৮ আগস্ট দিন ধার্য করেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সুত্রে জানা যায়, কনকদিয়া ইউনিয়নের নজরুল ইসলামের মেয়ের সঙ্গে একই ইউনিয়নের নারায়ণপাশা গ্রামের রমজান নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাতে তারা দুজন পালিয়ে যান। বিষয়টি কিশোরীর বাবা কনকদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদারকে জানান। পরে চেয়ারম্যান শাহিন হাওলাদার আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে শুক্রবার কনকদিয়া ইউপি কার্যালয়ে ছেলে ও মেয়ের পরিবারকে যেতে বলেন। সে অনুযায়ী শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে দুই পরিবারের সদস্যরা ইউপি কার্যালয়ে যান। সেখানে কিশোরী মেয়েটিকে দেখে পছন্দ হয়ে যায় চেয়ারম্যানের। তিনি মেয়েটিকে বিয়ে করার আগ্রহ দেখান এবং দুপুরেই বিয়ে করে ফেলেন।

এদিকে বিয়ের পর তা জানাজানি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। ঘটনাটি ভাইরাল হয়ে যায় মুহূর্তেই। এ কারণে পরদিন শনিবার ওই একই কাজীর মাধ্যমেই তাদের তালাক সম্পন্ন হয়। বর্তমানে মেয়েটি তার প্রেমিকের ঘরে। রোববার আবার তাদের মধ্যে বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।


আরো পড়ুন