
কোন দেশ সফর করা হবে সিদ্ধান্ত নেবে বাংলাদেশ, অন্য কেউ নয় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। শনিবার (২০ জুন) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের সঙ্গে তিনি এ মন্তব্য করেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থে আমাদের যখন যেখানে যাওয়া প্রয়োজন সেখানেই যাব। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্রে যাব, প্রয়োজনে চীনেও যাব। ভারতের সঙ্গে পরিবেশ অনুকূল হলে ভারতেও যাব। আমরা কোথায় যাব, সেটা অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। আমাদের কাউকে খুশি করার জন্য নাচতে হবে না।
এই মুহূর্তে বাংলাদেশ সব বড় অংশীদার দেশের সঙ্গে সবচেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন, বেইজিং, ইউরোপ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া—সব ক্ষেত্রেই আমরা ভারসাম্য রেখে এগোচ্ছি। এটি সম্ভব হয়েছে কারণ আমরা দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে জনগণের বিশাল ম্যান্ডেট নিয়ে ক্ষমতায় এসেছি। ফলে আমরা এখন শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারি, দর-কষাকষি করতে পারি। গত পনেরো বছরে কোনো সরকার তা পারেনি, কারণ জনগণের আস্থা ও বৈধতা তাদের ছিল না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন ও মালয়েশিয়া সফর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর অবশ্যই ভালো হবে। চীন আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার। আর মালয়েশিয়া হচ্ছে মুসলিম বিশ্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ হিসেবে মালয়েশিয়া সফরেরও তাৎপর্য রয়েছে। সেখানে আমাদের বেশ কিছু কৌশলগত স্বার্থ জড়িত আছে। আমরা আসিয়ানের সদস্যপদের জন্য আবেদন করছি। ভবিষ্যতে ‘কম্প্রিহেনসিভ অ্যান্ড প্রগ্রেসিভ অ্যাগ্রিমেন্ট ফর ট্রান্স-প্যাসিফিক পার্টনারশিপ’ বা সিপিটিপিপি বাজারেও প্রবেশের চেষ্টা করব। এসব বিষয়ও আলোচনায় থাকবে।
হুমায়ুন কবির বলেন, আমরা এখন বৈশ্বিক অঙ্গনে একটি সক্রিয় পক্ষ—যে নরম শক্তি, কূটনীতি এবং অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততার মাধ্যমে নিজের অবস্থানকে প্রভাবশালী করে তুলতে চায়। আমরা সব অংশীজনের সঙ্গে অর্থবহভাবে যুক্ত হব, কিন্তু সবার আগে অগ্রাধিকার পাবে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ।
প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধি দলের সদস্য সংখ্যা ২৭ জন, আর চীন সফরে ২৮ জন। সফরসঙ্গী প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে দিয়েছেন— যাদের মালয়েশিয়ায় প্রয়োজন, তারা মালয়েশিয়া যাবেন; যাদের চীনে প্রয়োজন, তারা চীন যাবেন। শুধু বিমানভর্তি লোক নিয়ে সফররের সেই সময় শেষ। এখন প্রতিটি পয়সা খরচ হবে জনগণের স্বার্থে, বিচক্ষণতার সঙ্গে।
আমার বার্তা/এমই

