শিরোনাম :

  • নয়াপল্টনে বিএনপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ জবানবন্দিতে বুলুসহ ১৫ বিএনপি নেতার নাম পেয়েছে পুলিশ সেনা অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল সুদান, সংঘর্ষে নিহত ৭দুই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, নিহত ২
দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭৩নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর জিয়ার ক্যাসিনো বাণিজ্য
বশির হোসেন খান
০৪ এপ্রিল, ২০২২ ২৩:০৩:৪৯
প্রিন্টঅ-অ+

দেশজুড়ে আলোচিত ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের পর দীর্ঘদিন ধরেই এ নিয়ে তেমন শোরগোল নেই। তবে রাজধানীতে ফের মাথাচাড়া দিয়েছে ক্যাসিনোতে জড়িত প্রভাবশালীরা। সূত্র নিশ্চিত করেছে, আফতাব নগরে জনৈক আলম মেম্বারের অফিসে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর মিনি ক্যাসিনো বসাচ্ছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৭৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া। তার নেতৃত্বে রাতভর চলে ক্যাসিনোসহ জম-জমাট জুয়ার আসর। স¤প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে জিয়ার ক্যাসিনো খেলার নানা চিত্র।  ফেজবুকে জিয়ার ক্যাসিনো খেলার ছবি ভাইরাল হয়। ছবিতে দেখা যায় সে নিজেই আরো কয়েক জনের সঙ্গে খেলছে জুয়া। হাতে তাস চেয়ারে বসে খেলছেন। 


কাউন্সিলর জিয়া সব সময় বলে বেড়ান আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে এসে আমার সব সম্পত্তি হারিয়েছি। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। রাজনীতির আড়ালে খুলে বসেছেন ক্যাসিনো বাণিজ্য। রামপুরা ও বাড্ডা থানা পুলিশের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে চলছে তার জমজমাট জুয়া ব্যবসা।


অভিযোগ সূত্র বলছে, প্রতিরাতে ১০ লাখ টাকার বেশি জুয়া খেলা চলে তার আসরে। ওই জুয়ার আসরে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের অধিকাংশই নি¤œ আয়ের মানুষ। জুয়ার আসক্তিতে যাদের অনেকেই হারিয়েছেন সহায়-সম্বল। ক্যাসিনোতে জনপ্রতি সর্বনি¤œ ১০০ টাকা থেকে এক হাজার টাকা পর্যন্ত খেলেন। রাত যত গভীর হয় জুয়ার আসর তত জমে উঠে। গত দুই বছর ধরেই কাউন্সিলর জিয়ার ছত্রছায়ায় চলছে এই মিনি ক্যাসিনো। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা উঠতি বয়সী যুবক থেকে শুরু করে মধ্যবয়সী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যোগ দেন জুয়ার আড্ডায়। ভয়ঙ্কর বিষয় হলো জুয়ায় আড্ডায় স্কুল পড়ুয়া কিশোররাও যায়। আবার জুয়া খেলার পাশাপাশি চলে রাতভর মাদকসেবন।


অভিযোগ পাওয়া গেছে, জুয়াড়িদের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে হয়রানীর শিকার হতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। প্রতিবাদ করেও মিলছে না কোনো প্রতিকার। তবে প্রশাসন বলছে জুয়া ও মাদক নিরাময়ে নিয়মিত টহল দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাসিরাবাদ ইউনিয়ন, নন্দীপাড়া, দক্ষিণগাঁও, শেখের জায়গা, মোল্লাবাড়ি ব্রিজ, ওয়াদা রোড, ধার্মিকপাড়া, শাহিবাজার, মধ্যমানিকদাসহ পুরো এলাকা জুড়ে প্রকাশ্যেই চলে জুয়ার আসর এবং লুডুর মাধ্যমে ও ক্রিকেট নিয়েও জুয়া খেলা হয়। ঘর-বাড়ি ছাড়াও হাওরে জমে জুয়ার আড্ডা। এদিকে, অনেকে ওই এলাকাকে জুয়া ও মাদকের অভয়ারণ্য বলে থাকে।


জুয়াড়িদের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। কিন্তু কাউকে কিছু বললেই সবাই কাউন্সিলর জিয়ার দোহাই দেয়। আর ওইসব জুয়াড় আসরে জিয়ার ঘনিষ্ঠ লোকজনকেই দেখা যায়।


এ ব্যাপারে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন মেয়র শেখ ফজলে নুর তাপস ও ঢাকা-৯ আসনের সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরীর কাছে এলাকাবাসীর দাবি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে কাউন্সিলর জিয়ার বিরুদ্ধে নেওয়ার।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শেখের জায়গা এলাকার এক বাসীন্দা বলেন, কাউন্সিলর জিয়া ভাত খেতে পারতো না। সে এখন দাবি গাড়িতে চলে। তার লোকজন এলাকার বিভিন্ন স্থানে জুয়ার আসর বসায়। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের উপর নির্যাতন শুরু করে। এই জন্য নির্যাতনের ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না।      


এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে কাউন্সিলর জিয়াউল হক জিয়া বলেন, আমি কোনো ক্যাসিনো বা জুয়ার সঙ্গে জড়িত না। কেউ আমার নাম ভাঙালে প্রমাণ সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনার  হাতে তাস যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি কিছু না বলে ফোন লাইন কেটে দেন। 


এ ব্যাপারে সবুজবাগ থানার অফিসার ইনচাজ (ওসি) মুরাদুল ইসলাম বলেন আমার কাছে এই ধরনের অভিযোগ নাই। কোনো অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নিবো। যেখানে কোনো অভিযোগ পাই না। সেখানে কোনো মন্তব্য করতে পারবো না।  


 

আরো পড়ুন